বিসিএস প্রাচীন বাংলার ইতিহাস

বিসিএস প্রাচীন বাংলার ইতিহাস [প্রাচীন যুগ]


বাংলা শব্দের উত্পত্তিঃ ভারতীয় উপমহাদেশে মুসলিম শাসনামলে ‘বাংলা’ শব্দের ব্যবহার লক্ষ করা যায়। সম্রাট আকবরের আমলে সমগ্র ‘বাংলা’ তথা ‘বঙ্গ’ দেশকে ‘সুবাই-ই-বাঙ্গালাহ’ নামে পরিচিত ছিল।ফারসি ‘বাঙ্গালাহ’ শব্দ থেকে পর্তুগিজ Bangale এবং ইংরেজি Bengal শব্দ থেকে এর উত্পত্তি।বাংলা বা বাঙ্গালি নামের উত্পত্তি নিয়ে একাধিক তথ্য পাওয়া যায়।মোঘল সম্রাট আকবরের সভাসদ আবুল ফজল তার ‘আইন -ই-আকবরী’ গ্রন্থে দেশবাচক ‘বাংলা’ শব্দ ব্যবহার করে এর উত্পত্তি সম্পর্কে দেখিয়েছেন যে, এ দেশের প্রাচীন নাম ‘বঙ্গ’ এর সাথে বাঁধ বা জমির সীমানা নির্ধারক আল (আল বা আইল )প্রত্যয়যোগে ‘বাংলা’ শব্দ গঠিত হয়েছে।  প্রাচীন কালে বঙ্গের রাজারা ১০ গজ উঁচু এবং ২০ গজ বিস্তৃত প্রকাণ্ড আল নির্মাণ করতেন তাই এর নাম ‘বঙ্গের’ সাথে আল যোগ করে হয়েছে বাঙ্গালা।শামসুদ্দিন ইলিয়াস শাহ বাংলার নামকরণ করেন ‘মূলক ই বাঙ্গালাহ’। ‘বাঙ্গালাহ’ থেকে ‘বাংলা’ এবং ‘মূলক’ অর্থ দেশ। সুতরাং ‘মূলক-ই-বাঙ্গালাহ’ থেকে বাংলাদেশ।


বাঙ্গালি জাতির উত্পত্তিঃ সমগ্র বাঙ্গালি চাতিকে দুই ভাগে ভাগ করা যায়- অনার্য এবং আর্য জনগোষ্ঠী। আর্য জনগোষ্ঠী মূলত নেগ্রিটো, অস্ট্রিক, দ্রাবিড় ও ভোটচীনীয় এই চারটি শাখঅয় বিভক্ত ছিল। কেউ কেউ তাদের কে নিষাদ জাতি বলে আখ্যা দিয়েছেন। অস্ট্রিক, দ্রাবিড় জাতির সাথে মঙ্গোলীয় বা ভোটচীনীয় জাতির মিশ্রণ ঘটে। ফলে গারো, ত্রিপুরা, চাকমা ইত্যাদি মঙ্গোলয়েড। অস্ট্রিক, দ্রাবিড় জনগোষ্ঠীর মিশ্রণে যে জাতির প্রবাহ চলছিল, তার সঙ্গে আর্য জাতি এসে যুক্ত হয়ে গড়ে তুলেছে বাঙালি জাতি। আর্যরা সনাতনী ধর্মাবলম্বী ছিল আর তাদের ধর্ম গ্রন্থ ছিল বেদ।

  • “বাঙ্গালাহ” শব্দটি ফারসি।
  • খ্রিস্টাপূর্ব তিন হাজার বছর পূর্বে “বঙ্গ” শব্দের ব্যবহার পাওয়া যায়।
  • প্রাচীন ‘বঙ্গদেশ’ এর বংশধরগণই “বাঙ্গালি” নামে পরিচিত।
  • অস্ট্রিক জাতি থেকে বাঙ্গালি জাতির উত্পত্তি।
  • অস্ট্রিক জাতির সাথে প্রাচীন আর্যদের সংমিশ্রণে গড়ে ওঠে বাঙ্গালি জাতি।
  • বাঙ্গালি জাতির আদি বংশধর-আর্য জনগোষ্ঠী।
  • আর্যদের পূর্বে বাংলায় রাজত্ব ছিল-মৌর্য বংশের।

আর্য জাতির তথ্যঃ

  • আর্যদের আগমন  → খ্রিষ্টপূর্ব ১৫০০-১৪০০ অব্দে
  • আর্যদের ধর্ম → সনাতন হিন্দু ধর্ম
  • ধর্মগ্রন্থ → বেদ
  • আর্য যুগকে বলা হয় → বৈদিক যুদ
  • আর্যদের প্রাচীন নিবাস → ইউরাল পর্বতের দক্ষিণে
  • আর্যদের উপনিবেশ স্থাপিত হয় → বৈদিক যুগের শেষ ভাগে,
  • “বাঙ্গালি” হলো → শংকর জাতি
  • বাঙালিদের → “নিষাদ জাতি” ও বলা হয়।
  • বাঙ্গালি আদি উপজাতি হলো → সাঁওতাল, ভেল, কোল ও মুন্ডা।

প্রাচীন বাংলার জনপদ ও রাজধানীঃ

  • পূর্ব বঙ্গঃ (প্রাচীনতম) বর্তমান বাংলাদেশের উত্তরবঙ্গ তথা রাজশাহী, বগুড়া, রংপুর ও দিনাজপুর অঞ্চল।রাজধানী → পুন্ড্রনগর/পুন্ড্রবর্ধন। (বর্তমানে বগুড়ার মহাস্থানগড়ে)।
  • গৌড়ঃ   রাজশাহী, বগুড়া, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, পঃ বঙ্গের মুর্শিদাবাদ, মালদহ ও তার পার্শ্ববতীয় অঞ্চল। রাজধানী → কর্ণসূবর্ণ
  • রাঢ়ঃ   ভাগীরথী নদীর পশ্চিম তীর/বর্তমান পশ্চিম, বঙ্গের, দক্ষিনাংশ (উত্তর, রাঢ়) যশোর খুলনা ও সাতক্ষীরা। (দঃ রাঢ়)   রাজধানী → সূক্ষ্ম।
  • সপ্তগাঁওঃ খুলনা এবং সমুদ্র তীরবর্তী অঞ্চল।
  • বরেন্দ্রঃ  গঙ্গা ও করতোয়া নদীর মধ্যবর্তী অঞ্চল তথা-রাজশাহী, বগুড়া ও দিনাজপুর অঞ্চল।
  • সমতটঃ  পূর্ব ও দক্ষিণ পূর্ব বাংলার কুমিল্লা, নোয়াখালী ও ত্রিপুরা অঞ্চল। রাজধানী → কুমিল্লা জেলার বরকামতা।
  • বঙ্গঃ    ঢাকা, ফরিদপুর ও ময়মনসিংহ অঞ্চল । রাজধানী → সোনারগাঁও।
  • বিক্রমপুরঃ মুন্সিগঞ্জ ও পার্শ্ববর্তী অঞ্চল।
  • হরিকেলঃ সিলেট, পার্বত্য চট্টগ্রাম ও রাঙামাটি। বিক্রমপুর মুন্সিগঞ্জ ও পারশ্ববর্তী জেলা।
  • আরাকানঃ কক্সবাজার, বার্মার কিয়দংশ ও কর্ণফুলি নদীর দক্ষিণাঞ্চল।
  • প্রাচীন বাংলায় প্রায় ১৬টি জনপদ ছিল।
  • সবচেয়ে প্রাচীন জনপদ হলো-পুন্ড্র।
  • বর্তমান বগুড়ার মহাস্থানগড় ছিল পুন্ড্রুদের কেন্দ্রস্থল।
  • সর্বপ্রথম ও “বঙ্গ” শব্দের উল্লেখ ছিল – “ঐতরেয়-আরণ্যক” গ্রন্থে।
  • “বঙ্গ” জাতি, গোষ্ঠীর বসবাস ছিল – ভাগীরথী নদীর পূর্ব তীর থেকে আসামের পশ্চিমাঞ্চল পর্যন্ত।
  • “বঙ্গ” অঞ্চলকে বাংলা নামকরণ করেন- সুলতান শামসুদ্দিন ইলিয়াস শাহ।
  • সর্বপ্রথম “বাংলা” শব্দটি ব্যবহার করেন সম্রাট আকবরের সভাকবি আবুল ফজল তাঁর লিখিত “আইন-ই-আকবরী” নামক গ্রন্থে।

মহানবীর আলেকজান্ডারঃ আলেকজান্ডার জাতিতে ছিলেন আর্য গ্রিক। তিনি ছিলেন ম্যাসিডোনিয়ার রাজা ফিলিপসের প্রত্র। তিনি প্রখ্যাত গ্রিক দার্শনিক অ্যারিস্টটলের কাছে গৃহশিক্ষা লাভ করেন। আলেকজান্ডারের মৃত্যুর পর চন্দ্রগুপ্ত মৌর্য উপমহাদেশে গ্রিক প্রাধান্যের অবসান ঘটান। সক্রেটিসের ছাত্র ছিলেন প্লেটো, প্লেটোর ছাত্র ছিলেন অ্যারিস্টটল এরং অ্যারিস্টটলের ছাত্র ছিলেন আলেকজান্ডার।

  • আলেকজান্ডার ছিলেন → গ্রীক বীর ও দার্শনিক।
  • তাঁর পিতা ছিলেন → ম্যাডিসনের রাজা ফিলিপস।
  • তাঁর শিক্ষক ছিলেন      → এরিস্টটল
  • ভারতবর্ষ আক্রমণ করেন → খ্রিষ্টপূর্ব ৩২৭ অব্দে
  • মৃত্যুবরণ করেন → খ্রিস্টপূর্ব ৩২৫ অব্দে ব্যাবিলনে।
  • খ্রিষ্টপূর্ব ৩২৬ অব্দে পুরু ও আলেকজান্ডারের মধ্যে হিদারপিসের যুদ্ধ সংঘটিত হয়।
  • মৌর্য বংশের রাজা চন্দ্রগুপ্ত মৌর্য উপমহাদেশ থেকে সর্বপ্রথম গ্রীকদের বিতাড়ণ করেন এবং মৌর্য বংশের রাজত্ব কায়েম করেন।

প্রাচীন বাংলার ইতিহাস (খ্রিস্টপূর্ব ৩০৬ থেকে ১২০৬ খ্রিস্টাব্দ): ভারতীয় উপমহাদেশের প্রথম সাম্রাজ্যের নাম মৌর্য সাম্রাজ্য। খ্রিস্টপূর্ব ৩২১ অব্দে মগধের সিংহাসনে আরোহণের মাধ্যমে রাজা চন্দ্রগুপ্ত ‘মৌর্য’ বংশের প্রতিষ্ঠা করেন। চন্দ্রগুপ্ত হলেন ভারতীয় উপমহাদেশের প্রথম সম্রাট। মগধ হচ্ছে বাংলা ও বিহারের যৌথ নাম। এর রাজধানী ছিলো পাটালিপুত্র। পাটালিপুত্র বর্তমান বিহারের রাজধানী পাটনা।


মৌর্য বংশঃ ভারতীয় উপমহাদেশের প্রথম সাম্রাজ্যের নাম মৌর্য সাম্রাজ্য। চন্দ্রগুপ্ত মৌর্য খ্রিষ্টপূর্ব ৩২১ অব্দে মগধের সিংহাসনে আরোহনণর মাধ্যমে ভারতে মৌর্য সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠা করেন। তিনিই ভারতের প্রথম সম্রাট। পাটালিপুত্র ছিল তার রাজধানী। চাণক্য ছিলেন তাঁর প্রধানমন্ত্রী। চাণক্যের ছদ্মনাম ছিল কৌটিল্য, যা তিনি তার বিখ্যাত সংস্কৃত গ্রন্থ অর্থশাস্ত্রে গ্রহন করেছেন। তিনি আলেকজান্ডারের সেনাপতি সেলিউকসকে পরাজিত করে উপমহাদেশে থেকে গ্রিকদের বিতাড়ন করেন।

  • মৌর্য বংশের প্রতিষ্ঠাতা→চন্দ্র গুপ্ত মৌর্য
  • প্রাচীন মৌর্যদের রাজধানী→পুন্ড্রনগর
  • মৌর্যদের শাসনকাল→খ্রিষ্টপূর্ব ৩২৪-২৩২ অব্দে
  • চন্দ্রগুপ্ত মৌর্যের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন→ চাণক্য বা কৌটিলা। তাঁর বিখ্যাত গ্রন্থ “অর্থশাস্ত্র”।
  • মৌর্য বংশের সর্বশ্রেষ্ঠ সম্রাট→ সম্রাট অশোক
  • সম্রাট অশোকের উপাধি → বৌদ্ধধর্মের কন্সট্যানটাইন
  • তাঁর সময় সংঘটিত যুদ্ধ → কলিঙ্গের যুদ্ধ
  • সম্রাট অশোক যে কারণে বৌদ্ধ ধর্ম গ্রহণ করেন → কলিঙ্গের যুদ্ধের ভয়াবহতা দেখে।
  • মৌর্য বংশের সর্বশেষে সম্রাট → বৃহদ্রথ
  • গ্রিক সেনাপতি সেলুকাসকে পরাজিত করে বিশাল সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠা করেন→চন্দ্রগুপ্ত মৌর্য।
  • চন্দ্রগুপ্তের সময় ভারতবর্ষে আগমন করেন→ গ্রিক পরিব্রাজক মেগাস্থিনিস।
  • প্রাচীন ভারতের প্রামাণ্য দলিল হিসেবে পরিচিত→মেগাস্থিনিসের ‘ইন্ডিকা’ গ্রন্থটি।
  • চন্দ্রগুপ্ত প্রথম উচ্ছেদ সাধন করেন→মগধ থেকে নন্দ বংশের।
  • চন্দ্রগুপ্তের পর সিংহাসনে বসেন→বিন্দুসার।৩০০-২৭৩খ্রিস্টপূর্ব।
  • ইতিহাসে অমিত্রাঘাত নামে পরিচিত ছিলেন→বিন্দুসার।
  • মৌর্যযুগে গুপ্তচরকে ডাকা হতো→সঞ্চার নামে।
  • বৌদ্ধ ধর্মের প্রসারের জন্য সম্রাট অশোককে বৌদ্ধ ধর্মের ‘কনস্ট্যাস্টাইন’ বলে খ্যাত।
  • প্রাচীন ভারতের শ্রেষ্ঠ সম্রাট  ছিলেন→সম্রাট অশোক।
  • উপমহাদেশের বৌদ্ধ ধর্মের প্রসার ঘটে→সম্রাট অশোকের আমলে।

গুপ্ত বংশঃ গুপ্ত যুগকে প্রাচীন ভারতীয় উপমহাদেরশর স্বর্ণযুগ বলা হয়। ভারতে গুপ্ত বংশের প্রকৃত প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন প্রথম চন্দ্রগুপ্ত।চন্দ্রগুপ্তের মৃত্যুর পর সমুদ্রগুপ্ত পাটালি পুত্রের সিংহাসন আরোহন করেন। তিনি ছিলেন গুপ্ত বংশের শ্রেষ্ট রাজা। তাঁকে প্রাচীন ভারতের ‘নেপোলিয়ন’ বলা হয়। সমুদ্রগুপ্তের মৃত্যুর পর দ্বিতীয় চন্দ্রগুপ্ত পাটালিপুত্রের সিংহাসনে বসেন। তাঁর উপাধি ছিল ‘বিক্রমাদিত্য’। অনেক প্রতিভাবান ও গুণী ব্যক্তি তাঁর দরবারে সমবেত হয়েছিলেন। তাদের মধ্যে প্রধান নয়জন কে ‘নবরত্ন’ বলা হয়।

  • প্রতিষ্ঠাতা → প্রথম চন্দ্রগুপ্ত
  • রাজধানী → পাটালি পুত্র
  • প্রথম চন্দ্রগুপ্তের উপাধি → মহারাজাধিরাজ
  • সর্বশ্রেষ্ঠ রাজা → সমুদ্র গুপ্ত
  • সমুদ্র গুপ্তের উপাধি → ভারতের নেপোলিয়ান
  • ২য় চন্দ্রগুপ্তের উপাধি → বিক্রমাদিত্য (সিংহ বীর ছিলো)
  • ফা-হিয়েন বাংলায় আসেন  → ২য় চন্দ্র গুপ্তের শাসনামলে
  • গুপ্ত বংশের সর্বশেষ রাজা → হর্ষবর্ধন (পুষ্যভূতি)
  • দ্বিতীয় চন্দ্রগুপ্তের সময় → জ্ঞান  বিজ্ঞানে উত্কর্ষতা অর্জন করে গুপ্ত সম্রাজ্য।
  • গুপ্ত যগকে বলা হয় → ভারতের স্বর্ণযুগ।

গুপ্ত পরবর্তী যুগঃ গুপ্ত সাম্রাজ্যের পতনের পর বঙ্গ দেশে দুটি স্বাধীন রাজ্য ‘বঙ্গ’ ও ‘গৌড়’ অংশে বিভক্ত হয়। দক্ষিণ-পূর্ব বাংলা ও পশ্চিম বাংলার দক্ষিণাঞ্চল ছিলো। ‘বঙ্গ রাজ্য ’ এবং বাংলার পশ্চিমাঞ্চল ও উত্তরাঞ্চল নিয়ে ছিল গৌড় রাজ্য।

গৌড় বংশঃ গৌড় রাজ্যের প্রথম স্বাধীন সার্বভৌম রাজা হলেন শশাঙ্ক। শশাঙ্ক প্রথম বাঙালি রাজা। সপ্তম প্রথম ভাগে রাজা শশাঙ্ক গৌড় শাসন করেন। তার রাজধানী ছিল কর্ণসুবর্ণ।রাজ্য বিস্তারের মাধ্যেমে তিনি পূর্ব ভারতের সম্রাট হন এবং মহারাজাধিরাজ উপাধি গ্রহণ করেন। তিনি প্রাচীন বাংলার জনপদগুলোকে গৌড় নামে একত্রিত করেন।


নালান্দা বিশ্ববিদ্যালয়ঃ নালন্দা ভারতের বিহার রাজ্যে একটি প্রাচীন উচ্চশিক্ষা কেন্দ্র। খ্রিষ্টীয় ৪২৭ অব্দ থেকে ১১৯৭ অব্দের মধ্যবর্তী সময়ে নালান্দা ছিল একটি প্রসিদ্ধ বৌদ্ধশিক্ষা কেন্দ্র। নালান্দা বিশ্ববিদ্যালয় নামক এই মহাবিহারকে ইতিহাসের শ্রেষ্ঠ প্রাচীন বিশ্ববিদ্যালয়গুলির অন্যতম মনে করা হয়। তুর্কি সেনাপতি ইখতিয়ার উদ্দিন মুহাম্মদ বিন বখতিয়ার  খলজি নালন্দা মহাবিহার ধ্বংস করে ফেলেন ১২০০ সালে। ৫জন ছাত্রীসহ মোট ১৫ জন শিক্ষার্থী, ১১ জন শিক্ষক সহ ২০১৪ সালে পুনরায় নালন্দা আন্তর্জাতিক বিশ্ববিদ্যালয় চালু হয়।

  • প্রাচীন জনপদগুলোকে গৌড় নামে একত্রিত করেন → রাজা শশাংক
  • শশাংকের উপাধি ছিল → “মহাসামন্ত” ও রাজধিরাজ।
  • বাংলার ১ম স্বাধীন সার্বভৌম রাজা বা নৃপতি হলেন →  রাজা শশাংক।
  • গৌড় রাজ্যের রাজধানী ছিল → কর্ণসূবর্ণ
  • বর্তমানে বাংলাদেশের চাপাইনবাবগঞ্জ জেলা → গৌড় রাজ্যের অন্তর্ভূক্ত ছিল।
  • রাজা শশাংক পরবর্তী যুগকে বলা হয় → ‘মাত্সান্যায়’
  • মাত্সান্যায় যুগ বলা হয়→ ৭ম-৮ম শতাব্দীকে
  • শশাঙ্কের শাসনের ইতিহাস জানা যায় → বৌদ্ধগ্রন্থ ‘আর্যমঞ্জুশ্রীমূলকল্প’ গ্রন্থ থেকে।
  • হিউয়েন সাঙ বৌদ্ধধর্মের নিগ্রহকারী হিসেবে অভিহীত করেছেন → শশাঙ্ককে
  • পূষ্যভূতি বংশের শ্রেষ্ঠ রাজা হলেন → হর্ষ বর্ধন।
  • তার রাজত্বকাল → ৬৩০-৬৪৩ খ্রিস্টাব্দ।
  • হর্ষ বর্ধনের রাজধানী → কৌনজ।
  • হর্ষর্বধনের সভাকবি → বানভট্ট।
  • বানভট্টের বিখ্যাত গ্রন্থ → হর্ষচরিত।
  • নালন্দা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেন → হর্ষবর্ধন।
  • হর্ষবর্ধনের সময় আগত পরিব্রাজক → ইয়াং সাং।

পাল সম্রাজ্যঃ  ‘পাল বংশ’ বাংলার প্রথম স্বাধীন ও দীর্ঘস্থায়ী রাজবংশ। প্রায় চারশত বছর (৭৫০-১১৬১ সাল) পাল রাজারা বাংলা শাসন করে। রাজা গোপাল মত্সন্যায়ের মতো দুর্যোপূর্ণ সময়ে বাংলার সিংহাসনে স্বীয় যোগ্যতাবলে আরোহণ করে পাল বংশের গোড়াপত্তন করেন ৭৫৬ সালে। পাল রাজাদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ রাজা ছিলেন ধর্মপাল।

  • পাল বংশের প্রতিষ্ঠাতা → গোপাল
  • পাল বংশের শাসনকাল → ৭৫০ খ্রিঃ – ১১২৪ খ্রিঃ পর্যন্ত
  • পাল রাজারা ছিলেন → বৌদ্ধ ধের্মর অনুসারী
  • পাল রাজ্যের রাজধানী → পাহাড়পুর/সোমপুর (নওগাঁ)
  • বংশানুক্রমিক শাসন প্রবর্তন করেন → পাল রাজারা
  • পাল বংশের শ্রেষ্ঠ রাজা → ধর্মপাল
  • ধর্মপালকে সময় সংঘটিত যুদ্ধ → ত্রিক্তির সংঘর্ষ
  • ধর্মপালের অসামান্য অবদান → ৮ম শতকে পাহাড়পুর বৌদ্ধ বিহার নির্মাণ
  • পাল বংশের শেষ রাজা → রামপাল
  • বাংলার দীর্ঘস্থায়ী রাজবংশ → পাল বংশ
  • পাল যুগে রচিত হয় → চর্যাপদ ও রামচরিত
  • “রাম চরিত্র” গ্রন্থের লেখক → সন্ধ্যাকর নন্দী
  • দেবপালের পৃষ্ঠপোষকতায় নালন্দা বিশ্ববিদ্যালয় → এশিয়ার বৌদ্ধ সাংস্কৃতিক প্রধান কেন্দ্র হয়ে উঠেছিলো।
  • দ্বিতীয় মহিপালের মাসনামলে বাংলায় → ‘কৈবর্ত বিদ্রোহ’ নামে এক বিদ্রোহ সংঘটিত হয়।
  • কৈবর্ত বিদ্রোহ বিদ্রোহ বাংলার ইতিহাসে → প্রথম সফল বিদ্রোহ।
  • কৈবর্ত বিদ্রোহের নেতা ছিলেন কৈবর্ত নায়ক → ‘দিব্যোক বা দিব্য।
  • নওগাঁর সোমপুর বিহারের প্রতিষ্ঠাতা করেন → ধর্মপাল।
  • নালন্দা বিহারের আচর্য ছিলেন → মহাস্থাবীর শীলভদ্র।
  • চীনা পরিব্রাজক হিউয়েন সাং এর দীক্ষাগুরু ছিলেন → শীলভদ্র।

সেন বংশঃ হেমন্ত সেন ছিলেন বাংলায় হিন্দু ‘সেন’ রাজ বংশের প্রতিষ্ঠাতা এবং সেন বংশের মূল প্রতিষ্ঠাতা সামন্ত সেনের পুত্র। সামন্ত সেন কোনো রাজ্য প্রতিষ্ঠা করেননি এবং রাজা উপাধি ধারণ করনে নি। কিন্তু তার পুত্র হেমন্ত সেন স্বাধীন সেন রাজ্য প্রতিষ্ঠা করে ‘প্রথম মহারাজ’ উপাধি ধারণ করেন।হেমন্ত সেনের মৃত্যুর পর তাঁর পুত্র বিজয় সেন সেন বংশের রাজা হন। কৈবর্ত বিদ্রোহের সময় তিনি রামপালকে সাহায্য করেন।বিজয় সেনই ছিলেন সেন বংশের শ্রেষ্ঠ রাজা। বল্লাল সেন বিজয় সেনের পুত্র তিনি হিন্দু ধর্মের কৈলিন্য প্রথার প্রবর্তন করেন। ‘দানসাগর’ ও ‘অদ্ভুতসাগর’ নামে দুটি গ্রন্থ তিনি রচনা করেন। বল্লাল সেনের পুত্র লক্ষণ সেন পিতার অসমাপ্ত ‘অদ্ভুতসাগর’ গ্রন্থটি তিনিই সমাপ্ত করেন। ১২০৪ সালে মুসলিম সেনাপতি ইখতিয়ার উদ্দিন মুহাম্মদ বিন বখতিয়া খলজী লক্ষণ সেনকে পরাজিত করে বাংলায় সেন শাসনের অবসান ঘটান।

  • সেন বংশের প্রতিষ্ঠাতা → সামন্ত সেন
  • সময়কাল ১০৫০ খ্রিঃ → ১২৩০ খ্রিঃ পর্যন্ত
  • সেনবংশের শ্রেষ্ঠরাজা → বিজয়সেন
  • বিজয় সেনের উপাধি → মহারাজাধিরাজ
  • শেষ রাজা/ বাংলা শেষ হিন্দু রাজা  → লক্ষণ সেন
  • সেন রাজারা ছিলেন → হিন্দু ধর্মের অনুসারী
  • কৌলিণ্য প্রথার প্রবর্তন করেন → বল্লাল সেন
  • পেশাভিত্তিক বর্ণবাদ চালু করেন → সেন রাজারা
  • সমগ্র বাংলা এক শাসনাধীনে আসে → সেন আমলে
  • লক্ষণ সেনকে পরাজিত করেন → বিখ্যাত মুসলিম সেনাপতি ইখতিয়ার উদ্দিন মুহাম্মদ বখতিয়ার খিলজী ১২০৪ সালে।
  • বখতিয়ার খিলজীর বিজয়ের মাধ্যমে বাংলায় → মুসলমানদের রাজত্ব কায়েম হয়।
  • সেন যুগে বাংলা বর্ণমালা গঠনের কাজ শুরু হয় → বলে মনে করা হয়।
  • ‘দান সাগর ও অদ্ভুদ সাগর’ রচনা করেন → বল্লাল সেন।

এক নজরে পর্যাটকগণঃ

  • পর্যাটকগণের নাম ↔ জাতীয়তা    ↔ আগমন           ↔ তত্কালীন শাসক
  • ইবনে বতুতা    ↔ মরক্কো     ↔১৩৪৫-৪৬ সনে      ↔ ফখরুদ্দিন মোবারক শাহ
  • মেগাস্থিনিস      ↔ গ্রীক      ↔খ্রিষ্টপূর্ব ৩০২ সনে     ↔ প্রথম চন্দ্র গুপ্ত
  • ফা-হিয়েন      ↔ চীনা       ↔৩৮০-৪১৪ খ্রিষ্টাব্দ    ↔ দ্বিতীয় চন্দ্রগুপ্ত
  • হিউয়েন সাং    ↔ চীনা       ↔৬৩০-৬৪৪ খ্রিষ্টাব্দ    ↔ হর্ষবর্ধনের শাসনামলে
  • মা-হুয়ান       ↔ চীন       ↔১৪০৫-১৪৩৩ সালে   ↔ গিয়াস উদ্দিন আজম শাহ
  • মার্কো পেলো    ↔ ইতালি     ↔১৪১৭ সালে            ↔ নাসিরুদ্দিন মাহমুদ শাহ
  • নিকল দ্য কন্ট্রি   ↔ ইতালি      ↔ ১৪৩০-৪০

বাংলার শাসনকাল ও রাজধানীঃ

  • বংশ/যুগ ↔ শাসনকাল ↔ রাজধানী
  • মৌর্য বংশ↔খ্রিষ্টপূর্ব ৩২৪-২৩২↔পুন্ড্রনগর
  • গুপ্ত বংশ ↔৪র্থ-৬ষ্ঠ শতাব্দী↔ কর্ণসূবর্ণ
  • পাল বংশ   ↔৭৫০-১১২৪ খ্রিষ্টাব্দ ↔পাহাড়পুর/সোমপুর
  • সেন বংশ  ↔১০৫০-১২৩০ খ্রিষ্টাব্দ ↔ নদীয়া ও বিক্রমপুর
  • তুর্কী বংশ↔ ১২০৪-১৩২৪ খ্রিস্টাব্দ ↔    নদীয়া
  • স্বাধীন সুলতানী আমল ↔  ১৩৩৮-১৫৩৮ খ্রিস্টাব্দ ↔ গৌড় ও সোনারগাও
  • মুঘল আমল ↔১৫২৬-১৭৫৭ খ্রিস্টাব্দ↔ রাজমহল (১৫৭৫)

বিসিএস প্রাচীন বাংলার ইতিহাস সম্পূর্ণ তুলে ধরা হলো। আমাদের পোষ্টটি যদি আপনাকে ভালো লাগে তবে অবশ্যই শেয়ার করে সকলের মাঝে ছড়িয়ে দিবেন।বিসিএস প্রাচীন বাংলার ইতিহাস এর এমসিকিউ পেতে আমাদের সাথে থাকুন।

Spread the love

2 thoughts on “বিসিএস প্রাচীন বাংলার ইতিহাস

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *