মহাজাগতিক কিউরেটর- মুহম্মদ জাফর ইকবাল

মহাজাগতিক কিউরেটর- মুহম্মদ জাফর ইকবাল

মহাজাগতিক কিউরেটর – মুহম্মদ জাফর ইকবাল

 লেখক পরিচিতি :

নাম: মুহম্মদ জাফর ইকবাল।

জন্মপরিচয় জন্মতারিখ : ২৩ ডিসেম্বর, ১৯৫২ খ্রিস্টাব্দ।
জন্মস্থান : সিলেট শহর।
পৈতৃক নিবাস : নেত্রকোণা জেলা।
পিতৃ- পরিচয় পিতার নাম : শহিদ ফয়েজুর রহমান আহমেদ।

শিক্ষাজীবন মাধ্যমিক : এসএসসি(১৯৬৮ খ্রিস্টাব্দ), জিলা স্কুল, বগুড়া।
উচ্চ মাধ্যমিক : এইচএসসি (১৯৭০ খ্রিস্টাব্দ), ঢাকা কলেজ।
উচ্চতর শিক্ষা : স্নাতক সম্মান (পদার্থবিজ্ঞান), ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (১৯৭৩ খ্রিস্টাব্দ)। স্নাতকোত্তর (তাত্তি¡ক
পদার্থবিজ্ঞান) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (১৯৭৪ খ্রিস্টাব্দ)। যুক্তরাষ্ট্র থেকে পিএইচডি ডিগ্রি লাভ।
কর্মজীবন/পেশা রিসার্চ অ্যাসিস্ট্যান্ট, ইউনিভার্সিটি অব ওয়াশিংটন. যুক্তরাষ্ট্র অধ্যাপক কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ, শাহাজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, সিলেট।
সাহিত্য কর্ম আমি তপু, বৃষ্টির ঠিকানা, প্রোজেক্ট নেবুলা, টুকুনজিল, রবো নগরী, নি:সঙ্গ গ্রহচারী’, ‘নিতু ও তার বন্ধুরা’, ক্রমিয়াম অরণ্য, দীপু নাম্বার টু’ ইত্যাদি।
পুরস্কার ও সম্মাননা: বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার (২০০৪ খ্রিস্টাব্দ)।

 মুহাম্মদ জাফর ইকবালের রচনাসমূহ মনে রাখার উপায়
উলে­খযোগ্য রচনা : আমি তপু এবং আমার বন্ধু রাশেদ মিলে দিপু নাম্বার টু মুভিটা দেখতে গেলাম।

 লেখক সম্পর্কে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য:

  • ১৯৮২ খ্রিস্টাব্দে তিনি ইউনিভার্সিটি অব ওয়াশিংটন থেকে পি এইচডি ডিগ্রি লাভ করেন।
  • কিশোর উপন্যাস ‘দীপু নাম্বার টু’ ‘আমার বন্ধু রাশেদ’ এবং আমি তপু’ তাঁর অন্যতম শ্রেষ্ঠ রচনা।
  • ২০০৪ খ্রিস্টাব্দে বিজ্ঞান লেখক হিসেবে তিনি ‘বাংলা একাডেমি’ পুরস্কার লাভ করেন।
  • মুহম্মদ জাফর ইকবাল বাংলা ভাষায় রচিত সায়েন্স ফিকশন বা বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনীর একচ্ছত্র সম্রাট।
  • মাতৃভূমি, মানুষ ও ধরিত্রীর প্রতি নৈতিক দায়বদ্ধতা তাঁর সাহিত্যিক মানসের প্রধান বৈশিষ্ট্য।
  • বাংলাদেশের বিজ্ঞানরূপী তরুণ – প্রজন্মের তিনি আইডল বা আদর্শ।
  • কিশোর উপন্যাস এবং ছোটগল্প রচনাতেও তিনি দক্ষতার স্বাক্ষর রেখেছেন।
  • ‘কপোট্রনিক সুখ দু:খ রচনার মাধ্যমে এ ধারার সাহিত্য তাঁর প্রথম আবির্ভাব।
  • ‘মহাকাশ মহাত্রাস’, টুকুনজিল, ‘নি:সঙ্গ গ্রহচারী’ , ‘একজন অতিমানবী’, ‘ফোবিয়ানের যাত্রী সহ অনেক পাঠকপ্রিয় সায়েন্স ফিকশন বা বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনীর তিনি স্রষ্টা।

 উৎস পরিচিতি
‘মহাজাগতিক কিউরেটর’ গল্পটি ‘জলজ’ গ্রন্থের অন্তর্গত ‘সায়েন্স ফিকশন সমগ্র’ তৃতীয় খণ্ড (২০০২) থেকে গৃহীত হয়েছে।

 মূলবাণী/মর্মবাণী/উপজীব্য বিষয় : মানুষের বিধ্বংসী রূপ।

 শব্দার্থ ও টীকা:

  1. মহাজাগতিক – মহাজগৎ সম্বন্ধীয়।
  2. কিউরেটর – জাদুঘর রক্ষক।
  3. প্রজাতি – প্রাণীর বংশগত শ্রেণি।
  4. এককোষী – একটিমাত্র কোষবিশিষ্ট প্রাণী।
  5. সরীসৃপ – বুকে ভর দিয়ে চলে এমন প্রাণী।
  6. নিউক্লিয়ার বোমা – পারমাণবিক বোমা।
  7. গ্যালাক্সি – ছায়াপথ।

 মহাজাগতিক কিউরেটর সম্পর্কিত গুরুত্বপূর্ণ লাইন:
 সৌরজগতের তৃতীয় গ্রহটি খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে দেখে তারা বেশ সন্তুষ্ট হলো। প্রথম প্রাণীটি বলল, ‘এখানে প্রাণের বিকাশ হয়েছে।
 দ্বিতীয় প্রাণীটি আরও একটু খুঁটিয়ে দেখে বলল, ‘না। আসলে এটি জটিল প্রাণ নয়। খুব সহজ এবং সাধারণ।
 সব প্রাণীর জন্য মূল গঠনটি হচ্ছে ডিএনএ দিয়ে, সব প্রাণীর ডিএনএ একই রকম, সবগুলো একই বেস পেয়ার দিয়ে তৈরি।
 আবার এই হাতি বা নীল তিমি নিয়েও কাজ নেই, এদের আকার বেশি বড়।
 ‘সাপটি বেশ কৌতুহলোদ্দীপক, কিন্তু এটা সরীসৃপ।
 সরীসৃপের দেহের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রিত নয়, ঠাণ্ডার মাঝে এরা কেমন যেন স্থবির হয়ে পড়ে।
 কী সুন্দর হলুদের মাঝে কালো ডোরাকাটা। একটা সামাজিক প্রাণী নিতে পারি না?’
 একটা খাঁটি প্রাণী নেওয়া প্রয়োজন। হরিণ নিলে কেমন হয়?
 এদের কেউ শ্রমিক, কেউ সৈনিক, কেউ বুদ্ধিজীবী।’
 এই দেখ এরা শহর-বন্দর-নগর তৈরি করেছে। কত বিশাল বিশাল নগর তৈরি করেছে।
 তারপর প্রথম প্রাণিটি বলল, ‘না মানুষকে নেওয়া ঠিক হবে না।
 হঠাৎ করে প্রথম প্রাণিটি আনন্দের ধ্বনি দিয়ে ওঠে। দ্বিতীয় প্রাণীটি অবাক হয়ে বলল, ‘কী হয়েছে?’
 বংশ বিস্তারের জন্য চমৎকার একটা পদ্ধতি আছে।
 দেখ এরাও মানুষের মতো চাষাবাদ করতে পারে ।
 অত্যন্ত সুবিবেচক। আগে থেকে খাবার জমিয়ে রাখছে। আর বিপদে কখনো দিশেহারা হয় না।
 অন্যকে বাঁচানোর জন্য অকাতরে প্রাণ দিয়ে যাচ্ছে।’
 পৃথিবীর এই চমৎকার প্রাণীটা নেওয়াই সবচেয়ে সুবিবেচনার কাজ হবে।’

  উলে­খ আছে:

গ্রহ – তৃতীয় গ্রহ (পৃথিবী)
প্রাণী- হাতি, নীল তিমি, সাপ, বাঘ, কুকুর, হরিণ, ডাইনোসর, পিঁপড়া, ভাইরাস, ব্যাকটেরিয়া
প্রাণীর প্রজাতি-সরীসৃপ, স্তন্যপায়ী, এককোষী, পরজীবী।
বোমা- নিউক্লিয়ার,
রং- হলুদ, কালো, নীল
মহাজাগতিক কিউরেটর শব্দটি রয়েছে- ১ বার

 মানুষ সম্পর্কিত তথ্য:
পৃথিবীর সবথেকে আলোড়ন সৃষ্টিকারী প্রাণী
এরা সমাজবদ্ধ হয়ে থাকে।
এদের কেউ শ্রমিক, কেউ সৈনিক, কেউ বুদ্ধিজীবী।
এরা শহর-বন্দর-নগর তৈরি করেছে। বিশাল বিশাল নগর তৈরি করেছে।
দুই মিলিয়ন বছর আগে জন্ম নিয়েছে।

 এ গল্পে পিঁপড়া সম্পর্কে তথ্য:
সামাজিক প্রাণী। এরাও দল বেঁধে থাকে।
এদের মাঝেও সৈনিক আছে, শ্রমিক আছে।
বংশ বিস্তারের জন্য চমৎকার একটি পদ্ধতি আছে।
শুধু সুশৃঙ্খল নয়, এরা অসম্ভব পরিশ্রমী, গায়ে প্রচন্ড জোর, নিজের শরীর থেকে দশগুণ বড় জিনিস অনায়াসে নিতে পারে।
ডাইনোসরের যুগ থেকে বেঁচে আছে।

 ১ম প্রাণীর উক্তিসমূহ:
এখানে প্রাণের বিকাশ হয়েছে’
আমি বুঝতে পারছি না তুমি কেন এই পার্থক্যকে বাহ্যিক বলছ।
আমার এই প্রাণীটি খুব পছন্দ হয়েছে। এটাকে বলে পাখি। কী চমৎকার আকাশে উড়তে পারে।
এই প্রাণীটিকে মানুষ পোষ মানিয়ে রেখেছে, প্রাণীটা নিজেদের স্বকীয়তা হারিয়ে ফেলেছে।
না মানুষকে নেওয়া ঠিক হবে না। এরা মাত্র দুই মিলিয়ন বছর আগে জন্ম নিয়েছে।

 ২য় প্রাণীর উক্তিসমূহ:
না আসলে এটি জটিল প্রাণী নয়। খুব সহজ এবং সাধারণ।
আমরা বিশ্বব্রহ্মান্ডের সব গ্রহ নক্ষত্র ঘুরে সর্বশ্রেষ্ঠ প্রাণীগুলোকে সংগ্রহ করে যাচ্ছি-কাজটি সহজ নয়।
মহাজাগতিক কাউন্সিল আমাদের কিউরেটরের দায়িত্ব দিয়েছে। আমাদের খুব চিন্তা-ভাবনা করে প্রাণীগুলো বেছে নিতে হবে। ঠিক বলেছ। দেখ এরাও মানুষের মতো চাষাবাদ করতে পারে। মানুষ যেরকম নিজেদের সুবিধার জন্য পশুপালন করতে পারে এদেরও ঠিক সেরকম ব্যবস্থা আছে।

 প্রথম ও শেষ লাইন

 প্রথম লাইন: সৌরজগতের তৃতীয় গ্রহটি খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে দেখে তারা বেশ সন্তুষ্ট হলো।
 শেষ লাইন: দুজন মহাজাগতিক কিউরেটর সৌরজগতের তৃতীয় গ্রহটি থেকে কয়েকটি পিঁপড়া তুলে নিয়ে গ্যালাক্সির অন্য গ্রহ-নক্ষত্রে রওনা দেয়, দীর্ঘদিন থেকে বিশ্বব্রহ্মাণ্ড ঘুরে ঘুরে-তারা গুরুত্বপূর্ণ প্রাণী সংগ্রহ করেছে।

 সারমর্ম
অনন্ত মহাজগৎ থেকে আগত মহাজাগতিক কাউন্সিলের দুজন কিউরেটর এর বিভিন্ন প্রজাতির প্রাণীর নমুনা সংগ্রহে সৌরজগতের তৃতীয় গ্রহ পৃথিবীতে আগমনের তথ্য দিয়ে গল্পটির সূচনা। পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ প্রাণীর নমুনা সংগ্রহ করতে গিয়ে দুজন কিউরেটরের সংলাপ বিনিময়ের মধ্য দিয়ে গল্পটি নাট্যগুণ লাভ করেছে। প্রজাতির যাচাই বাছাই কালে পৃথিবীর নানা প্রাণীর গুণাগুণ কিউরেটরের সংলাপে উঠে আসে। ‘মানুষ’ নামক প্রজাতি বিবেচনার ক্ষেত্রে কিউরেটর দুজনের বস্তুনিষ্ঠ আলোচনা মূলত কল্পকাহিনীর লেখকেরও মনের কথা। দুজন কিউরেটর পৃথিবীর দিকে তাকিয়ে বুঝতে পারে মানুষের কারণেই হ্রাস ঘটে যাচ্ছে ওজোন স্তরের। মানুষই নির্বিচারে গাছ কেটে ধবংস করে চলছে প্রকৃতির ভারসাম্য। পরস্পর যুদ্ধে লিপ্ত হয়ে মানুষই নিউক্লিয়ার বোঝা ফেলেছে একে অন্যের উপর। এই পরিস্থিতিতেও তারা পৃথিবীর বুদ্ধিমান বলে কথিত। ‘মানুষ’ প্রজাতির নির্বুদ্ধিতায় তারা শঙ্কিত হয়। অবশেষে তারা পরিশ্রমী সুশৃঙ্খল সামাজিক প্রাণী পিঁপড়াকেই শনাক্ত করে পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ প্রজাতি হিসেবে। ডাইনোসররের যুগ থেকে এখনো বেঁচে থাকা সুবিবেচক ও পরোপকারী পিঁপড়াকে তারা পৃথিবীর গুরুত্বপূর্ণ প্রাণী বিবেচনায় সংগ্রহ করে নিয়ে যায়। কল্পকাহিনীর রসের সঙ্গে সমাজ, পরিবেশ ও পৃথিবী সম্পর্কে সচেতন লেখকের তীব্র শ্লেষ ও পরিহাসের মিশ্রণ গল্পটিকে বিশিষ্ট করে তুলেছে।

 পাঠ বিশ্লেষণ

 ডি এন এ – ডি অক্সি রাইবো নিউক্লিক এসিড। এটি জীবদেহের গঠন ও ক্রিয়াকলাপের নিয়ন্ত্রণের জিনগত নির্দেশ প্রদান করে।
 বেস পেয়ার- ক্ষারীয় যুগল। এগুলো হলো এডোনিন (A), সাইটোসিস (C), গুয়ানিন (G) ও থায়ামিন (T)।
 “এখানে প্রাণের বিকাশ হয়েছে।”
পৃথিবীতে অসংখ্য ভিন্ন ভিন্ন প্রজাতির প্রাণীর উদ্ভব ও বিকাশ হয়েছে। এরা বেশ পরিণত প্রাণের অধিকারী। ক্ষুদ্র এককোষী থেকে লক্ষ কোটি কোষের প্রাণীও এখানে আছে।
 “প্রাণীগুলো সব একইভাবে তৈরি হয়েছে।”
ভিন্ন ভিন্ন প্রজাতির পার্থক্যগুলো বাহ্যিক। আসলে কোন মৌলিক পার্থক্য নেই। সব প্রাণীর মূল গঠনটি হচ্ছে ডি এন দিয়ে। সব প্রাণীর ডি এন এ একই রকম এবং একই বেস পেয়ার দিয়ে তৈরি। কোন প্রাণীর নীলনকশা সহজ, কোনটির জটিল- এটুকুই পার্থক্য।
 “আমি ভেবেছিলাম এরা বুদ্ধিমান প্রাণী।”
মানুষ নিজেরাই নিজেদেরকে এ গ্রহের শ্রেষ্ঠ প্রাণী বলে। কিউরেটরদ্বয় তা মনে করে না। তাদের জিজ্ঞাসা- বুদ্ধিমান বা শ্রেষ্ঠ হলে নিজেরাই নিজেদের মারাত্মক ক্ষতির কারণ হয় কী করে? তারা বাতাস, মাটি, পানি দূষিত করছে। বাতাসে তেজস্ক্রিয় পদার্থ ছড়িয়ে দেওয়ায় ওজোন স্তর নষ্ট হচ্ছে। গাছপালা কেটে সাবাড় করছে। একে অন্যের ওপর নিউক্লিয়ার বোমা ফেলছে। পৃথিবীকে ধবংস করার দ্বারপ্রান্তে পৌছে দিয়েছে মানুষ। কাজেই মানুষ বুদ্ধিমান বা শ্রেষ্ঠ প্রাণী নয়।
 “আসলে এটি জটিল প্রাণ নয়। খুব সহজ এবং সাধারণ।”
ভিন্ন ভিন্ন প্রজাতির প্রাণ শুরু হয়েছে ক্ষুদ্র ভাইরাস থেকে, যা নিজেই প্রাণ নয়। তারপর রয়েছে এককোষী ব্যাকটেরিয়া। গাছপালা এক জায়গায় স্থির। আছে নানা রকম কীটপতঙ্গ। পানিতে এবং স্থলভাগেও আছে নানা রকম প্রাণী। এদের মধ্যে নি¤œশ্রেণির বুদ্ধির বিকাশ হয়েছে। তাই সহজ ও সাধারণ।

 “মানুষ নিজেদের ধ্বংস করে ফেলার পরও এরা বেঁচে থাকবে।”
মারণাস্ত্রের আঘাতে মানুষ একসময় নিজেরাই নিজেদেরকে ধ্বংস করে ফেলবে। তখনও বেঁচে থাকবে পিঁপড়া। কারণ পিঁপড়া বুদ্ধিদীপ্ত। এরা প্রকৃতির কারও কোন ক্ষতি করে না। এদের রাজা রাণি, শ্রমিক, সৈনিক আছে। বংশবিস্তারের পদ্ধতি আছে। এরা নিজেদের জন্য বিশাল বাসস্থান তৈরি করতে পারে। এরা সুশৃঙ্খল ও পরিশ্রমী। এদের মধ্যে কোন ঝগড়া বিবাদ নেই, যার যা দায়িত্ব তা পালন করে। এরা সুবিবেচক, বিপদের কথা চিন্তা করে খাদ্য জমিয়ে রাখে। অন্যকে বাঁচানোর জন্য অকাতরে প্রাণ দেয় এরা। এরা ডাইনোসরের যুগ থেকে বেঁচে আছে এবং বেঁচে থাকবে।

 গুরুত্বপূর্ণ সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর (জ্ঞানমূলক)

১. ‘মহাজাগতিক কিউরেটর’ গল্পে কিউরেটরের উলে­খ আছে -২জনের।
২. ‘সৌরজগতের ৩য় গ্রহটি খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে দেখে তারা বেশ সন্তুষ্ট হলো-এখানে ৩য় গ্রহ বলতে বোঝানো হয়েছে – পৃথিবীকে।
৩. কিউরেটররা পৃথিবীতে এসেছিল – বিভিন্ন প্রজাতির প্রাণীর নমুনা সংগ্রহ করতে।
৪. ‘মহাজাগতিক কিউরেটর’ গল্পের ১ম উক্তি- এখানে প্রাণের বিকাশ হয়েছে।
৫. ‘মহাজাগতিক কিউরেটর’ গল্পের ১ম লাইন-সৌরজগতের ৩য় গ্রহটি খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে দেখে তারা বেশ সন্তুষ্ট হলো।
৬. ‘মহাজাগতিক কিউরেটর’ গল্পে ‘খুব সহজ এবং সাধারণ কথাটি দ্বারা বোঝানো হয়েছে- পৃথিবীর প্রাণের বিকাশকে।
৭. কিউরেটরদের মতে প্রাণের শুরু হয়েছে – ভাইরাস থেকে।
৮. প্রকৃতপক্ষে আলাদাভাবে প্রাণহীন বলা যায়- ভাইরাসকে।
৯. অত্যন্ত নিম্ন শ্রেণির বুদ্ধির বিকাশ হয়েছে – উষ্ণ রক্তের স্তন্যপায়ী প্রাণীদের একটির ভেতর।
১০. ‘এই ভিন্ন ভিন্ন প্রজাতির মাঝে আসলে কোন–নেই’ শূন্যস্থানে হবে – মৌলিক পার্থক্য।
১১. ‘এই ভিন্ন ভিন্ন প্রজাতির মাঝে আসলে কোন মৌলিক পার্থক্য নেই’- উক্তিটি – ২য় কিউরেটরের।
১২. ‘তুমি ঠিকই বলেছ’ ১ম কিউরেটর এই উক্তিটি করে- বিস্ময়সূচক শব্দ করে।
১৩. সকল প্রাণীর মূল গঠিত হয়েছে- ডি এন এ দিয়ে।
১৪. কিউরেটরদের সর্বশ্রেষ্ঠ প্রাণী খোঁজার কাজ আরও কঠিন হয়ে গেল – সবগুলো প্রাণীর গঠন একই রকম হওয়ায়।
১৫. মানুষের নেতিবাচক দিক হিসেবে বলা হয়েছে – মানুষই নির্বিচারে গাছ কেটে ধ্বংস করে চলেছে প্রকৃতির ভারসাম্য।
১৬. মানুষেরা জন্ম হয়েছে – মাত্র ২ মিলিয়ন বছর আগে।
১৭. পুরো গ্রহটিকে ধ্বংস করে ফেলার অবস্থা করে ফেলেছে – মানুষ।
১৮. ঠাণ্ডার মাঝে স্থবির হয়ে পড়ে – সাপ।
১৯. নিজের শরীর থেকে দশ গুণ বেশি জিনিস অনায়াসে নিয়ে যেতে পারে – পিঁপড়া।
২০. পিঁপড়েরা বেঁচে আছে – সেই ডাইনোসরের যুগ থেকে।
২১. অন্যকে বাঁচানোর জন্য অকাতরে প্রাণ দিচ্ছে – পিঁপড়েরা।
২২. কিউরেটরদের মতে এক সময় পৃথিবীকে নিয়ন্ত্রণ করবে- পিঁপড়েরা।
২৩. ‘মহাজাগতিক কিউরেটর’ গল্পটি – ‘জলজ’ গ্রন্থের অন্তর্গত।
২৪. ‘মহাজাগতিক কিউরেটর’ গল্পটি নেয়া হয়েছে – ২০০২ সালে প্রকাশিত ‘সায়েন্স ফিকশন সমগ্র’ (৩য় খণ্ড) থেকে।
২৫. ‘মহাজাগতিক কিউরেটর’ গল্পটি একটি – বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনী।
২৬. পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ প্রাণীর নমুনা সংগ্রহ করতে গিয়ে দুজন কিউরেটরের সংলাপ বিনিময়ের মধ্য দিয়ে গল্পটি লাভ করেছে- নাট্যগুণ।
২৭. ‘এদের কেউ শ্রমিক, কেউ সৈনিক’- ‘মহাজাগতিক কিউরেটর’ গল্পে এ কথাটি বলা হয়েছে – মানুষ সম্পর্কে।
২৮. ‘এদের মাঝে শ্রমিক আছে, সৈনিক আছে- ‘মহাজাগতিক কিউরেটর’ গল্পের এ কথাটি বলা হয়েছে – পিঁপড়া সম্পর্কে।
২৯. ‘মানুষ’ নামক প্রজাতি বিবেচনার ক্ষেত্রে কিউরেটর দুজনের বস্তুনিষ্ঠ আলোচনা মূলত- কল্পকাহিনী লেখকেরও মনের কথা।

 অনুধাবনমূলক প্রশ্নোত্তর :
১। মানুষ পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ প্রাণী কি না এ বিষয়ে কিউরেটররাও সন্দেহ প্রকাশ করেছে কেন?
উত্তর : যেহেতু মানুষ নিজেরাই নিজেদেরকে ধ্বংস করে ফেলছে সেহেতু কিউরেটরদের সন্দেহ দেখা দিয়েছে মানুষ শ্রেষ্ঠ প্রাণী কি না। মানুষ পৃথিবীতে এসেছে দুই মিলিয়ন বছর পূর্বে। এর মধ্যেই মানুষ লোভের কারণে নানা অপকর্ম করে পৃথিবীর পরিবেশ ধ্বংস করে ফেলেছে। যুদ্ধ করে নিজেরাই নিজেদের মারছে। এক সময় হয়তো মানুষ জাতিই ধ্বংস হয়ে যাবে। এজন্যেই মানুষের শ্রেষ্ঠত্ব নিয়ে সন্দেহ দেখা দিয়েছে।

২। কিউরেটররা কেন পৃথিবীতে প্রাণের অস্তিত্ব সন্ধান করে?
উত্তর : সৌরজগতের বিভিন্ন অংশে বিদ্যমান প্রাণীদের নমুনা সংগ্রহের অংশ হিসেবে কিউরেটররা পৃথিবীতে প্রাণের অস্তিত্ব সন্ধান করে। মহাজাগতিক কিউরেটর দুজন দীর্ঘদিন থেকে বিশ্বব্রহ্মান্ড ঘুরে ঘুরে গুরুত্বপূর্ণ প্রাণীদের নমুনা সংগ্রহ করছিল। এসব প্রাণী তারা তাদের জাদুঘরে সংরক্ষণ করে রাখছিল। তারই ধারাবাহিকতায় তারা সৌরজগতের তৃতীয় গ্রহ পৃথিবীতে আসে এবং এখানে প্রাণের অস্তিত্বের সন্ধান করে।

৩। মহাজাগতিক কিউরেটরগণ নমুনা হিসেবে সাপকে নির্বাচন করল না কেন?
উত্তর : সরীসৃপ পর্বের প্রাণীদের সীমাবদ্ধতার কথা বিবেচনা করে মহাজাগতিক কিউরেটরদ্বয় নমুনা হিসেবে সাপকে নির্বাচন করল না। সাপ হচ্ছে সরীসৃপ পর্বের প্রাণী। এ পর্বের প্রাণীরা দেহের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে সক্ষম নয়। শীতের সময় এরা স্থবির হয়ে পড়ে। প্রাণিজগতে অন্য প্রাণীদের তুলনায় সরীসৃপরা একটু পিছিয়ে পড়া। এসব বিবেচনায় কিউরেটরগণ সর্বশ্রেষ্ঠ প্রাণীর নমুনা হিসেবে সাপকে নির্বাচন করল না।

৪। পিঁপড়াকে কেন সর্বশ্রেষ্ঠ প্রাণী বলা হয়েছে?
উত্তর : সামাজিক দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি নিরলস পরিশ্রমের দ্বারা জীবিকার্জন করে বলে পিঁপড়াকে সর্বশ্রেষ্ঠ প্রাণী বলা হয়েছে। পিঁপড়া অত্যন্ত পরিশ্রমী প্রাণী। তারা মানুষের মতো চাষাবাদ করে, পশুপালন করে আবার সামাজিক কর্মকান্ড অংশ নেয়। তারা কখনোই মানুষের মতো সভ্যতার উন্নয়নের নামে বিধ্বংসী কর্মকান্ড সঙ্গে জড়িত নয়। তাদের প্রতিটি কর্মকাÐ এঁকে অন্যের প্রতি সহযোগিতামূলক। এ কারণেই পিঁপড়াকে সর্বশ্রেষ্ঠ প্রাণী বলা হয়েছে।

৫। নিউক্লিয়ার বোমার প্রভাব কী?
উত্তর : নিউক্লিয়ার বোমা হচ্ছে প্রচান্ড শক্তিশালী এক ধরনের পারমাণবিক বোমা। বিশ্বের মহাশক্তিধর দেশগুলো প্রত্যেকেই বোমার মালিক। তারা অপেক্ষায় আছে যুদ্ধ লাগলেই এগুলো ব্যবহার করবে। কিন্তু সবাই একযোগে এ বোমা ব্যবহার করলে পৃথিবীর আর কোন অস্তিত্ব থাকবে না। নিউক্লিয়ার বোমার প্রভাবে অত্যন্ত মারাত্মক ও জীবনবিনাশী।

৬। সাপকে কেন কৌতূহলোদ্দীপক প্রাণী বলা হয়েছে?
উত্তর : সাপের আচরণের কারণেই তাকে কৌতূহলোদ্দীপক বলা হয়েছে। সাপকে মানুষ ভয় পায়। কিন্তু সাপই সবচেয়ে ভীতু প্রাণী। তারা অন্যের দ্বারা আক্রান্ত হতে পারে এই ভয়ে অন্যকে আক্রমণ করতে উদ্যত হয়। প্রাণিজগতের সরীসৃপ একটু পিছিয়ে পড়া প্রাণী। এরা শীতল রক্তের প্রাণী। এরা উভচরও বটে। যার ফলে সাপকে কিউরেটররা কৌতূহলোদ্দীপক প্রাণী বলেছে।

৭। কিউরেটররা ভাইরাস ও ব্যাকটেরিয়াকে সংরক্ষণ করতে চায়নি কেন? ব্যাখ্যা কর।
উত্তর : ভাইরাস ও ব্যাকটেরিয়া অত্যন্ত ক্ষুদ্র বলে কিউরেটররা সেগুলো সংরক্ষণ করতে চায়নি। মহাজাগতিক কিউরেটররা বিভিন্ন গ্রহ থেকে সর্বশ্রেষ্ঠ প্রাণীগুলোকে সংগ্রহ করছিল। পৃথিবীতে এসে তাদের প্রথম চোখ পড়ে ভাইরাস ও ব্যাকটেরিয়ার ওপর। কিন্তু তারা এদের আয়তনও খুব ছোটে। তাই কিউরেটররা ভাইরাস ও ব্যাকটেরিয়াকে সংরক্ষণ করতে চায়নি।

৮। ভাইরাস ও ব্যাকটেরিয়া কেন পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ প্রাণী নয়?
উত্তর : ভাইরাস ও ব্যাকটেরিয়া আকারে অনেক ছোট এবং এদের মধ্যে কোন বৈচিত্র্য লক্ষ করা যায় না। ‘মহাজাগতিক কিউরেটর’ গল্পে বর্ণিত দুটি মহাজাগতিক প্রাণী পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ প্রাণী নির্বাচনের ক্ষেত্রে ভাইরাস ও ব্যাকটেরিয়াকে পরীক্ষা করে। তারা প্রত্যক্ষ করে যে, প্রাণী বিকাশের সূচনা হয় ভাইরাস কিংবা ব্যাকটেরিয়া সম্পর্কিত ডিএন এর মাধ্যমে। কিন্তু এরা আকারে অনেক ছোট ও নির্জীব। উভয়েই ক্ষুদ্র ও গঠন বৈচিত্র্যহীন। আবার উভয়েই পরজীবী অর্থাৎ অপরের সাহায্য ব্যতীত প্রাণহীন। এ কারণে ভাইরাস বা ব্যাকটেরিয়া পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ প্রাণী নয়।

 উদ্দীপকের বিষয় :

 মানুষ ও প্রাণিজগৎ সম্পর্কে ধারণা।
 জগৎ সম্পর্কে বিচিত্র অভিজ্ঞতা।
 মানুষের নিষ্ঠুরতা।
 মানুষের পরিবেশ সচেতনতা।
 বুদ্ধিমান স্তন্যপায়ী প্রাণী।
 ভিনগ্রহের প্রাণী।
 প্রাণিজগতের বৈচিত্র্য।
 প্রাণী গঠনে ডিএন এর ভূমিকা।
 মানুষে মানুষে হানাহানির পরিবর্তে সম্প্রীতি সৃষ্টির আহ্বান।
 পিঁপড়ের ভবিষ্যতের খাদ্য সংগ্রহ।
 বৃক্ষনিধনে বিপন্ন পরিবেশ।
 প্রাণিবৈচিত্র্য প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষা করে।

 সারকথা : উৎকৃষ্ট এবং নিকৃষ্ট কর্মের ওপর নির্ভরশীল মানুষ ইতিবাচক কর্মকান্ডের মাধ্যমেই তার শ্রেষ্ঠত্বের প্রমাণ দিতে পারে। কর্মই শ্রেষ্ঠত্ব নির্ণয়ের মাপকাঠি।

নং বিষয় লেখক
আমার পথ কাজী নজরুল ইসলাম
বিড়াল বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
চাষার দুক্ষু বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত
সাম্যবাদী কাজী নজরুল ইসলাম
ঐকতান রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
বিভীষণের প্রতি মেঘনাদ মাইকেল মধূসুদন দত্ত
বায়ান্নর দিনগুলো শেখ মুজিবুর রহমান
অপরিচিতা রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
মাসি-পিসি মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
১০ জীবন ও বৃক্ষ মোতাহের হোসেন চৌধুরী
১১ আমি কিংবদন্তির কথা বলছি আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ
১২ নেকলেস গী দ্য মোপাসাঁ/ পূর্ণেন্দু দস্তিদার
১৩ রেইনকোট আখতারুজ্জামান ইলিয়াস
১৪ নূরলদীনের কথা মনে পড়ে যায় সৈয়দ শামসুল হক
১৫ তাহারেই পড়ে মনে সুফিয়া কামাল
১৬ ফেব্রুয়ারি ১৯৬৯ শামসুর রাহমান
১৭ রক্তে আমার অনাদি অস্থি  দিলওয়ার খান
১৮ সেই অস্ত্র আহসান হাবিব

 

See More

Like Our Facebook Page.

Spread the love

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *