অপরিচিতা- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

অপরিচিতা- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর


নাম প্রকৃত নাম : রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।
ছদ্মনাম : ভানুসিংহ।

জন্মপরিচয় জন্মতারিখ : ৭ মে, ১৮৬১ খ্রিস্টাব্দ (২৫ বৈশাখ, ১২৬৮ বঙ্গাব্দ)।
জন্মস্থান : জোড়াসাঁকো, কলকাতা, ভারত।বংশ পরিচয় পিতার নাম : মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর।
মাতার নাম : সারদা দেবী।
পিতামহের নাম : প্রিন্স দ্বারকানাথ ঠাকুর।
শিক্ষাজীবন রবীন্দ্রনাথ বাল্যকালে ওরিয়েন্টাল সেমিনারি, নর্মাল স্কুল, বেঙ্গল একাডেমী, সেন্ট জেভিয়ার্স স্কুল প্রভৃতি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অধ্যয়ন করলেও স্কুলের পাঠ শেষ করতে পারেন নি। ১৭ বছর বয়সে ব্যারিস্টারি পড়তে ইংল্যান্ড গেলেও কোর্স সম্পন্ন করা সম্ভব হয়নি। তবে গৃহশিক্ষকের কাছ থেকে জ্ঞানার্জনের কোন ত্র“টি হয়নি।
পেশা /কর্মজীবন ১৮৮৪ খ্রিস্টাব্দ থেকে রবীন্দ্রনাথ তার পিতার আদেশে বিষয়কর্মে পরিদর্শনে নিযুক্ত হন এবং ১৮৯০ খ্রিস্টাব্দ থেকে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে জমিদারি দেখাশুনা করেন। এ সূত্রে তিনি কুষ্টিয়ার শিলাইদহ ও সিরাজগঞ্জের শাহাজাদপুরে দীর্ঘ সময় অবস্থান করেন।


সাহিত্যকর্ম কাব্য : মানসী, সোনার তরী, চিত্রা, চৈতালি, ক্ষণিকা, নৈবেদ্য, গীতাঞ্জলি, বলাকা, পূরবী, পুনশ্চ, বিচিত্রা, সেঁজুতি, জন্মদিনে, শেষলেখা প্রভৃতি বিশেষভাবে উলে­খযোগ্য।
উপন্যাস : গোরা, ঘরে-বাইরে, চতুরঙ্গ, চোখের বালি, নৌকাডুবি, যোগাযোগ, রাজর্ষি, শেষের কবিতা প্রভৃতি।
কাব্যনাট্য : কাহিনী, চিত্রাঙ্গদা, বসন্ত, বিদায় অভিশাপ, বিসর্জন, রাজা ও রাণী প্রভৃতি।
নাটক : অচলায়তন, চিরকুমার সভা, ডাকঘর, মুকুট, মুক্তির উপায়, রক্তকরবী, রাজা প্রভৃতি।
গল্পগ্রন্থ : গল্পগুচ্ছ, গল্পসল্প, তিনসঙ্গী, লিপিকা, সে, কৈশোরক প্রভৃতি।
ভ্রমণকাহিনী : জাপানযাত্রী, পথের সঞ্চয়, পারস্য, রাশিয়ার চিঠি, য়ুরোপ যাত্রীর ডায়েরী, য়ুরোপ প্রবাসীর পত্র প্রভৃতি।
জীবন চরিত : আমার ছেলেবেলা, জীবনস্মৃতি, বিদ্যাসাগর চরিত, বুদ্ধদেব।


পুরস্কার/সম্মাননা নোবেল পুরস্কার (১৯১৩), কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃক ডি-লিট(১৯১৩), অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃক ডি-লিট (১৯৪০), ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃক ডি-লিট(১৯৩৬)।
জীবনাবসান মৃত্যু তারিখ : ৭ আগস্ট, ১৯৪১ খ্রিস্টাব্দ। (২২ শ্রাবণ ও ১৩৪৮ বঙ্গাব্দ)।

নং বিষয় লেখক
আমার পথ কাজী নজরুল ইসলাম
বিড়াল বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
চাষার দুক্ষু বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত
সাম্যবাদী কাজী নজরুল ইসলাম
ঐকতান রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
বিভীষণের প্রতি মেঘনাদ মাইকেল মধূসুদন দত্ত
বায়ান্নর দিনগুলো শেখ মুজিবুর রহমান

রবীন্দ্রনাথের প্রথম রচনাসমূহ:
প্রথম মনস্তাত্তিক উপন্যাস: চোখের বালি
প্রথম প্রকাশিত কবিতা: হিন্দু মেলার উপহার
প্রথম প্রকাশিত গল্প: ভিখারিণী
প্রথম প্রকাশিত কাব্য: বনফুল
প্রথম প্রকাশিত নাটক: বাল্মীকি প্রতিভা
প্রথম প্রকাশিত প্রবন্ধগ্রন্থ: বিবিধ প্রসঙ্গ
প্রথম প্রকাশিত উপন্যাস: বৌ ঠাকুরানীর হাট
প্রথম প্রকাশিত পত্রিকা: সাধনা


রবীন্দ্রনাথের রচনাসমূহ মনে রাখার উপায়:

কাব্যগ্রন্থ : রুদ্র তার প্রিয় বান্ধবী চিত্রা ও মানসীর কথা কল্পনা করে ক্ষনিকার জন্মদিনে চৈতালীর সঙ্গে নিয়ে সোনার তরীতে করে পুনশ্চ বলাকায় এসে শেষ লেখা নামক চমৎকার মুভিটি দেখল।
উপন্যাস : রুদ্র চতুরঙ্গ ঘোড়ায় (গোরা) চড়ে ঘরে বাহিরে গিয়ে মালঞ্চের সামনে তার চোখের বালিকে হত্যা করে চার অধ্যায়ের শেষের কবিতা রচনা করল। বৌ ঠাকুরাণীর হাট থেকে এই রচনা কিনতে গিয়ে যোগাযোগের পথে করুণা নামের সুন্দর রমণী মারা গেল।


নাটক : রক্তকরবীর রাজা ডাকঘরের চিত্রাঙ্গদার নিকট নয়নে চিরকুমার সভা বিসর্জনের নির্দেশ দিল।
প্রবন্ধ : স্বদেশের আধুনিক সাহিত্যের পাশাপাশি প্রাচীণ ও লোক সাহিত্য বিচিত্র প্রবন্ধে সমৃদ্ধ করেছে। ফলে কালান্তরে সভ্যতার সংকট থেকে পঞ্চভূতও দূর হবে।
চিত্রনাট্য : শ্যামা মালিনী চিত্রনাট্য তৈরির জন্য চিত্রাঙ্গদা এবং চন্ডালিকাকে বেছে নিল।
ভ্রমণ কাহিনী : জাপানের যাত্রীরা রাশিয়ার চিঠি পড়ে ইউরোপ সম্পর্কে জানতে পারল।


লেখক সম্পর্কে অতিরিক্ত কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য :
 জন্ম মৃত্যু স্থান-কলকাতার জোড়াসাঁকুর পরিবারে ও ঠাকুর বাড়িতে
 রবীন্দ্রনাথ মাতা পিতার চতুর্দশ সন্তান ও অষ্টম পুত্র
 তিনি কবিতা রচনা করতে আরম্ভ করেন-আট বছর বয়সে
 তার প্রথম কবিতার নাম ছিল-হিন্দুমেলার উৎসব
 রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রথম প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থের নাম-কবিকাহিনী (প্রকাশকাল ১৮৭৮)
 রবীন্দ্রনাথের প্রথম প্রকাশিত নাটকের নাম-বাল্মীকি প্রতিভা (প্রকাশকাল-১৮৮১) বরীন্দ্রনাথের রুন্দ্রচন্দ্র নাটক নয় । এতে সামান্য নাটকীয়তা আছে মাত্র । রুদ্রচন্দ্র প্রকাশিত হয় ১৮৮১ সালে
 বাংলা সাহিত্যের প্রথম স্বার্থক ছোটগল্প রচয়িতা এবং বাংলা ছোটগল্পের শ্রেষ্ঠ শিল্পী
 ১২৮৪ বঙ্গাব্দে মাত্র ষোল বছল বয়সে ‘ভিখারিনী’ গল্প রচনার মাধ্যমে ছোটগল্প হিসাবে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের আত্মপ্রকাশ ঘটে।
 রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত সর্বশেষ গল্পটির নাম-মুসলমানীর গল্প
 কুষ্টিয়ার শিলাইদহে বসবাসের কালই রবীন্দ্রনাথের ছোটগল্প রচনা স্বর্ণযুগ।
 রবীন্দ্রনাথকে বলা হয় বাংলা ছোটগল্পের জনক
 প্রথম জীবনে রবীন্দ্রনাথের সর্বাপেক্ষা উলে­খযোগ্য কবিতা ‘নির্ঝরের স্বপ্ন ভঙ্গ।
 কবি শান্তিনিকেতনে ব্রহ্মচর্যাশ্রম নামে একটি আবাসিক বিদ্যালয় স্থাপন করেন।
 গীতাঞ্জলির অনুবাদ Song offering নামে প্রকাশিত হয়-১৯১২ সালে
Song offering এর ভূমিকা লেখেন ইংরেজী কবি W B Yeats.
 বরীন্দ্রনাথ এ কাব্যের জন্য নোবেল পুরস্কার পান-১৯১৩ সালের নভেম্বর মাসে
 শান্তিনিকেতন থেকে রবীন্দ্রনাথের নোবেল পুরস্কার চুরি হয়ে যায় ২৪ মার্চ ২০০৪ দিবাগত রাতে
 ব্রিটিশ সরকার তাকে নাইটহুড বা স্যার উপাধি প্রদান করেন ১৯১৫ সালের ১৩ রা জুন
 তিনি পাঞ্জাবের জালিয়ানওয়ালাবাগ হত্যাকান্ডের প্রতিবাদে স্যার উপাধি বর্জন করেন।
 রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের মৃত্যুর পর প্রকাশিত শেষ কাব্যগ্রন্থ-শেষলেখা (১৯৪১)
 ভ্রাতৃস্পুত্রী ইন্দিরা দেবীকে লেখা চিঠির সমাহার- ছিন্নপত্র (প্রকাশ ১৯১২)
 শ্রেষ্ঠ কাব্যসংকলন-সঞ্চয়িতা


উৎস:
‘অপরিচিতা’ প্রথম প্রকাশিত হয় প্রমথ চৌধুরী সম্পাদিত মাসিক ‘সবুজপত্র’ পত্রিকার (১৩২১) বঙ্গাব্দের (১৯১৪) কার্তিক সংখ্যায়। এটি প্রথম গ্রন্থভূক্ত হয় রবীন্দ্রনাথ গল্পের সংকলন ‘গল্পসপ্তক’ এ এবং পরে, ‘গল্পগুচ্ছ’ তৃতীয় খণ্ডে (১৯২৭)


মর্মবাণী/মূলবাণী/উপজীব্য বিষয়:

যৌতুক প্রথার বিরুদ্ধে সম্মিলিত প্রতিরোধ


শব্দার্থ ও টীকা:
ফলের মতো গুটি – গুটি একসময় পূর্ণ ফলে পরিণত হয়।
মাকাল ফল – দেখতে সুন্দর অথচ ভেতরে দুর্গন্ধ ও শাঁসযুক্ত খাওয়ার অনুপযোগী ফল।
অন্নপ–র্ণা – অন্নে পরিপূর্ণা। দেবী দূর্গা।
গজানন – গজ আনন যার। গণেশ।
ফল্গু – ভারতের গয়া অঞ্চলের অন্তঃসলিলা নদী।
গন্ডষ – একমুখ বা এককোষ জল।
অন্তঃপুর – অন্দরমহল। ভেতরবাড়ি।
স্বয়ংবরা – যে মেয়ে নিজেই স্বামী নির্বাচন করে।
গুড়গুড়ি – আলবোলা।
বাঁধা হুঁকা – সাধারণ মানুষের ব্যবহার্য নারকেল-খোলে তৈরি ধূমপানের যন্ত্রবিশেষ।
মরুভূমি এক – আনন্দহীন প্রচুর অবসর বোঝানো হয়েছে।
মঙ্গলঘাট ভরা ছিল – লক্ষী ধন ও ঐশ্বর্যের দেবী।
পশ্চিমে – এখানে ভারতের পশ্চিম অঞ্চলকে বোঝানো হয়েছে।
আন্ডামান দ্বীপ – ভারতীয় সীমানাভুক্ত বঙ্গোপসাগরের দ্বীপবিশেষ।
কোন্নগর – কলকাতার নিকটস্থ একটি স্থান।
মনু – বিধানকর্তা বা শাস্ত্রপ্রণেতা মুনিবিশেষ।
মনু সংহিতা – মনু-প্রণীত মানুষের আচরণবিধি সংক্রান্ত গ্রন্থ।
প্রজাপতি – জীবের স্রষ্টা। ব্রহ্মা।
পঞ্চশর – মদনদেবের ব্যবহার্য পাঁচ ধরনের বাণ।
কন্সর্ট – নানা রকম বাদ্যযন্ত্রের ঐকতান।
অভিষিক্ত – অভিষেক করা হয়েছে এমন।
সওগাদ – উপঢৌকন। ভেট।
লোক-বিদায় – পাওনা পরিশোধ।
দেওয়া-থোওয়া – বিয়ের যৌতুক ও আনুষঙ্গিক খরচ বোঝাতে কথাটি বলা হয়েছে।
কষ্টিপাথর – যে পাথরে ঘষে সোনার খাঁটিত্বে যাচাই পরীক্ষা করা হয়।
মকরমুখো – মকর বা কুমিরের মুখের অনুরূপ।
একখানা বালা – মকরের মুখাকৃতিযুক্ত হাতে পরিধেয় অলঙ্কারবিশেষ।
এয়ারিং – কানের দুল।
দক্ষযজ্ঞ – প্রজাপতি দক্ষ কর্তৃক অনুষ্ঠিত যজ্ঞ।
রসনচৌকি – সানাই, ঢোল ও কাঁসি- এই তিন বাদ্যযন্ত্রে সৃষ্ট ঐকতানবাদন।
অভ্র – এক ধরনের খনিজ ধাতু।
অভ্রের ঝাড় – অভ্রের তৈরি ঝাড়বাতি।
মহানির্বাণ – সবরকমের বন্ধন থেকে মুক্তি।
কলি – পুরাণে বর্ণিত শেষ যুগ। কলিযুগ।
কলি যে চারপোয়া
হইয়া আসিল! – কলিকাল পরিপূর্ণরূপে আত্মপ্রকাশ করল।
পাকযন্ত্র – পাকস্থলী।
প্রদোষ – সন্ধ্যা।
একচক্ষু লন্ঠন – একদিন খোলা তিন দিক ঢাকা বিশেষ ধরনের লন্ঠন।
মৃদঙ্গ – মাটির খোলের দুপাশে চামড়া লাগানো এক ধরনের বাদ্যযন্ত্র।
দিতে চলিল’ – চলন্ত রেলগাড়ির অবিরাম ধাতব ধ্বনি বোঝানো হয়েছে।
ধুয়া – গানের যে অংশ দোহাররা বারবার পরিবেশন করে।
জড়িমা – আড়ষ্টতা। জড়ত্ব।
মঞ্জরী – কিশলয়যুক্ত কচি ডাল মুকুল।
একপত্তন – একপ্রস্থ।
কানপুর – ভারতের একটি শহর।


চরিত্র:
অনুপম, মামা, কল্যাণী, বিনুদাদা, মা, হরিশ, শম্ভুনাথ, উকিল বন্ধু, সেকরা, রেলওয়ে কর্মচারী, কল্যাণীর ছোট ছোট বোন, বরযাত্রী।


অপরিচিতা গল্পে যা যা উলে­খ আছে :

ফুল: শিমুল, বকুল, রজনীগন্ধা
ফল: মাকাল
দেবীর নাম: অন্নপূর্ণা, প্রজাপতি, পঞ্চশর, সবস্বতী
মাদকদ্রব্য: তামাক
জীবজন্তু : হস্তী, সাপ, ভ্রমর, রাজহংস
রং: কালো, লাল, সবুজ
নদী: ফল্গু
ঋতু : বসন্ত
যানবাহন : রেলগাড়ি
স্থান : বাংলাদেশ, কানপুর, কলকাতা, আন্ডামান দ্বীপ, হাবড়ার পুল, কেন্নাগর
আররও উলে­খ আছে:মরুভূমি, মরীচিকা, আদম-শুমারি, ঝর্ণা, ব্যান্ড, বাঁশি, শখের কন্সার্ট।


গুরুত্বপূর্ণ সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর (জ্ঞানমূলক):
১. ‘এ জীবনটা না দৈর্ঘ্যরে হিসাবে বড়, না গুণের হিসাবে’- বলতে বোঝানো হয়েছে – আত্মসমালোচনা।
২. ‘অপরিচিতা’ গল্পটি বর্ণিত হয়েছেÑউত্তম পুরুষের জবানিতে।
৩. নিজের নিস্ফল জীবনকে বোঝাতে অনুপম ব্যবহার করেছে  ফলের মতো গুটি’ উপমাটি।
৪. পণ্ডিতমশায় বিদ্রুপ করার জন্য অনুপমের চেহারার তুলনা করতেনÑশিমুল ফুল ও মাকাল ফলের সাথে।
৫. ‘মাকাল ফল’ অর্থদুর্গন্ধ ও শাঁসযুক্ত খাওয়ার অনুপযোগী ফল।
৬. অনুপমের পিতা প্রচুর টাকা রোজগার করেছিল ওকালতি করে।
৭. অনুপমের পিতা চাকরি থেকে প্রথম অবকাশ নেন মৃত্যুর সময়।
৮. অনুপম মানুষ হয়েছে মার হাতে।
৯. অন্নপূর্ণা হচ্ছে দেবী দুর্গা।
১০. গজানন হচ্ছে গণেশ (গজ অর্থাৎ হাতির মত আনন যার)।
১১. দেবী দূর্গার ছেলে -২ জন (বড় পুত্র গণেশ ছোট পুত্র কার্তিক)।
১২. অনুপমের আসল অভিভাবকÑতার মামা।
১৩. অনুপমের মামা অনুপমের চেয়ে বয়সে ৬ বছরের বড়।
১৪. ফল্গু হচ্ছে – ভারতের গয়া অঞ্চলে অবস্থিত একটি নদীর নাম।
১৫. ফল্গু নদীর বৈশিষ্ট্য হচ্ছে ওপরের অংশে বালির আস্তরণ কিন্তু ভেতরে জলস্রোত প্রবাহিত হয়।
১৬. যে নারী নিজেই স্বামী নির্বাচন করে তাকে বলে – স্বয়ংবরা।
১৭. অনুপমের মামার অস্থিমজ্জায় জড়িত ছিল – টাকার প্রতি আসক্তি।
১৮. পৃথিবীতে অনুপমের ভাগ্যদেবতার প্রধান এজেন্ট ছিল -তারা মামা।
১৯. অনুপমের বন্ধুর নাম – হরিশ (মানুষ হিসেবে রসিক ছিল)।
২০. হরিশ কাজ করত – কানপুরে।
২১. অনুপমের হৃদয়ের গোপন কথা প্রকাশ পেয়েছে – তরুমর্মরে।
২২. হরিশনের কথা শুনে অনুপমের শরীর মনÑবসন্ত বাতাসে বকুল বনের নব পল­বরাশির মতো কাঁপিতে কাঁপিতে আলোছায়া বনিতে লাগিল।
২৩. ‘অপরিচিতা’ গল্পে বকুলবনের নবপল­বরাশি’ দ্বারা বোঝানো হয়েছে অনুপমের মনের অবস্থা।
২৪. শম্ভুনাথ বাবু পেশায় একজন ডাক্তার।
২৫. শম্ভুনাথ বাবুর বন্ধু পেশায় ছিলেন উকিল।
২৬. শম্ভুনাথ বাবু পশ্চিমে গিয়া বাস করিতেছেন -বংশ মর্যাদা রক্ষার্থে।
২৭. ‘অপরিচিতা’ গল্পে ‘পশ্চিমে’ বলতে বোঝানো হয়েছে ভারতের পশ্চিম অঞ্চলকে।
২৮. লক্ষীর ঘটটি একেবারে উপুড় করিয়া দিতে দ্বিধা হইবে না কোথাও শম্ভুনাথের কারণ কল্যাণী তার একমাত্র মেয়ে (অনুপমের মামার চিন্তা এটা)।
২৯. বিয়ের ভূমিকা অংশটা সমাধা হইয়া গেল – নির্বিঘে।
৩০. অনুপমের মামার মতে কলিকাতার বাহিরে পৃথিবীটা অন্তর্ভুক্ত আছে আন্দামান দ্বীপপুঞ্জের।
৩১. আন্দামান দ্বীপ -ভারতীয় সীমানাভুক্ত বঙ্গোপসাগরের অংশ বিশেষ।
৩২. স্বদেশী আন্দোলনের যুগে রাজবন্দিদের নির্বাসন শাস্তি দিয়ে পাঠানো হতো – আন্দামান দ্বীপে।
৩৩. কল্যাণীকে আর্শীবাদ করার জন্য পাঠানো হয়েছিল – অনুপমের পিসতুতো ভাই বিনুদাদাকে।
৩৪. অনুপম ষোল আনা নির্ভর করে – বিনুদাদার রুচি ও দক্ষতার উপর।
৩৫. বিনুদাদার ভাষা – অত্যন্ত আঁট।
৩৬. যেখানে সবাই বলে ‘চমৎকার’ বিনুদাদা সেখানে বলেনÑ চলনসই।
৩৭. মেয়ের সম্পর্ক বিনু দাদার কথা শুনে অনুপম তার ভাগ্যে প্রজাপতির সঙ্গে মিল খুঁজে পেয়েছ – পঞ্চশরের।
৩৮. হিন্দু পুরাণ অনুসারে প্রজাপতি হচ্ছে বিয়ের দেবতা(ব্রহ্মা)।
৩৯. পঞ্চশর হচ্ছে – মদনদেবের ব্যবহার্য পাঁচ ধরণের বাণ।
৪০. বিবাহ উপলক্ষে কলকাতায় আসিতে হইল – কন্যাপক্ষকে।
৪১. ‘বোঝা শক্ত, কেননা তিনি বড়ই চুপচাপ’ বলা হয়েছে- শম্ভুনাথ বাবুর প্রসঙ্গে।
৪২. ‘লোকটা নিতান্ত নির্জীব, একেবারে কোন তেজ নাই’ শম্ভুনাথ বাবু সম্পর্কে একথা ভেবেছিলেন অনুপমের মামা।
৪৩. অনুপমের মামা মনে মনে খুশি হইলেন কারণ বেহাইয়ের কোন তেজ নাই।


অপরিচিতা সম্পর্কিত গুরুত্বপূর্ণ লাইন:
 হরিশের কাছে শুনিয়াছি, মেয়েটিকে আমার ফটোগ্রাফ দেখানো হইয়াছিল।
 কলিকাতার বাহিরে বাকি যে পৃথিবীটা আছে সমস্তটাকেই মামা আন্দামান দ্বীপের অন্তর্গত বলিয়া জানেন।
 আজ আমার বয়স সাতাশ মাত্র।
 মার হাতেই আমি মানুষ।
 কন্যার পিতা মাত্রেই স্বীকার করিবেন, আমি সৎপাত্র।
 আমার বন্ধু হরিশ কানপুরে কাজ করে।
 মেয়ের চেয়ে মেয়ের বাপের খবরটাই তাঁহার কাছে গুরুতর।
 এক কালে ইহাদের বংশে লক্ষ¥ীর মঙ্গলঘট ভরা ছিল।
 দেশে বংশ মর্যাদা রাখিয়া চলা সহজ নয় বলিয়া ইনি পশ্চিমে গিয়া বাস করিতেছেন।
 মেয়ের বয়স যে পনেরো, তাই শুনিয়া মামার মন ভার হইল।
 বিনুদা ফিরিয়া আসিয়া বলিলেন, “মন্দ নয় হে! খাঁটি সোনা বটে।”
 আমার ভাগ্যে প্রজাপতির সঙ্গে পঞ্চশরের কোনো বিরোধ নাই।
 বিবাহ-উপলক্ষে কন্যাপক্ষকেই কলিকাতায় আসিতে হইল।
 “বাবাজি, একবার এই দিকে আসতে হচ্ছে।”
 স্যাকরা কহিল, “ইহা বিলাতি মাল, ইহাতে সোনার ভাগ সামান্যই আছে।”
 ঠাট্টার সম্পর্কটাকে স্থায়ী করিবার ইচ্ছা আমার নাই।”
 চিরকাল গলার স্বর আমার কাছে বড়ো সত্য।
 তাহার একটিমাত্র ধুয়া-“গাড়িতে জায়গা আছে।”
 “না, আমরা গাড়ি ছাড়িব না।”
 সে বলিল, “মাতৃ-আজ্ঞা।”
 কেবল সেই এক রাত্রির অজানা কন্ঠের মধুর সুরের আসা-যাওয়া আছে।


সারমর্ম:
‘অপরিচিতা’ গল্পে অপরিচিতা বিশেষণের আড়ালে যে ব্যক্তিত্বের অধিকারী নারীর কাহিনী বর্ণিত হয়েছে, তার নাম কল্যাণী। অমানবিক যৌতুক প্রথার নির্মম বলি হয়েছে এমন নারীদের গল্প ইতঃপূর্বে রচনা করেছিলেন রবীন্দ্রনাথ। কিন্তু এই গল্পেই প্রথম যৌতুক প্রথার বিরুদ্ধে নারী-পুরুষের সম্মিলিত প্রতিরোধের কথকতা শোনালেন তিনি। এ গল্পে পিতা শম্ভুনাথ সেন এবং কন্যা কল্যাণীর স্বতন্ত্র বীক্ষা ও আচরণে সমাজে গেড়ে-বসা ঘৃণ্য যৌতুকপ্রথা প্রতিরোধের সম্মুখীন হয়েছে। পিতার বলিষ্ঠ প্রতিরোধ এবং কন্যা কল্যাণীর দেশচেতনায় ঋদ্ধ ব্যক্তিত্বের জাগরণ ও তার অভিব্যক্তিতে গল্পটি স্বার্থক।

‘অপরিচিতা’ উত্তম পুরুষের জবানিতে লেখা গল্প। গল্পের অনুপম ব্যক্তিত্বরহিত, পরিবারতন্ত্রের কাছে অসহায় পুতুলমাত্র। তাকে দেখলে আজো মনে হয়, সে যেন মায়ের কোলসংলগ্নে শিশুমাত্র। তারই বিয়ে উপলক্ষে যৌতুক নিয়ে নারীর চরম অবমাননাকালে শম্ভুনাথ সেনের কন্যা-সম্প্রদানে অসম্মতি গল্পটির শীর্ষ মুহূর্তে। অনুপম নিজের গল্প বলতে গিয়ে ব্যাঙ্গার্থে জানিয়ে দিয়েছে সেই অঘটন সংঘটনের কথাটি। বিয়ের লগ্ন যখন প্রস্তুত তখন কন্যার লগ্নভ্রষ্ট হওয়ার লৌকিকতাকে অগ্রাহ্য করে শম্ভুনাথ সেনের নির্বিকার অথচ বলিষ্ঠ ব্যক্তিত্বের জাগরণের মধ্য দিয়ে গল্পের শেষাংশে কল্যাণীর শুচিশুভ্র আত্মপ্রকাশ ও ভবিষ্যতের নতুন নারীর আগমনীর ইঙ্গিতে পরিসমাপ্তি।

অপরিচিতা মনস্তপে ভেঙ্গেপড়া এত ব্যক্তিত্বহীন যুবকের স্বীকারোক্তির গল্প, তার পাপসঙ্খলনের অকপট কথামালা। অনুপমে আত্মবিবৃতির সূত্র ধরেই গল্পের নারী কল্যাণী অসামান্য হয়ে উঠেছে। গল্পটিতে পুরুষতন্ত্রের অমানবিকতার স্ফূরণ যেমন ঘটেছে, তেমনি একই সঙ্গে পুরুষের ভাষ্যে নারীর প্রশস্তিরও কীর্তির হয়েছে।


পাঠ বিশ্লেষণ :
১। “বাহিরে তো সে ধরা দিলই না, তাহাকে মনেও আনিতে পারিলাম না।”
উত্তর : বিনুদাদার কল্যাণে অনুপমের বিয়ের আসরটা জমজমাট হয়ে উঠল। তার এমনই দুর্ভোগ যে, কনে আসার আগেই বিয়ে ভেঙে গেল। বিনুদার বর্ণনায় আকর্ষিত হয়ে কল্পনার দৃষ্টিতে তাকে দেখার সুযোগ সৃষ্টি হলেও তাকে চাক্ষুষ দেখার সুযোগই পেল না সে। বাইরে তো সে ধরা দিলই না, তাকে মনেও আনত পারল না অনুপম।

২। “এই তো আমি জায়গা পাইয়াছি। ”
উত্তর : মায়ের সাথে যাত্রাপথে গাড়িতে ওঠার সময় কল্যাণীর কণ্ঠে প্রথম অনুপম শুনতে পায় ‘জায়গা আছে’ কথাটি। ‘জায়গা আছে’ কথাটি অনুপমের কাছে চিরজীবনের গানের ধুয়া হয়ে রয়েছে। কল্যাণীকে বিয়ে করতে পারেনি বলে অনুপমের কোন কষ্ট নেই, বরং সুযোগ হলে তার ছোটখাটো কাজ পর্যন্ত সে করে দেয়। আর মনে মনে ভাবে, এই তো সে জায়গা পেয়েছে। যদিও তার সম্পূর্ণ পরিচয় পায়নি, আজও সে অপরিচিতা। তবুও ভাগ্য ভালো যে, সে জায়গা পেয়েছে।

৩। “ছোটোকে যাঁহারা সামান্য বলিয়া ভুল করেন না তাঁহারা ইহার রস বুঝিবেন।”
উত্তর : গল্পের নায়ক অনুপমের জীবনের মাত্র চার বছরের চমক ইতিহাসটুকু ছোট। ছোট জলবিন্দুর মধ্যেই সিন্ধুর ব্যাপকতা থাকে, রসমাধুর্য থাকে। ওটুকু চয়ন করে নিতে হয়। এ কারণে ছোটকে যারা সামান্য বলে ভুল করেন না, তারা এর রস পান করে আনন্দ অনুভব করতে পারেন।

৪। “আমরা যে ধনী একথা তিনিও ভোলেন না, আমাকেও ভুলিতে দেন না।”
উত্তর : ধনী কথাটার মধ্যে এক ধরনের অহংকারবোধ যেমন আছে তেমনি অন্যকে তুচ্ছ তাচ্ছিল্য করার মনোভাবও আছে। বিশেষ করে যারা গরিব থেকে হঠাৎ ধনী হয়, তাদের ক্ষেত্রে এ কথা বেশি খাটে। অনুপমের মায়ের স্বভাবও মনোভাবের ক্ষেত্রেও এটি প্রযোজ্য। কারণ তিনি গরিব ঘরের মেয়ে, তাই হঠাৎ ধনী হওয়ার অহংকারটা নিজেও ভোলেন না, ছেলেকেও ভুলতে দেন না।

৫। “তাহাকে না খুঁড়িয়া এখানকার এক গণ্ডুষও রস পাইবার জো নাই।”
উত্তর : গোটা সংসারের দায়িত্বে যিনি থাকেন, তিনিই জানেন কী দিয়ে কী হয়, কার জন্য কী দরকার। সংসারের সব রহস্যই তার জানা থাকে। সে রহস্যের ছিটেফোঁটা রস উদঘাটন করতে চাইলে তাকে খুঁড়তে হয়। অনুপমদের সংসারের দায়িত্ব তার মামার ওপর। তাকে না খুঁড়ে এখানকার এক গণ্ডুষও রস পাওয়ার উপায় নেই।

৬। “এখনো আশা ছাড়ি নাই, কিন্তু মাতুলকে ছাড়িয়াছি।”
উত্তর : কানপুরে নামার সময় মেয়েটির নাম পরিচয় জানতে পেরে অনুপম ও তার মা দুজনই চমকে উঠল। তারপর মামার নিষেধ অমান্য করে , মাতৃ আজ্ঞা ঠেলে অনুপম কানপুরে চলে এলো। কল্যাণী ও তার বাবার সাথে দেখা করে হাতজোড় করে ক্ষমা প্রার্থনা করল। শম্ভুনাথ বাবুর হৃদয় গলল। তাতে বিশেষ কোন ফল হলো না। কল্যাণী স্পষ্ট জানিয়ে দিল সে বিয়ে করবে না। বিয়ের আশায় সে মাতুলকে ছেড়েছে, তবু কল্যাণীর আশা সে এখনও ছাড়েনি।

৭। “মস্তু বাংলাদেশের মধ্যে আমিও একমাত্র পুরুষ যাহাকে কন্যার বাপ বিবাহের আসর হইতে নিজে ফিরাইয়া দিয়াছে।”
উত্তর : বাংলাদেশে সাধারণত বর ও বরের বাবা কোন কারণে কনেপক্ষের সাথে মতপার্থক্য হলে বিয়ের আসর থেকে চলে আসে অথবা কনেকে ত্যাগ করে। গল্পের নায়ক অনুপমের ক্ষেত্রেই এর বিপরীত ঘটনা ঘটেছে। কেবল মামার অহংকারের কারণেই তার মতো ব্যক্তিহীন সুুুপুরুষকে কন্যার বাবা বিয়ের আসর থেকে ফিরিয়ে দিয়েছেন।

৮। “ভিড়ের মধ্যে দেখিলে সকলের আগে তাঁর উপরে চোখ পড়িবার মতো চেহারা।”
উত্তর : সুগঠিত অঙ্গসৌষ্ঠবের মানুষের প্রতি স্বাভাবিকভাবেই অন্যদের দৃষ্টি আকর্ষিত হয়। শম্ভুনাথ সেন সেরকম চেহারার একজন মানুষ। বিয়ের পর তিন দিন আগে তিনি অনুপমকে প্রথম চোখে দেখলেন এবং আর্শীবাদ করলেন। তাঁর বয়স চলি­শের কিছু এপারে বা ওপারে। চুল কাঁচা, গোঁফে পাক ধরতে শুরু করেছে। সব মিলিয়ে সুপুরুষ। ভিড়ের মধ্যে দেখলেও সবার আগে চোখে পড়ার মতো।

৯। “তাহার বিশেষত্ব এই যে, তাহার মধ্যে বয়সের তফাত কিছুমাত্র ছিল না।- ছোটদের সঙ্গে অনায়াসে এবং আনন্দে ছোট হইয়া গিয়াছিল।”
উত্তর : মিষ্টি সুরে ‘এখানে জায়গা আছে’ বলা মেয়েটিকে অনুপম এইমাত্র দেখল। এখনও তাকে সুর বলেই মনে হচ্ছে। দেখতে দেখতে চোখে পলক পড়ছে না। বয়স ষোলো সতেরো হবে। সারা দেহে নবযৌবনের আভা ছড়িয়ে আছে। কিন্তু তা তাকে ভারাক্রান্ত করে তোলেনি অর্থাৎ তার দেহ মনে কোথাও ভার চাপিয়ে দেয়নি। তার চলা ও বলার গতি সহজ স্বচ্ছন্দ, দীপ্তি নির্মল, সৌন্দর্যের শুচিতা অপূর্ব, কোথাও কোন জড়িমা নেই।

১০। “তিনি এমন বেহাই চান যাহার টাকা নাই অথচ যে টাকা দিতে কসুর করিবে না।”
উত্তর : অনুপমের মামা শোষণ ও শাসন দুটিই ভালো বোঝেন। তিনি আত্মীয়তাও রাখতে চান অথচ তাকে যথাযথ সম্মান দিতে চান না। তিনি তার ভাগ্নের জন্য এমন ঘরের মেয়ে চান, যে এ বাড়িতে মাথা হেঁট করে আসবে। এমন বেয়াই চান, যার টাকা নেই অথচ টাকা দিতে কসুর করবে না, যাকে শোষণ করা যাবে, আবার গুড়–গুড়ির পরিবর্তে হুঁকা দিলেও আপত্তি করবে না। বউ ও বেয়াই হবে তাদের বাড়ির সম্পূর্ণ অনুগত।

১১। “মামার একমাত্র লক্ষ্য ছিল, তিনি কোনমতেই কারও কাছে ঠকিবেন না।”
উত্তর : আড়ম্বরহীন বিয়ে বাড়িতে ঢুকে মামা খুশি হলেন না। তার ওপর কনের বাবার টানাটানির যে কথা শুনেছিলেন, তাতে তার ধারণা হলো লোকটা ঠকাতে পারেন। তাই তিনি বেয়াই মহাশয়কে বিয়ে শুরুর আগেই গহনার মান ও মাপ যাচাই করার সুযোগ দিতে অনুরোধ করলেন। কারণ তার মতে বিয়ের পরে আর কোন কথা তোলা যায় না। তার লক্ষ্য ছিল, তিনি কারও কাছে কোনাভাবেই ঠকবেন না।

নং বিষয় লেখক
আমার পথ কাজী নজরুল ইসলাম
বিড়াল বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
চাষার দুক্ষু বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত
সাম্যবাদী কাজী নজরুল ইসলাম
ঐকতান রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
বিভীষণের প্রতি মেঘনাদ মাইকেল মধূসুদন দত্ত
বায়ান্নর দিনগুলো শেখ মুজিবুর রহমান

অনুধাবনমূলক প্রশ্নোত্তর :
১। ‘আমাকে একটি কথা বলাও তিনি আবশ্যক বোধ করিলেন না।”- উক্তিটি বুঝিয়ে দাও।
উত্তর : কল্যাণীর পিতা অনুপমের সঙ্গে মেয়ের বিয়ে না দেওয়ার সিদ্ধান্ত অনুপমকে একবার জানানোরও প্রয়োজন বোধ করেন নি। উক্তিটির মাধ্যমে অনুপম এ কথাটিই বোঝাতে চেয়েছে। অনুপমের মামা ছিলেন তাদের পরিবারের কর্তা। বিয়ের আসরে তিনি কনের গা থেকে গয়না খুলে সেকরাকে দিয়ে পরীক্ষা করান। কনের পিতা শম্ভুনাথ সেন অনুপমের কাছে এ ব্যাপারে প্রশ্ন করেও কোন সদুতত্তর পাননি। তাই বরপক্ষকে জানিয়ে দেন তিনি অনুপমের সঙ্গে মেয়ের বিয়ে দেবেন না। শম্ভুনাথ সেনের যা কথা হয় সব অনুপমের মামার সঙ্গে। তিনি অনুপমকে গুরুত্বহীন বিবেচনা করে তার সঙ্গে কোন কথাই বলেন না। অনুপম তাই নিজের গুরুত্বহীনতার কথা অনুভব করে উক্তিটি করে।

২। ‘ফল্গুর বালির মতো তিনি আমাদের সমস্ত সংসারটাকে নিজের অন্তরের মধ্যে শুধিয়া লইয়াছেন’- ব্যাখ্যা কর।
উত্তর : প্রশ্নোক্ত কথাটি অনুপম তার মামাকে উদ্দেশ্য করে বলেছে। কারণ মাত্র ছয় বছরের বড় হলেও মামাই ছিলেন তার অনুপমের ভাল মন্দের প্রধান নির্ধারক। অনুপমের মামা ছিলেন তার প্রধান অভিভাবক। এমনকি অনুপমের বিয়ের ব্যাপারেও তার সিদ্ধান্তই চূড়ান্তরূপে গ্রহণ করা হয়। প্রশ্নোক্ত কথাটিতে অনুপম তার মামার চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য ও ব্যক্তিমানসিকতার পরিচয় তুলে ধরেছে। তিনি যা কিছু ভাবেন তা অনুপমের মঙ্গলের জন্যই ভাবেন। তিনি তার ভাহ্য দেবতা। অনুপমের সঙ্গে কল্যাণীর বিয়ে না হওয়ার ক্ষেত্রে তার মামার ভূমিকাই মুখ্য।

৩। “আমি তো চমকিয়া উঠিলাম’- কথাটি বুঝিয়ে লেখ।
উত্তর : ‘আমি তো চমকিয়া উঠিলাম’ বলতে গাড়িতে ওঠার জন্য কল্যাণীর আহনে অনুপমের চমকে ওঠাকে বোঝানো হয়েছে। অনুপম মাকে নিয়ে তীর্থে যাওয়ার পথে অপরিচিত এক মেয়ের কন্ঠস্বর শুনে মুগ্ধ হয়। অনুপম মেয়েটিকে দেখার চেষ্টা করে কিন্তু দেখতে পায় না। বাঙালি সেই মেয়ের কণ্ঠস্বর অনুপমের হৃদয়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করে। পরদিন বড় স্টেশনে গাড়ি বদল করার সময় একটি মেয়ে তাদের গাড়িতে ওঠার জন্য আহŸান করে। তখন ঐ মেয়েটির কন্ঠস্বর শুনে অনুপম চমকে ওঠে। কারণ এটি তার পূর্বে শোনা সেই কন্ঠস্বর।

৪। “কিন্তু মেয়ের বিয়ে হইবে না এই ভয় যার মনে নাই তার শাস্তির উপায় কী?”- মন্তব্যটি ব্যাখ্যা কর।
উত্তর : এখানে শম্ভুনাথ সেনের আত্মসম্মানবোধ ও গৌরববোধকে বড় করে দেখানো হয়েছে। মেয়ের গহনা সেকরাকে দিয়ে পরখ করায় অপমানিত বোধ করেন বাবা শম্ভুনাথ সেন। বরযাত্রীদের ফিরিয়ে দেওয়ায় অনুপমের মামা রেগে যান। কীভাবে শম্ভুনাথ তার মেয়েকে বিয়ে দেন তা দেখে নিবেন বলে হুমকি দেন। কিন্তু তার সেই কথায় মেয়েকে বিয়ে দিতেই হবে বা হবে না এ ভাবনা শম্ভুনাথ বাবুর মনে দুশ্চিন্তা সৃষ্টি করে না। তাই তাকে সহজে শাস্তি দেওয়া সম্ভব নয়।

৫। সুধা কণ্ঠধারী মেয়েটির পরিচয় কী?
উত্তর : সুধা কন্ঠধারী মেয়েটির নাম কল্যাণী। মায়ের সাথে অনুপমের তীর্থে যাওয়ার পথে যে চঞ্চল তরুণী দুটি তিনটি ছোট ছোট মেয়েকে নিয়ে সেই গাড়িতে উঠেছিল তার নাম কল্যাণী। তার পিতা ডাক্তার শম্ভুনাথ সেন। কল্যাণীর কন্ঠস্বর লালিত্য মাখা। প্রাণচঞ্চল কল্যাণী অনায়াসেই ছোটদের সাথে মিশতে পারে। সে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ এবং দেশ সেবায় নিবেদিত প্রাণ।

৬। গায়ে হলুদে কন্যাপক্ষকে নাকাল করা হয় কীভাবে?
উত্তর : মাত্রাতিরিক্ত লোকজন বা বাহক পাঠিয়ে কন্যাপক্ষের ওপর বোঝা চাপিয়ে অনুপমের মামা ও মা কন্যাপক্ষকে নাকাল করার বন্দোবস্ত করেন। গায়ে হলুদ অনুষ্ঠান অসম্ভব রকম ধুমধাম করে হয়েছিল। কন্যার বাড়িতে প্রয়োজনের চেয়ে বেশি বাহক পাঠানো হয়েছিল। এতে লোককে আপ্যায়ন করাতে হলে কন্যাপক্ষকে যে নাকাল হতে হবে তা ভেবেই অনুপমের মা ও মামা অনুরূপ রসিকতা করেছেন।

৭। গল্পটির নাম ‘অপরিচিতা’ রাখা হয়েছে কেন?
উত্তর : গল্পের নায়িকা কল্যাণী নায়ক অনুপমের কাছে শেষ পর্যন্ত অপরিচিত থাকায় গল্পটির নাম ‘অপরিচিতা’ রাখা হয়েছে। অনুপমের সাথে কল্যাণীর বিবাহ হওয়ার কথা থাকলেও শেষ পর্যন্ত তা হয়নি। বিবাহের কথা চলাকালে অনুপম মনের মধ্যে কল্যাণীর একটি ছবি ধারণ করেছে, স্বপ্ন সাজিয়েছে। অথচ সারা জীবনের জন্য তাকে পাওয়া হয় না, জানা হয়ে ওঠে না। কল্যাণী অনুপমের কাছে অপরিচিতা হিসেবেই থেকে যায়। যে কারণে এ গল্পের নামকরণ করা হয় ‘অপরিচিতা’।

৮। অনুপমকে পণ্ডিত মশায়ের বিদ্রুপ করতেন কেন?
উত্তর : অনুপমকে পণ্ডিত মশায়েরা বিদ্রুপ করতেন সুন্দর চেহারা অথচ গুণনীয়কতার কারণে। ছোটবেলায় অনুপমের চেহারা অত্যন্ত সুন্দর ছিল। অথচ সে পড়াশোনায় সন্তোষজনক পারদর্শিতা প্রদর্শন করতে পারত না। অন্যদিকে শিমুল ফুল সুবাস ছড়ায় না, সুন্দর দেখায় ; আর মাকাল ফল বাইরে দেখতে সুন্দর অথচ ভেতরে দুর্গন্ধ ও শাঁসযুক্ত হওয়ায় খাওয়ার যোগ্য নয়। তাই পণ্ডিত মশায়েরা তাকে শিমুল ফুল ও মাকাল ফলের সাথে তুলনা করতেন।

৯। মা অনুপমকে কেমন করে মানুষ করেছেন?
উত্তর : মা অনুপমকে মাতৃস্নেহে ও অর্থপ্রাচুর্যে অতি যতেœ মানুষ করেছেন। মা গরিব ঘরের মেয়ে ছিলেন বলে অনুপমকে কখনো ভুলতে দিতেন না যে তারা ধনী। সে সব ঐশ্বর্যে বেড়ে উঠছিল। শিশুকালে কোলে কোলেই সে বড় হয়েছে। যে কারণে শেষ পর্যন্ত তার পুরোপুরি জ্ঞানবুদ্ধিজাত বয়সই হয়ে ওঠেনি।

১০। পাত্র হিসেবে নায়কের বৈশিষ্ট্য কেমন?
উত্তর : ‘অপরিচিতা’ গল্পের নায়ক অনুপম সৎপাত্র। কোন সমস্যা নেই বলে অনুপম নিতান্ত ভালো মানুষ। ধূমপান পর্যন্ত করে না সে। মায়ের আদেশ শিরোধার্য করে ঘরের সব রকম বাধ্যবাধ্যকতা অনুসরণ করে চলতে পারাকে সে নিজেই সুলক্ষণ মনে কর।

১১। “তাহাদের হৃদয়ের উপর প্রাণের ঝর্ণা ঝরিয়া পড়ে।’- কথাটি কেন বলা হয়েছে?
উত্তর : কল্যাণীর সুধাকণ্ঠের ললিত বাক্য তার সঙ্গের দু-তিনজন ছোট মেয়ের ওপর প্রাণের ঝরনাস্বরূপ ঝরে পড়ে। অনুপম যে গাড়িতে চড়ে মায়ের সাথে তীর্থে যাচ্ছিল সেই গাড়িতে কল্যাণী দু তিনটি ছোট ছোট মেয়েকে সাথে নিয়ে উঠেছিল। কল্যাণীর প্রাণচাঞ্চল চলাফেরাও কথা বলা অনুপমকে মুগ্ধ করে। তার মধুর কণ্ঠে উচ্চারিত সব কথাই যেন মনোমুগ্ধকর। ছোটদের সঙ্গে সে অনায়াসে এবং আনন্দচিত্তে ছোট হয়েই মেশে, তাদের গল্প শোনায়। আর কল্যাণীর সুধাকণ্ঠের ললিত বাক্য সঙ্গের মেয়েদের ওপর প্রাণের ঝরনাস্বরূপ ঝরে পড়ে।


উদ্দীপকের বিষয় :
 একজন সাধারণ বাঙালি নারী।
 যৌতুকের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলা।
 বাল্যবিয়ে এবং কন্যাদায়গ্রস্ত পিতা।
 শারীরিক সুষমা এবং চারিত্রিক দৃঢ়তার পার্থক্য।
 পুরুষের পাশাপাশি নারীর অবস্থান ও কৃতিত্ব।
 প্রেমবিহল মনের আক্ষেপ।
 পণপ্রথার অভিশাপ।
 বিয়ের সম্বন্ধ স্থাপনে রসিকতা।
 বিয়ে ভেঙ্গে যাওয়া মেয়ের মানসিক অবস্থা।


ব্যাকরণিক অভীক্ষা:

⇒ সন্ধিঘটিত শব্দ নির্দেশ: পর্যন্ত সংসার, দৃষ্টি, সর্বাঙ্গ, পরিস্কার, তৃষ্ণার্ত, মহার্ঘ, আর্শীবাদ, অত্যন্ত, পরিচ্ছন্ন, আশ্চর্য, সন্ধান।
⇒ উপসর্গসাধিত শব্দ: বিশেষ ইতিহাস, আকাশ, সমস্ত, নিমেষ, সুলক্ষণ, সরস, নির্বিঘœ, নিষেধ, নির্ভর, উপলক্ষ, বিশ্বাস, প্রসঙ্গ, নির্জীব, অভিমান, অসম্ভব, বিদলিত, অভিষিক্ত, সম্পূর্ণ, সুগন্ধ, অনাছিষ্টি, অস্পষ্ট, অজানা, অচেনা, পরিপূর্ণ, অপরূপ।


বিদেশি শব্দ নির্দেশ:
সুরতি হিন্দি
টোপর দেশি শব্দ
তামাক পর্তুগিজ শব্দ
নালিশ ফরাসি শব্দ
সবুর আরবি শব্দ
সওগাদ তুর্কি শব্দ
তামাশা আরবি শব্দ
ফর্দ আরবি শব্দ
আর্দালি ইংরেজি শব্দ
ফৌজ ফারসি শব্দ
সাহেব আরবি শব্দ
রোজগার ফারসি শব্দ


ব্যাসবাক্য সমাস নির্দেশ:

প্রদত্ত বাক্য ব্যাসবাক্য সমাসের নাম
জন্মান্তর অন্য জন্ম নিত্য সমাস
সৎপাত্র সৎ যে পাত্র কর্মধারয় সমাস
গায়ে হলুদ গায়ে হলুদ দেওয়া হয় যে অনুষ্ঠানে অলুক বহুব্রীহি সমাস
গৃহস্থ গৃহে স্থিত যে বহুব্রীহি সমাস
মিশকালো মিশির ন্যায় কালো উপমান কর্মধারায় সমাস
বেহায়া হায়ার অভাব অব্যয়ীভাব সমাস
দেশ-বিদেশ দেশ ও বিদেশ দ্ব›দ্ব সমাস
আদম-শুমারি আদমের শুমারি ৬ষ্ঠী তৎপুরুষ সমাস
নবযৌবন নব যে যৌবন কর্মধারয় সমাস
বরযাত্রী বরের জন্য যাত্রী ৪র্থী তৎপুরুষ সমাস
গজানন গজ (হাতি) আনন যার বহুব্রীহি সমাস


বানান সতর্কতা:
ঝঞ্ঝাট, বিদ্রুপ, বিশ্বব্যাপী, নির্জীব, বঞ্চিত, লন্ডভন্ড, অনির্বচনীয়, উদ্ভাসিত


প্রথম লাইন: আজ আমার বয়স সাতাশ মাত্র।
শেষ লাইন: ওগো অপরিচিত্য, তোমার পরিচয়ের শেষ হইল না, শেষ হইবে না; কিন্তু ভাগ্য আমার ভালো, এই তো আমি জায়গা পাইছি।

নং বিষয় লেখক
আমার পথ কাজী নজরুল ইসলাম
বিড়াল বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
চাষার দুক্ষু বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত
সাম্যবাদী কাজী নজরুল ইসলাম
ঐকতান রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
বিভীষণের প্রতি মেঘনাদ মাইকেল মধূসুদন দত্ত
বায়ান্নর দিনগুলো শেখ মুজিবুর রহমান

 

See More

Like Our Facebook Page.

Spread the love

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *