ফেব্রুয়ারি ১৯৬৯- শামসুর রাহমান

                      ফেব্রুয়ারি ১৯৬৯- শামসুর রাহমান

ফেব্রুয়ারি ১৯৬৯- শামসুর রাহমান

  কবি পরিচিতি :

  •  নাম:  শামসুর রাহমান।
  •  জন্মপরিচয় জন্মতারিখ     :   ২৩ অক্টোবর,  ১৯২৯ খ্রিস্টাব্দ
  • জন্মস্থান  :   মাহুতটুলী, ঢাকা।
  • পৈত্রিক নিবাস :   পাড়াতলী, রায়পুরা, নরসিংদী।
  • পিতৃ পরিচয়  পিতার নাম    :   মোখলেসুর রহমান চৌধুরী।
  • শিক্ষাজীবন মাধ্যমিক   :   পোগোজ স্কুল (১৯৪৫), ঢাকা।
  • উচ্চ মাধ্যমিক :   ঢাকা ইন্টারমিডিয়েট কলেজ (১৯৪৭)।
  • উচ্চতর :   বিএ(অনার্স), এমএ(ইংরেজি), ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।
  • কর্মজীবন/পেশা     সাংবাদিকতা। সম্পাদক – দৈনিক বাংলা। সভাপতি – বাংলা একাডেমি।
  •  সাহিত্যকর্ম   কাব্য : প্রথম গান দ্বিতীয় মৃত্যুর আগে, রৌদ্র করোটিতে, বিধ্বস্ত নীলিমা, নিরালোকে দিব্যরথ, নিজ বাসভূমে, বন্দী শিবির থেকে, দুঃসময়ের মুখোমুখি, ফিরিয়ে নাও ঘাতক কাঁটা, এক ফোঁটা কেমন অনল, বাংলাদেশ স্বপ্ন দেখে, উদ্ভট উটের পিঠে চলেছে স্বদেশ, শামসুর  রাহমানের শ্রেষ্ঠ কবিতা প্রভৃতি উল্লেখযোগ্য।
  • উপন্যাস :   অক্টোপাস, নিয়ত মন্তাজ, অদ্ভূত আঁধার এক, এলো সে অবেলায়।
  • প্রবন্ধ  : আমৃত্যু তাঁর জীবনানন্দ।
  • শিশুতোষ  :  এলাটিং বেলাটিং, ধান ভানলে কুঁড়ো দেবো, গোলাপ ফোটে খুকীর হাতে, রংধনু সাঁকো,  লাল ফুলকির ছড়া।
  • অনুবাদ :   ফ্রস্টের কবিতা, হ্যামলেট, ডেনমার্কের যুবরাজ।
  • সম্পাদনা : হাসান হাফিজুর রহমানের অপ্রকাশিত কবিতা।
  • পুরস্কার / সম্মাননা  পুরস্কার :   আদমজী পুরস্কার (১৯৬৩), বাংলা একাডেমী পুরস্কার (১৯৬৯), একুশে পদক (১৯৭৭), স্বাধীনতা পুরস্কার (১৯৯১)।
  • জীবনাবসান মৃত্যু তারিখ  :  ১৭ আগস্ট, ২০০৬ খ্রিস্টাব্দ।

 শামসুর রাহমানের কাব্যগ্রন্থসমূহ মনে রাখার উপায়:

উদ্ভট উটের পিঠে চলেছে স্বদেশ সন্দেহ নেই। তাই মাতাল ঋত্বিকা বলে, আমি অনাহারি বন্দী শিবির থেকে এক ধরনের অহংকার করি। কারণ দু:সময়ের মুখোমুখি দাঁড়িয়ে, বাংলাদেশ স্বপ্ন দেখছে, প্রথম গান দ্বিতীয় মৃত্যুর আগে বাজবেই এই প্রত্যাশায় বিধ্বস্ত নীলিমায় দাঁড়িয়ে, রৌদ্র করোটিতে বুক তার বাংলাদেশের হৃদয় রচনা করে শামসুর রাহমান বলেন ফিরিয়ে নাও ঘাতক কাঁটা।

 উৎস পরিচিতি :

“ফেব্রুয়ারি ১৯৬৯” শীর্ষক কবিতাটি কবি শামসুর রাহমানের ‘নিজ বাসভূমে’ কাব্যগ্রন্থ থেকে চয়ন করা হয়েছে।

 মর্মবাণী/মূলবাণী/উপজীব্য বিষয়: দেশপ্রেম।

 কবি সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য:

  1. কবি শামসুর রহমানের পৈতৃক  নিবাস-বর্তমান নরসিংদী জেলার রায়পুরার পাড়াতলি গ্রামে।
  2. শামসুর রহমানের ডাক নাম-বাচ্চু।
  3. মুক্তিযুদ্ধকালে তিনি যে ছদ্মনামে কবিতা লিখতেন-মজলুম আদিব।
  4. তার দুটি বিখ্যাত কবিতা-‘স্বাধীনতা তুমি’, তুমি আসবে বলে হে স্বাধীনতা’।
  5. কবি শামসুর রহমান প্রায় এক দশক সম্পাদক ছিলেন-দৈনিক বাংলা পত্রিকায়।
  6. তাঁর স্ত্রীর নাম-জোহরা রাহমান(বেগম)।
  7.  শামসুর রাহমানের প্রাতিষ্ঠানিক লেখাপড়া-১৯৪৫ খ্রিষ্টাব্দে ঢাকার পোগোজ স্কুল থেকে ম্যাট্রিক পাস করেন। ১৯৪৭ খ্রিষ্টাব্দের শেষে ভর্তি হন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগে। তিন বছর পড়েও অনার্স পরীক্ষা দেননি। পড়ে বিএ(পাস) ডিগ্রি অর্জন করেন। আবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজিতে এম এ ভর্তি হন। কিন্তু এমএ-র প্রথম বর্ষ পরীক্ষায় পাস করলেও ফাইনাল পরীক্ষা দেন নি।
  8. তিনি মূলত-আধুনিক কবি; যিনি রোমান্টিকতার সঙ্গে সমাজমনস্কতার সংমিশ্রণ ঘটিয়ে নতুন কাব্যধারার জন্ম দিয়েছেন।
  9. তাঁকে ডি.লিট.উপাধিতে ভূষিত করে-রবীন্দ্রভারতী ও যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়।

 অধ্যায়ের গুরুত্বপূর্ণ বিষয় :

  • বাঙালির রাজনৈতিক ইতিহাস সম্পর্কে ধারণা লাভ করবে।
  • মাতৃভাষা’র জন্য এদেশের মানুষের আত্মত্যাগ সম্পর্কে জানতে পারবে।
  • ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন পরবর্তীতে বাঙালির অধিকার আদায়ের সংগ্রামে প্রভাব সম্পর্কে জানতে পারবে।
  • মায়ের ভাষার সম্মান রক্ষার্থে এদেশের মানুষের ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের প্রেক্ষাপট সম্পর্কে ধারণা লাভ করবে।
  • ১৯৬৯ এর গণজাগরণ ও জাতিসত্তা শোষণের তীব্র প্রতিবাদ সম্পর্কে জানতে পারবে।
  • শহরে পথে থরে থরে কৃষ্ণচূড়া ফুটে থাকায় জীবনদানকারীদের মহিমা মূর্ত হয়ে ওঠার বিষয়টি অনুধাবন করতে পারবে।

শব্দার্থ ও টীকা:

  1. আবার ফুটেছে দ্যাখো…
  2. আমাদের চেতনারই রঙ –  প্রতি বছর শহরের পথে পথে কৃষ্ণচ‚ড়া ফুল ফোটে।
  3. মানবিক বাগান – মানবীয় জগৎ।
  4. বুঝি তাই ঊনিশশো …
  5. থাবার সম্মুখে – ১৯৫২ সালের ঐতিহাসিক ভাষা আন্দোলনের ক্রমধারায় ছাত্র অসন্তোষকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা আন্দোলন উনিশশো ঊনসত্তরে ব্যাপক গণ-অভ্যুত্থানে রূপ নেয়।
  6. এখানে এসছি কেন?..
  7. জমাই ভিড় আমরা সবাই  – মুক্তিকামী মানুষের নিঃস্বার্থ সমাবেশ, আন্দোলন ও সংগ্রামের তাৎপর্য বোঝানো হয়েছে।
  8. আমি তাঁতি সঙ্গীহীন  –  মুসলিম তাঁতিদের সমাজ কখনই ভালো চোখে দেখেনি।
  9. আমি নব্য কালের লেখক..
  10. নাক্ষত্রিক স্পন্দনে সর্বদা  –  একজন নতুন লেখকও চিরকালের লেখকদের উত্তর সাধক।

    সারমর্ম:

১৯৬৯-এ পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে তৎকালীন পূর্ববঙ্গে যে গণআন্দোলনের সূচনা ঘটেছিল, কবিতাটি সেই গণজাগরণের পটভূমিতে রচিত। জাতিগত শোষণ ও নিপীড়নের বিরূদ্ধে এদেশের সাধারণ মানুষ ক্ষুদ্ধ হয়ে ওঠে’৬৯-এ। প্রত্যন্ত গ্রামগঞ্জ, হাটবাজার, কলকারখানা, স্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অসংখ্য মানুষ জড়ো হয় ঢাকার রাজপথে। কবিতাটি দেশমাতৃকার প্রতি জনতার বিপুল ভালোবাসা সংবর্ধিত হয়েছে। কবিতাটিতে একুশের রক্তঝরা দিনগুলোতে স্বৈরশাসনের বিরুদ্ধে এদেশের সংগ্রামী মানুষের আত্মহুতির মাহাত্ম্য প্রগাঢ়তা লাভ করেছে।

কবিতার ছন্দ বিশ্লেষণ:

  • আবার ফুটেছে দ্যাখো / কৃষ্ণচূড়া থরে থরে / শহরের পথে   (৮ + ৮ + ৬)
  • কেমন নিবিড় হয়ে। / কখনো মিছিলে /   কখনো- বা  (৮ + ৬ + ৪)
  • একা হেঁটে যেতে যেতে মনে হয় / ফুল নয়, / ওরা             (১২ + ৬)
  • শহিদের   ঝলকিত রক্তের বুদ্বুদ, / স্মৃতিগন্ধে  ভরপুর।  (১৪ + ৭)

বিশ্লেষণ : ‘ফেব্রুয়ারি ১৯৬৯’ কবিতাটির উপরের স্তবকটি সূ²ভাবে পড়লে দেখা যায় গতি খুব সুন্দর ধীরে লয়ের এবং প্রবহমান। কিন্তু পর্বের গঠন অনিয়মিত। পর্বগুলো নানা মাত্রার এবং পর্বদৈর্ঘ্যে কোন মিল বা সমতা নেই। যেমন : প্রথম পংক্তিটি শেষ হয়েছে দ্বিতীয় লাইনের মাঝে। দ্বিতীয় লাইনের মাঝ থেকে দ্বিতীয় পংক্তিটি শুরু হয়ে শেষ হয়েছে চতুর্থ লাইনের শেষে। বাঁকা বা আড়াআড়ি(/) দাগ দিয়ে পর্ব বিন্যাস দেখানো হয়েছে। এ থেকে স্পষ্ট বোঝা যায় কবিতাটি একটি প্রবহমান উৎকৃষ্ট গদ্য ছন্দের কবিতা।

পাঠ বিশ্লেষণ

 আবার ফুটেছে দ্যাখো কৃষ্ণচূড়া থরে থরে শহরের পথে

  • কেমন নিবিড় হয়ে। কখনো মিছিল কখনো -বা
  • একা হেঁটে যেতে যেতে মনে হয়-ফুল নয়, ওরা
  • শহিদের ঝলকিত রক্তের বুদ্বুদ, স্মৃতিগন্ধে ভরপুর।

‘ফেব্রুয়ারি ১৯৬৯’ কবিতাটি কবির হৃদয়ে একুশের চেতনার প্রতীক। কবি প্রতিনিয়তই একুশের সংগ্রামী চেতনা অনুভব করেন। একবার চলে গিয়ে আবার ফিরে আসে একুশ। আবার কৃষ্ণচূড়ার ডাল রক্তের মতো লাল হয়ে ওঠে ফুলে ফুলে। কবির মনে হয় যেন ভাষা শহিদদের রক্তের বুদ্বুদ কৃষ্ণচূড়া ফুল হয়ে ফুটেছে। কবির কাছে চির অন ভাষা শহিদদের আত্মত্যাগের স্মৃতি। একাকী শহিদদের রক্তের প্রতীক হয়ে তাঁদের মহিমা ছড়াচ্ছে।

 একুশের কৃষ্ণচূড়া আমাদের চেতনারই রং।

বাঙালি জাতি যুগে যুগে বহু বিভাষী এবং বিজাতি দ্বারা শোষিত-শাসিত হয়েছে। অবহেলিত, বঞ্চিত থেকেছে। অবশেষে মায়ের ভাষার ওপর আঘাত তারা সহ্য করেনি। প্রতিবাদে ফেটে পড়েছে। ১৯৫২ সালের একুশে ফেব্রæয়ারি  এদেশের মানুষ মাতৃভাষা বাংলাকে রাষ্ট্রভাষার দাবিতে রাজপথে মিছিল করেছে। ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করে মিছিল করার অপরাধে পুলিশ তাতে নির্বিচারে গুলি চালিয়েছে। ফলে এদেশের মানুষের বুকের রক্তে রাজপথ রঞ্জিত হয়েছে। সেই রক্তাক্ত পথ ধরেই এসেছে বাঙালির পরবর্তী আন্দোলন-সংগ্রামের সফলতা। এভাবে একুশ বাঙালির চেতনার রং হয়ে উঠেছে; হয়েছে প্রেরণার উৎস।

  এ রঙের বিপরীত আছে অন্য রং,

  • যে-রং লাগে না ভালো চোখে, যে-রং সন্ত্রাসে আনে
  • প্রাত্যহিকতায় আমাদের মনে সকাল-সন্ধ্যায়
  • এখন সে রঙে ছেয়ে গেছে পথ-ঘাট, সারাদেশ
  • ঘাতকের অশুভ আস্তানা।

এই যে অধিকার আদায় সংগ্রামের চেতনার রং প্রেরণার উৎস একুশ, এর বিপরীতেও আছে অন্য এক রং, যা আলোকে ঢেকে নিয়ে আঁধারের সূচনা করে, সত্যকে আড়াল করে মিথ্যা, নীচতা, হীনতা, অন্যায় ছড়ায়। সে-ই রং কবির ভালো লাগে না। কারণ সে রং অস্থির করে তোলে, মানুষের অধিকার ক্ষুণœ করে মানুষকে নিরাপত্তাহীনতায় নিয়ে যায়। কবি সকাল থেকে সন্ধ্যায় সেই রঙের জয়জয়কার লক্ষ্য করেন।  কবির প্রিয় দেশ আজ  যেন সেই অশুভ ছায়া বিস্তারকারী অশুভ  শক্তির বাহক, বিশ্বাস ঘাতকের  অবাধ বিচরণক্ষেত্র। পুরো দেশে যেন তাদের  আস্তানা।

 আমি আর আমার মতোই বহু লোক

  • রাত্রি-দিন ভূলুন্ঠিত ঘাতকের আস্তানায়, কেউ মরা, আধমরা কেউ,
  • কেউ বা ভীষণ জেদি, দারুণ বিপ্লবে ফেটে পড়া। চতুর্দিকে
  • মানবিক বাগান, কমলবন হচ্ছে তছনছ।

কবি এবং কবির মতো যারা আছেন, তারা প্রতিনিয়ত সেইসব বিশ্বাসঘাতকদের কালো থাবার নিচে বসবাস করছেন। কেউ কেউ তাদের অত্যাচারে নির্যাতনে মৃত্যুবরণ করেছে, কেউ মুমূর্ষু, আবার কেউ ভীষণ জেদি, প্রতিবাদ করছে, বিপ্লব-বিদ্রোহ করে ঘাতকদের অন্যায় আর অত্যাচারের বিরুদ্ধে কবির চারদিকে মানবিক সবকিছুই নষ্ট হচ্ছে। অশুভ শক্তির দাপটে, ফুলের মতো সাজানো মানুষের সংসার, পরিবেশ সবকিছু তছনছ তাদের ক্ষ্যাপা অশ্বের পদভারে।

বুঝি তাই ঊনিশশো ঊনসত্তরেও

  •    আবার সালাম নামে রাজপথে, শূন্যে তোলে ফ্ল্যাগ,
  •    বরকত বুক পাতে ঘাতকের থাবার সম্মুখে।

কবি মনে মনে ভাবেন সে কারণে ঊনসত্তর সালেও আবার সেই একুশের চেতনা ফিরে এসেছে। ভাষার দাবিতে সালাম, বরকত যেমন ১৪৪ ধারা ভেঙ্গে রাজপথে নেমেছিল, ঘাতকের নগ্ন থাবার সামনে যেমন বুকে পেতে দিয়েছিল, আজ সেই চেতনা যেন ফিরে এসেছে। ১৯৫২ সালের ঐতিহাসিক সেই ভাষা আন্দোলনের ক্রমধারায় অধিকতর সচেতন হয়ে ওঠা মানুষ আজ ঊনসত্তরে ব্যাপক গণঅভ্যুত্থানের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে এবং তা ঘটিয়ে শোষকের ভিত নাড়িয়ে দিয়েছে।

 সালামের চোখ আজ আলোকিত ঢাকা,

  •     সালামের মুখে আজ তরুণ শ্যামল পূর্ব বাংলা।

সেদিন সালামের চোখে-মুখে মাতৃভাষার মর্যাদা রক্ষা এবং মাতৃভাষা বাংলােেক রাষ্ট্রভাষা হিসেবে প্রতিষ্ঠার যে সতেচতা ছিল সেটা যেন আবার ফিরে এসেছে ফেব্রæয়ারি ১৯৬৯-এ। তাই তো সালামের চোখে ঢাকা আজ উজ্জ্বল আলোকিত, তরুণ শ্যামল পূর্ব বাংলা আজ অপূর্ব সুন্দর, তাদের সবার চোখে মুখে মুক্তির আশার আলো ঝলকিত।

 দেখলাম রাজপথে, দেখলাম আমরা সবাই

  •     জনসাধারণ দেখলাম সালামের হাত থেকে নক্ষত্রের মতো
  •     ঝরে অবিরত অবিনাশী বর্ণমালা

কবি রাজপথে নেমে দেখলেন, সবাই একুশের চেতনাকে বুকে ধরে অসমসাহসে এগিয়ে যাচ্ছে। আর একুশে ফেব্রæয়ারিতে সালামদের আত্মত্যাগের ফলে অর্জিত প্রিয় বর্ণমালা চেতনার ফুল হয়ে নক্ষত্রের মতো তাদের উপরে ঝরে পড়ছে।

         আর বরকতের বলে গাঢ় উচ্চারণে

  • এখনো বীরের রক্তে দুঃখিনী মাতার অশ্রæজলে
  • ফোটে ফুল বাস্তবের বিশাল চত্বরে
  • হৃদয়ের হরিৎ উপত্যকায়। সেই ফুল আমাদেরই প্রাণ,
  • শিহরিত ক্ষণে ক্ষণে আনন্দের রৌদ্রে আর দুঃখের ছায়ায়।

আর বরকতের দৃঢ় উচ্চারণে সেগুলো আরও প্রাণোজ্জ্বল হয়ে উঠেছে। কবি তাঁর হৃদয়ের বিশালতায় অনুভব করেন বাস্তবের মতো ফুল ফোটে তা বীরের রক্ত আর সেইসব শহিদদের দু:খিনী মায়ের অশ্রæ জলের অবদান। বাস্তবের সেই ফুল, চেতনার সেই রং কবির মতে আমাদের সবার প্রাণ। আমরা যে আনন্দ-বেদনায় প্রতিনিয়ত সিক্ত হই শিহরিত হই তাতে সেসবের অবদান অপরিসীম।

ফেব্রুয়ারি ১৯৬৯ সম্পর্কিত গুরুত্বপূর্ণ লাইন:

  • একুশের কৃষ্ণচ‚ড়া আমাদের চেতনারই রং।
  • কেউ বা ভীষণ জেদি, দারুণ বিপ্লবে ফেটে পড়া।
  • চতুর্দিকে মানবিক বাগান, কমলাবন হচ্ছে তছনছ।
  • সালামের মুখে আজ তরুণ শ্যামল পূর্ব বাংলা।
  • দেখলাম সালামের হাত থেকে নক্ষত্রের মতো
  • ঝরে অবিরত অবিনাশী বর্ণমালা
  • শহিদের ঝলকিত রক্তের বুদ্বুদ, স্মৃতিগন্ধে ভরপুর।

গুরুত্বপূর্ণ সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর (জ্ঞানমূলক):

  1. ‘ফেব্রুয়ারী ১৯৬৯’ কবিতাটি নেয়া হয়েছে- ‘নিজ বাসভূমে’ কাব্যগ্রন্থ থেকে।
  2. ‘ফেব্রুয়ারি ১৯৬৯’ কবিতার পটভূমি  পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে ১৯৬৯ এ সূচিত পূর্ববঙ্গের মানুষের গণ আন্দোলন।
  3. কবি এ কবিতায় রচনা করেছেন – বিচিত্র শ্রেণি পেশার মানুষের স্বত:স্ফূর্ত সংগ্রামী চেতনার অসাধারণ এক শিল্পভাষ্য।
  4. ‘সকাল সন্ধ্যায় এখন সে রঙে ছেয়ে গেছে পথ ঘাট’- এখানে  ‘ সে রঙে’ বলতে বোঝানো হয়েছে- আমাদের চেতনার রঙ এর বিপরীত রঙ এর কথা।
  5. সারা দেশে অশুভ আস্তানা – ঘাতকের।
  6. ১৯৬৯ এ ৬ দফা দাবি উত্থাপন করে- শেখ মুজিবুর রহমান।
  7. ১৯৬৯ এ ১১ দফা দাবি উত্থাপন করে – ছাত্ররা।
  8. ১৯৬৯ এর অপ্রতিরোধ্য আন্দোলনে পুলিশের গুলিতে মৃত্যুবরণ করেন- আসাদুজ্জামান, মতিউর, ড. শামসুজ্জোহা প্রমুখ।
  9. ‘চতুর্দিকে মানবিক বাগান, কমলবন হচ্ছে তছনছ’ এখানে ‘কমলবন’ বলতে বোঝানো হয়েছে- মানবিকতা, সুন্দর ও কল্যাণের জগত।
  10.  রাজপথে নামে – সালাম। ১১। শূন্যে ফ্ল্যাগ তোলে – সালাম।
  11. ঘাতকের থাবার সম্মুখে বুক পাতে – বরকত।
  12. সালামের চোখ আজ – আলোচিত ঢাকা।
  13. সালামের মুখ আজ – তরুণ শ্যামল পূর্ববাংলা।
  14. অবিরত অবিনাশী বর্ণমালা ঝরে – সালামের হাত থেকে।
  15. অবিরত অবিনাশী বর্ণমালা ঝরে- নক্ষত্রের মতো।
  16. এখনো বীরের রক্তে দু:খিনী মাতার অশ্রæজলে ফোটে ফুল, বাস্তবের বিশাল চত্বরে হৃদয়ের হরিৎ উপত্যকায়’ -একথা বলে – বরকত।
  17. ‘ফেব্রুয়ারি ১৯৬৯’ কবিতায় ফুল ফোটে – বাস্তব বিশাল চত্বরে।
  18. সেই ফুল আমাদেরই প্রাণ, শিহরিত ক্ষণে ক্ষণে – আনন্দের রৌদ্রে আর দুঃখের ছায়ায়।
  19. ‘সেই ফুল আমাদেরই প্রাণ’- এখানে ‘ফুল’ বলতে বোঝানো হয়েছে – বাংলা ভাষাকে।

 অনুধাবনমূলক প্রশ্ন ও উত্তর :

১। ‘অবিনাশী বর্ণমালা’ বলতে কবি কী বুঝিয়েছেন? ব্যাখ্যা কর।

উত্তর : ‘অবিনাশি বর্ণমালা’ বলতে আমাদের রাষ্ট্রভাষার স্মারকচিহ্নের অমরতœকে বোঝানো হয়েছে। বর্ণমালা ভাষার স্মারকচিহ্ন; আর রাষ্ট্রভাষা বাংলা ও বাংলার বর্ণমালা আমাদের অবিস্মরণীয় এক অর্জন। সে কারণে এই চিহ্ন কোনভাবেই ধূলিত হবে না। যুগ যুগ ধরে আমাদের চেতনার মধ্যে এ চিহ্ন বেঁচে থাকবে। এ কারণে কবি বর্ণমালার ওই চিহ্নকে অবিনাশী বলেছেন।

২। ‘ফেব্র“য়ারি ১৯৬৯’ কবিতায় কবি বর্ণমালাকে অবিনাশী বলেছেন কেন?

উত্তর : ভাষা শহিদদের আত্মত্যাগ অবিনশ্বর- এ কথা বোঝাতেই কবি বর্ণমালাকে অবিনাশী বলেছেন। ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন বাঙালির পরবর্তী আন্দোলন সংগ্রামের প্রেরণা হিসেবে কাজ করেছে। ৫২ তে ভাষা শহিদ সালামের রক্তে অর্জিত বাংলা ভাষাই ৬৯ সালের আন্দোলনে প্রতিবাদীদের মুখে ধ্বনিত হয়েছে। কবি দেখেছেন, ৫২ সালের সংগ্রামের অর্জন ৬৯ সালের আন্দোলনকে আরও বেগবান করেছে। তাই কবি বাংলা ভাষার প্রিয় বর্ণমালাকে অবিনাশী বলেছেন।

৩। ‘ফেব্রুয়ারি ১৯৬৯’ কবিতায় কবি জীবনকে কীভাবে প্রকৃতির সাথে সম্পৃক্ত করেছেন?

উত্তর : ‘ফেব্রæয়ারি ১৯৬৯’ কবিতায় কবি নানাবিধ উপমায় জীবনকে প্রকৃতির সাথে সম্পৃক্ত করেছেন। বাঙালির জাতীয় জীবনের বিভিন্ন অবস্থা এবং ১৯৬৯ সালের আন্দোলনের ইতিহাসকে কবি প্রকৃতি-সংশ্লিষ্ট নানাবিধ উপমায় চিহ্নিত করেছেন। যেমন : কৃষ্ণচূড়াকে একুশের শহিদদের ঝলকিত রক্তের বুদ্বুদ হিসেবে দেখেছেন, সবুজ শ্যামল পূর্ব বাংলা হয়েছে শহিদ সালামের মুখ, সুন্দর ও কল্যাণের জগৎ বোঝাতে ‘কমলবন’ প্রতীকটি ব্যবহার করেছেন। আবার হৃদয়ের হরিৎ উপত্যকায় ফোটা ফুল বলতে বাংলা ভাষাকে বুঝিয়েছেন। এভাবেই কবি নানাবিধ উপমার যৌক্তিক উপস্থাপনায় জীবনকে প্রকৃতির সাথে সম্পৃক্ত করেছেন।

৪। কৃষ্ণচূড়াকে স্মৃতিগন্ধে ভরপুর বলা হয়েছে কেন?

উত্তর : কৃষ্ণচূড়া ভাষা আন্দোলনে নিহত শহিদদের রক্তদানের স্মৃতিকে মনে করিয়ে দেয় বলে কৃষ্ণচূড়াকে স্মৃতিগন্ধে ভরপুর বলা হয়েছে। শহরের পথে পথে থরে কৃষ্ণচূড়া ফুটে থাকে। কিন্তু এই কৃষ্ণচূড়া কবির কাছে অন্য ফুলের মতো সাধারণ কোন ফুল নয়। কৃষ্ণচূড়ার গাঢ় লাল রং যেন ভাষা আন্দোলনে জীবন উৎসর্গকারী শহিদদের রক্ত রঞ্জিত দেহ। তাই কৃষ্ণচূড়াকে স্মৃতিগন্ধে ভরপুর বলা হয়েছে।

৫। ‘চর্তুদিকে মানবিক বাগান, কমলবন হচ্ছে তছনছ’- কেন?

উত্তর : ‘চতুর্দিকে মানবিক বাগান, কমলবন হচ্ছে তছনছ’ কারণ ঘাতকের অশুভ ছোবল। কবি এখানে মানবিকতা, সুন্দর ও কল্যাণের জগৎ তছনছ হওয়াকে বুঝিয়েছেন। জীবনের প্রাত্যাহিকতায় নানা রকম কল্যাণকর ঘটনার পাশাপাশি অপ্রীতিকর বা অশুভ পরিস্থিতির মুখোমুখিও হতে হয়। আলোচ্য লাইনে কবি বাঙালির সহজ সরল জীবনে স্বৈরাচারী শাসকগোষ্ঠীর শোষণ, নির্যাতন, নিপীড়নে সে যে বিরূপ প্রভাব ফেলে সেই বিষয় বর্ণনা করতে চেয়েছেন। ১৯৫২ সালের রাষ্ট্রভাষা আন্দোলনকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা অসন্তোষ ১৯৬০ এ ব্যাপক গণঅভ্যূত্থানে রূপ নেয়। জাতিগত শোষণ ও নিপীড়নে দেশ ও জনগণের জীবনযাত্রার বিধ্বস্ত রূপটি প্রশ্নোক্ত প্রকাশিত হয়েছে।

৬। “আবার ফুটেছে দ্যাখো কৃষ্ণচূড়া থরে থরে শহরের পথে”- বলতে কবি কী বোঝাতে চেয়েছেন?

উত্তর : প্রশ্নোক্ত চরণে প্রকৃতির অনুষঙ্গে সংগ্রামী শহিদদের চেতনাকে ব্যক্ত করা হয়েছে। প্রতি বছর শহরে পথে পথে কৃষ্ণচূড়া ফুল ফোটে। কবির মনে হয় যেন ভাষা শহিদদের রক্তের বুদ্বুদ কৃষ্ণচূড়া ফুল ফুটেছে। তাই একুশের কৃষ্ণচূড়াকে কবি আমাদের চেতনার রঙের সাথে মিলিয়ে নিতে চান। ভাষার জন্য যাঁরা রক্ত দিয়েছেন, তাঁদের ত্যাগের মহিমা মূর্ত হয়ে উঠেছে কৃষ্ণচূড়ার স্ববকে স্তবকে প্রশ্নোক্ত চরণে এই ভাবই প্রকাশিত হয়েছে।

৭। বরকত ঘাতকের থাবার সম্মুখে বুক পাতে কেন?

উত্তর : বরকত অত্যাচারকে নিঃশেষ করতে ঘাতকের থাবার সম্মুখে বুক পাতে। ১৯৫২ সালের ২১শে ফেব্রæয়ারি মাতৃভাষা বাংলার দাবিতে ছাত্রসমাজ ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করে মিছিল বের করে। পুলিশ মিছিলে গুলিবর্ষণ করলে শহিদ হন বরকত। কবি ১৯৬৯ সালের মিছিলকে ’৫২ এর মিছিলের স্মরণসঙ্গী করেছেন। এই মিছিলে যাঁরা অংশ নিয়েছেন তাঁরা যেন ভাষা শহিদ বরকতের মতোই ঘাতকের থাবার মুখে নিজেদের সঁপে দিয়েছেন।

৮। ‘এখনো বীরের রক্তে দু:খিনী মাতার অশ্রæজলে ফোটে ফুল বাস্তবের বিশাল চত্বরে হৃদয়ের হরিৎ উপত্যকায়’ ব্যাখ্যা কর।

উত্তর : প্রশ্নোক্ত চরণটি দ্বারা তৎকালীন বৈরী পরিবেশে শহিদের আত্মত্যাগ এবং চেতনার জাগরণের দিকটিকে বোঝানো হয়েছে। পাকিস্তানিরা বাঙালিদের সর্বদা অত্যাচার, শোষণ, নির্যাতন করেছে। তাদের কাছ থেকে যে কোন দাবি দাওয়া আদায় করতে গিয়ে নির্বিচারে মরতে হয়েছে বাঙালিদের। ভাষার দাবিতে যেমন প্রাণ দিতে হয়েছে ১৯৫২ সালে। ১৯৬৯ সালেও ছয় দফা দাবি আদায় করতে গিয়ে ঠিক তেমনই হয়েছে। এখনো বীরের রক্তে, দু:খিনী মাতার অশ্রæজলে ফুল ফোটে বাস্তবতার বিশাল চত্বরে। হৃদয়ের হরিৎ উপত্যাকায় কথাটি দ্বারা পাকিস্তানিদের শাসনামলে বাঙালির বৈরী সময়ের কথাই বোঝানো হয়েছে।

৯। ‘সেই ফুল আমাদেরই প্রাণ’ কথাটি দিয়ে কবি কী বুঝিয়েছেন?

উত্তর : ‘সেই ফুল আমাদেরই প্রাণ’ কথাটি দিয়ে কবি ভাষা শহিদদের আত্মত্যাগে দু:খিনী মায়ের চোখের জলে যে ফুল ফুটেছিল তা বুঝিয়েছেন। কবির মনে হয় ভাষা শহিদদের রক্তের বুদ্বুদ কৃষ্ণচূড়া ফুল হয়ে যেন ফোটে শহরের পথে পথে। তাই একুশের কৃষ্ণচূড়াকে তিনি বাঙালি জাতির চেতনার রঙের সঙ্গে মিশিয়ে নিতে চান। ভাষার জন্য যাঁরা রঙ দিয়েছেন সেই বীরের রক্তে, সন্তানহারা জননীর চোখের জলে যে চেতনার ফুল ফোটে তা কবির কাছে প্রাণস্বরূপ। সেই চেতনাতেই আজ আমরা স্বাধীন জাতি। এমন ভাব বোঝাতেই কবি প্রশ্নোক্ত কথাটি ব্যবহার করেছেন।

১০। ‘সালামের চোখ আজ আলোচিত ঢাকা’- চরণটি দিয়ে কবি কী বুঝিয়েছেন?

উত্তর : ‘সালামের চোখ আজ আলোকিত ঢাকা’ বলতে কবি ভাষা শহিদদের চেতনাদীপ্ত বাঙালি জাতির দৃষ্টিভঙ্গিকে বুঝিয়েছেন। ভাষা শহিদরা বাঙালি জাতির গর্ব। তাঁদের সেই অবিনাশী সংগ্রামী চেতনায় উজ্জীবিত হয়ে এ জাতি দুর্গম সংগ্রামী পথ পাড়ি দিয়ে নিজেদের লক্ষ্যে পৌঁছেছে। ১৯৫২ সালে ঢাকার রাজপথে মাতৃভাষার সম্মান রক্ষার্থে সালাম বুকের রক্তে রাজপথ রঞ্জিত করেছিলেন। সেই দৃষ্টিভঙ্গি জাতির মানস চোখে গ্রথিত হয়ে সমকালীন বাস্তবতা মোকাবিলা করার প্রত্যয় ও সাহস জুগিয়েছে। প্রশ্নোক্ত লাইনটিতে কবি এমন ভাবই বুঝিয়েছেন।

 উদ্দীপকের বিষয় :

  1. ভাষা শহিদদের আত্মত্যাগ ও সংগ্রামী চেতনা।
  2. অতীত সংগ্রামী চেতনা ও বাঙালির মহাজাগরণ।
  3. বিদ্রোহী, বিপ্লবী সত্তা।
  4. স্বৈরাচারী শাসকের পতনের দাবিতে মিছিল।
  5. অধিকার আদায়ে বাঙালির একাত্মতা ঘোষণা।
  6. বিক্ষোভ বা গণআন্দোলন।
  7. ভাষা আন্দোলনের মূল উদ্দেশ্য ও সফলতা।
  8. বাঙালির একুশের চেতনা।
  9. বেদনাজড়িত স্মৃতিচিহ্ন।

সারকথা : উদ্দীপকে সাধারণ মানুষের প্রতিবাদমুখর চিত্র ফুটে উঠেছে। সেখানে শাসক শ্রেণির অপশাসনের বিরুদ্ধে নানা শ্রেণি পেশার মানুষের সমন্বিত প্রতিবাদের চিত্র লক্ষিত হয়। আলোচ্য কবিতার পটভূমিতেও এদিকটি বিশেষভাবে প্রতিফলিত হয়েছে। কিন্তু কবিতায় উল্লিখিত পাকিস্তানির শাসকগোষ্ঠীর অত্যাচারের চিত্র উদ্দীপকে নেই।

নং বিষয় লেখক
আমার পথ কাজী নজরুল ইসলাম
বিড়াল বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
চাষার দুক্ষু বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত
সাম্যবাদী কাজী নজরুল ইসলাম
ঐকতান রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
বিভীষণের প্রতি মেঘনাদ মাইকেল মধূসুদন দত্ত
বায়ান্নর দিনগুলো শেখ মুজিবুর রহমান
অপরিচিতা রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
মাসি-পিসি মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
১০ জীবন ও বৃক্ষ মোতাহের হোসেন চৌধুরী
১১ আমি কিংবদন্তির কথা বলছি আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ
১২ নেকলেস গী দ্য মোপাসাঁ/ পূর্ণেন্দু দস্তিদার
১৩ রেইনকোট আখতারুজ্জামান ইলিয়াস
১৪ নূরলদীনের কথা মনে পড়ে যায় সৈয়দ শামসুল হক
১৫ তাহারেই পড়ে মনে সুফিয়া কামাল

 

See More

Like Our Facebook Page.

Spread the love

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *