মাসি পিসি- মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়

নাম  পিতৃদত্ত নাম   :  প্রবোধ কুমার বন্দ্যোপাধ্যায়।

সাহিত্যিক নাম :  মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়।

  • জন্মপরিচয়  জন্মতারিখ  :   ১৯ মে, ১৯০৮ খ্রিস্টাব্দ।
  • জন্মস্থান   :   দুমকা শহর, সাঁওতাল পরগনা, বিহার।
  • পৈত্রিক নিবাস :   মালবদিয়া, বিক্রমপুর, মুন্সিগঞ্জ।
  • পিতৃ ও মাতৃ পরিচয়    পিতার নাম    :   হরিহর বন্দোপাধ্যায়।
  • পেশা   :    অ্যাসিস্ট্যান্ট অফিসার, সেটেলমেন্ট বিভাগ ; ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট।
  • মাতার নাম :    নীরদাসুন্দরী দেবী।
  • শিক্ষাজীবন   মাধ্যমিক  :   ম্যাট্রিক (১৯২৬), মেদিনীপুর জিলা স্কুল।
  • উচ্চ মাধ্যমিক  :   আই এস সি (১৯২৮), ওয়েসলিয় মিশন কলেজ, বাঁকুড়া।
  • বি.এস.সি(গণিত) : কলকাতা প্রেসিডেন্সি কলেজ (অসমাপ্ত)।
  • কর্মজীবন/পেশা   সহসম্পাদক   :  বঙ্গশ্রী পত্রিকা।
  • পাবলিসিটি অ্যাসিস্টেন্ট :  ন্যাশনাল ওয়ার ফ্রন্টের প্রভিন্সিয়াল অর্গানাইজার দপ্তর।
  • যুগ্ম সম্পাদক  :  প্রগতি লেখক সংঘ।

সাহিত্যকর্ম  প্রথম গল্প : ‘অতসীমামী’ (১৩৩৫)।

উপন্যাস : ‘জননী (১৯৩৫), ‘দিবারাত্রির কাব্য’ (১৯৩৫), ‘পুতুলনাচের ইতিকথা’ (১৯৩৬), ‘পদ্মা নদীর মাঝি’ (১৯৩৬), ‘শহরতলী’ (১৯৪০), ‘অহিংসা’ (১৯৪১), ‘শহরবাসের ইতিকথা’ (১৯৪৬), ‘চতুস্কোণ’ (১৯৪৮), ‘সোনার চেয়ে দামী; (১৯৫১), ‘স্বাধীনতার স্বাদ’(১৯৫১), ‘ইতিকথার পরের কথা’ (১৯৫২),‘আরোগ্য’ (১৯৫৩), ‘হরফ’ (১৯৫৪), ‘হলুদ নদী সবুজ বন’(১৯৫৬)।

জীবনাবসান মৃত্যুতারিখ : ৩ ডিসেম্বর, ১৯৫৬, কলকাতা।

মানিক বন্দোপাধ্যায়ের রচনাসমূহ মনে রাখার উপায়:

উপন্যাস : ইতি কথার পরের কথা হল মানিক এর জননী আরোগ্য হয়ে স্বাধীনতার স্বাধ পেল এবং শহরতলীতে গিয়ে একটি চতুস্কোণ সোনার চেয়ে দামি উপহার কিনল। অহিংসা শহরবাসের ইতি কথা আর পুতুল নাচের ইতি কথা পদ্মা নদীর মাঝির মতোই দিবা রাত্রির কাব্য।

লেখক সম্পর্কে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য:

  • প্রথম গল্প- ‘অতসীমামী’ (মাত্র ২০ বছর বয়সে)।
  • প্রথম উপন্যাস- ‘পদ্মানদীর মাঝি’ (১৯৩৬ সাল)।
  • তাঁর বিখ্যাত উপন্যাস : জননী, দিবারাত্রির কাব্য, পদ্মানদীর মাঝি, পুতুলনাচের ইতিকথা, চিহ্ন প্রভৃতি।
  • সাহিত্যসাধনা – ৪০টি উপন্যাস ও ৩০০টি ছোট গল্প।
  • লেখকের উলে­খযোগ্য বৈশিষ্ট্য- বিজ্ঞানমনস্ক সমাজ    বাস্তবতার শিল্পী, মনোজগৎ তথা অনন্তজীবনের রূপকার।

মাত্র ৪৮ বছর তিনি বেঁচেছিলেন। কলকাতার প্রেসিডেন্সি কলেজে বিএসসি পড়ার সময়ে মাত্র বিশ বছর বয়সে বন্ধুদের সঙ্গে বাজি ধরে তিনি ‘অতসীমামী’ লিখে খ্যাতি অর্জন করেন।

বছর তিনেক মাত্র তিনি চাকরি ও ব্যবসায়িক কাজে নিজেকে জড়ালেও বাকি পুরো সময়টাই তিনি সার্বক্ষণিকভাবে সাহিত্যসেবায় নিয়োজিত ছিলেন।

  • তিনি সৃষ্টি করেছেন প্রায় চল্লিশটি উপন্যাস ও প্রায় তিনশো ছোটগল্প।
  • উপন্যাস ও ছোটগল্প লেখক হিসেবে মানিক বাংলা সাহিত্যে খ্যাতিমান।
  • অল্প সময়েই তিনি সৃষ্টি করেছেন প্রায় চল্লিশটি উপন্যাস ও তিনশো ছোট গল্প।
  • সেই সঙ্গে লিখেছেন কিছু কবিতা, নাটক প্রবন্ধ ও ডায়েরি।

উৎস পরিচিতি:

“মাসি-পিসি” গল্পটি প্রথম প্রকাশিত হয় কলকাতার ‘পূর্বাশা’ পত্রিকায় ১৩৫২ বঙ্গাব্দে চৈত্র সংখ্যায় (মার্চ-এপ্রিল ১৯৪৬)। পরে এটি সংকলিত হয় ‘পরিস্থিতি’ (অক্টোবর ১৯৪৬) নামক গল্পগ্রন্থে। বর্তমান পাঠ গ্রহণ করা হয়েছে ‘ঐতিহ্য’ প্রকাশিত মানিক-রচনাবলি পঞ্চম খন্ড থেকে।

মূলকথা/মর্মবাণী/উপজীব্য বিষয়:  পুরুষশাসিত সমাজের বিরুদ্ধে সংগ্রামী নারী।

শব্দার্থ:

  • সালতি – শালকাঠ নির্মিত বা তালকাঠের সরু ডোঙা।
  • কদমছাঁট  – মাথার চুল এমনভাবে ছাঁটা যে তা কদমফুলের আকার ধারণ করে।
  • লগি  –  হাত ছয়েক লম্বা সরু বাঁশ।
  • খপর  –  ‘খবর’ শব্দের আঞ্চলিক উচ্চারণ।
  • মেয়া  – ‘মেয়ে’ শব্দের আঞ্চলিক উচ্চারণ।
  • সোমত্ত – সমর্থ (সংসারধর্ম পালনে), যৌবনপ্রাপ্ত।
  • খুনসুটি  – হাসি-তামাশাযুক্ত বিবাদ-বিসম্বাদ বা ঝগড়া।
  • বেমক্কা  – স্থান-বর্হিভ‚ত।
  • পেটে শুকিয়ে লাথি  – পর্যাপ্ত খাবার না-জুগিয়ে কষ্ট দেওয়ার পাশাপাশি লাথি ঝাঁটার মাধ্যমে শারীরিকভাবে নির্যাতন করা।
  • কলকেপোড়া ছ্যাঁকা –  তামাক সেবনে ব্যবহৃত হুকার উপরে কলকেতে থাকে যে আগুন তা দিয়ে দগ্ধ করা।
  • ডালের বড়ি     –     চালকুমড়া ও ডাল পিষে ছোট ছোট আকারে তৈরি করা খাদ্যবস্তু।
  • পাঁশুটে   –     ছাইবর্ণবিশিষ্ট।
  • সড়গড়  –   রপ্ত, মুখস্থ।
  • ব্যঞ্জন –   রান্না-করা তরকারি।
  • বাজারের তোলা  –    বাজারে বিক্রেতাদের কাছ থেকে আদায় করা খাজনা।
  • কাটারি  –  কাটবার অস্ত্র।
  • এর্কি –   ‘ইয়ার্কি’ শব্দের আঞ্চলিক উচ্চারণ। রসিকতা ও হাস্য পরিহাস।
 নং বিষয় লেখক
আমার পথ কাজী নজরুল ইসলাম
বিড়াল বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
চাষার দুক্ষু বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত
সাম্যবাদী কাজী নজরুল ইসলাম
ঐকতান রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
বিভীষণের প্রতি মেঘনাদ মাইকেল মধূসুদন দত্ত
বায়ান্নর দিনগুলো শেখ মুজিবুর রহমান
অপরিচিতা রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
জীবন ও বৃক্ষ মোতাহের হোসেন চৌধুরী

সারমর্ম:

স্বামীর নির্মম নির্যাতনের শিকার পিতৃমাতৃহীন এক তরুণীর করুণ জীবন কাহিনী নিয়ে রচিত হয়েছে ‘মাসি-পিসি’ গল্প। আহ্লাদি নামক ওই তরুণীর মাসি ও পিসি দুজনই বিধবা ও নি:স্ব। তারা তাদের অস্তিত্বরক্ষার পাশাপাশি বিরুপ বিশ্ব থেকে আহ্লাদিকে রক্ষার জন্য যে বুদ্ধিদীপ্ত ও সাহসী সংগ্রাম পরিচালনা করে সেটাই গল্পটিকে তাৎপর্যপূর্ণ করে তুলেছে। অত্যাচারী স্বামী এবং লালসা উন্মত্ত জোতদার, দারোগা ও গুÐা-বদমাশদের আক্রমণ থেকে আহ্লাদিকে নিরাপদ রাখার ক্ষেত্রে অসহায় দুই বিধবার দায়িত্বশীল ও মানবিক জীবনযুদ্ধ খুবই প্রশংসনীয়। দুর্ভিক্ষের মর্মস্পর্শী স্মৃতি, জীবিকা নির্বাহের কঠিন সংগ্রাম, নারী হয়ে নৌকাচালনা ও সবজির ব্যবসায় পরিচালনা প্রভৃতি এ গল্পের বৈচিত্রময় দিক।

মাসি-পিসি সম্পর্কিত গুরুত্বপূর্ণ লাইন:

  • বজ্জাত হোক, খুনি হোক জামাই তো। ঘরে এলে খাতির না করব কেন?
  • আহ্লাদির সঙ্গে তার চেহারায় কোনো মিল নাই।
  • সোয়ামি নিতে চাইলে বৌকে আটকে রাখার আইন নেই।
  • শকুনরা উড়ে এসে বসছে পাতাশূন্য শুকনো গাছটায়।
  • তোর পিসে ছিল জগুর মতো।
  • সে-ই এখানকার কর্তা, সে-ই সর্বেসর্বা।
  • আয় না বজ্জাত হারামজাদারা, এগিয়ে আয় না।
  • আহ্লাদির বাপের আমলের গরুটা নেই, গামলাটা আছে।
  • যুদ্ধের আয়োজন করে তৈরি হয়ে থাকে মাসি-পিসি।

গুরুত্বপূর্ণ সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর (জ্ঞানমূলক):

  • মাসি-পিসি সম্পর্কিত গুরুত্বপূর্ণ লাইন
  • বজ্জাত হোক, খুনি হোক জামাই তো। ঘরে এলে খাতির না করব কেন?
  • আহ্লাদির সঙ্গে তার চেহারায় কোনো মিল নাই।
  • সোয়ামি নিতে চাইলে বৌকে আটকে রাখার আইন নেই।
  • শকুনরা উড়ে এসে বসছে পাতাশূন্য শুকনো গাছটায়।
  • তোর পিসে ছিল জগুর মতো।
  • সে-ই এখানকার কর্তা, সে-ই সর্বেসর্বা।
  • আয় না বজ্জাত হারামজাদারা, এগিয়ে আয় না।
  • আহ্লাদির বাপের আমলের গরুটা নেই, গামলাটা আছে।
  • যুদ্ধের আয়োজন করে তৈরি হয়ে থাকে মাসি-পিসি।

গুরুত্বপূর্ণ সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর (জ্ঞানমূলক)

  1. মাসি-পিসি’ গল্পে খালে পুরো ভাটার সময়কাল- শেষবেলা।
  2. খালের উপর পুলটি তৈরি – কংক্রিটের।
  3. পাড়ে খড় তোলা হচ্ছে – সালতি থেকে।
  4. আঁটিবাধা খড় বোঝাই ছিল – ২টি বড় সালতিতে।
  5. আহ্লাদির গায়ের শাড়ির রং ছিল – সাদা।
  6. আহ্লাদির পরিহিত শাড়িটির পাড় ছিল – নকশা করা।
  7. আহ্লাদি বসে ছিল – সালতির মাঝখানে।
  8. আহ্লাদির মুখের গড়ন = গোলগাল।
  9. মাসি-পিসি ফিরছে কৈলেশ’ কথাটি বলেছিল – বুড়ো রহমান।
  10. ও মাসি, ওগো পিসি, রাখো রাখো। খপর আছে শুনে যাও’ কথাটি বলল – কৈলেশ।
  11. মাসি পিসি সালতির গতি ঠেকায়- সামনের দিকে লগি পুঁতে।
  12. মাসি-পিসি যখন সালতির গায়ে ঠেকায় তখন আহ্লাদি ঘোমটা টেনে দেয় – সিঁথির সিঁদুর পর্যন্ত।
  13. জগু আহ্লাদিকে নিতে আসলে মাসি-পিসি জগুকে খাইয়েছিল- ছাগল বেচে।
  14. ফের আসুক, আদরে রাখব যদ্দিন থাকে’- উক্তিটি মাসির।
  15. অল্পকদিন আগে শ্বশুরবাড়িতে মারা গেছে- বুড়ো রহমানের মেয়ে।
  16. ছোট অবুঝ মেয়ে’- বলা হয়েছে- বুড়ো রহমানের মেয়ে সম্পর্কে।
  17. বুড়ো রহমানের মেয়ে ছিল – অনেক বেশি রোগা।
  18. বুড়ো রহমান তার মেয়ের মুখের ছাপ দেখতে পায়-আহ্লাদির ফ্যাকাশে মুখে।
  19. জগু এবার মামলা করবে- মাসি পিসির কাছ থেকে বউকে নেবার জন্য।
  20. মাসি ও পিসি মুখ চাওয়া চাওয়ি কর কয়েকবার- কৈলাশের মুখে জগুর মামলা করার কথা শুনে।
  21. পাতাশূন্য শুকনো গাছটায় উড়ে এসে বসেছে- শকুনরা।
  22. এ আশ্রয় ছেড়ে অল্প দূরে আরেকটা গাছের দিকে উড়ে গেল-১টি শকুন।
  23. ‘মাসি-পিসি’ গল্পে শকুনটি পাখা ঝাপটাছিল- ডাল ছেড়ে উড়তে আর নতুন ডালে গিয়ে বসতে।
  24. মায়ের বোন – মাসি।
  25. বাপের বোন – পিসি।
  26. আহ্লাদির বাবা কোনমতে ঠেকিয়েছিল – দুর্ভিক্ষ।
  27. আহ্লাদির কয়জনের পরিবার ছিল- ৪ জনের (আহ্ণাদি, তার বাবা, মা ও ভাই)।
  28. আহ্লাদির পরিবারের সবাই মারা যায়- মহামারীর একটা রোগ, কলেরায়।
  29. মাসি পিসির পরিধানের জন্য বছরে থান লাগত- ২ জোড়া।
  30. ‘বছরের পর বছর ধরে কিছু পুঁজি পর্যন্ত হয়েছিল দুজনের’- এখানে পুঁজি বোঝাতে উল্লেখ আছে- রূপোর টাকার।
  31. আহ্লাদির বাবা মাসি পিসির জন্য বরাদ্দ করে গিয়েছিল – থাকার জায়গা।
  32. মরণ ঠেকাতে মাসি পিসির ফুরিয়ে আসছিল – জীবনীশক্তি।
  33. মাসি-পিসি একে অপরকে সম্বোধন করত – বেয়াইন বলে।
  34. শহরের বাজারে দাম চড়া – তরিতরকারি ফলমূলের।
  35. মাসি পিসি ব্যবসা করত – গাঁ থেকে কিনে শহরের বাজারে তরি তরকারি ফলমূল বিক্রি করত।
  36. গাঁয়ের বাবু বাসিন্দারা নগদ পয়সার জন্য মাসি পিসির কাছে বেচতে দিত- বাগানের জিনিস।
  37. ‘মাসি-পিসি’ গল্পে উড়ে এসে জুড়ে বসার কথা বলা হয়েছে- মাসির ক্ষেত্রে।
  38. মাসির উপর একটা অবজ্ঞার ভাব ছিল – পিসির।
  39. মাসি-পিসি দুইজনের বয়স – সমান।
  40. মাসির সবচেয়ে অসহ্য লাগত – পিসির অহংকার আর খোঁচা।
  41. মাসি-পিসির ভিতরে বাপের বাড়ি নিয়ে অহংকার করত- পিসি।
  42. ‘এই বুঝি-একে অপরকে,এই বুঝি কাটে- দিয়ে’ শূন্যস্থানে হবে- কামড়ে দেয়, বঁটি।
  43. মাসি-পিসির মিল জমজমাট হয়ে উঠল-আহ্লাদির ভার ঘাড়ে পড়ায়
  44. নিজেদের পেট ভরানো শুধু নয়, নিজেদের বেঁচে থাকা শুধু নয়, তাদের দুজনেরই এখন- আছে’- শূন্যস্থানে হবে- আহ্লাদি।
  45. আহ্লাদিকে শ্বশুরবাড়ি পাঠানো হবে না এটা মাসি পিসি ঠিক করেছিল – বিনা পরামর্শে আপনা থেকেই।
  46. ‘নিজেকে তার ছ্যাচড়া, নোংরা, নর্দমার মতো লাগে’- এখানে বলা হয়েছে- আহ্লাদির কথা।
  47. মাসি পিসিকে পাগল করে তুলেছে – গোকুল।
  48. ‘মায়ের বাড়া তার এই মাসি পিসি’- এখানে ‘মায়ের বাড়া’ বলতে বোঝানো হয়েছে- মায়ের চেয়েও বেশি কিছু।
  49. ব্যঞ্জনে দেবার জন্য ঠিক সময়ে নুনের পাত্র এগিয়ে দেয়-পিসি।
  50. ‘পুরুষমানুষ তো যতই হোক, এটা করা উচিত নয়’- একথা বলা হবে না – জগুকে।
  51. বাইরে থেকে হাক আসে- কানাই চৌকিদারের।
  52. বাজারের তোলা নিয়ে মাসি পিসির সাথে ঝগড়া হয়- সরকার বাবুর।
  53. ‘বাজারের তোলা’ কথাটি দ্বারা বোঝানো হয়- বাজারের বিক্রেতাদের কাছ থেকে আদায়করা খাজনা।
  54. মাসি-পিসি বাইরে যায়- রসুই চালায় ঝাঁপ এঁটে।
  55. মাসি-পিসি গতকাল উপোস করেছে- শুক্লপক্ষের একাদশীর।
  56. ‘মাসি-পিসি’ গল্পে জ্যোৎস্না বেশ উজ্জ্বল বলা হয়েছে- দ্বাদশীর রাতে
  57. কানাইয়ের সাথে গোকুলের পেয়াদা এসেছিলেন – তিনজন।
  58. তিনজন পেয়াদার ভিতরে মাসি পিসি চিনতেন -২জনকে।
  59. অচেনা পেয়াদার মাথায় ছিল- লাল পাগড়ি।
  60. কানাই বলে, —-যেতে হবে একবার’ শূন্যস্থানে হবে-কাচারি বাড়ি।
  61. পথের পাশে কাঁঠাল গাছের ছায়ায় ঘুপটি মেরে ছিল -৩/৪ জন।
  62. সাধু বৈদ্য ওসমানেরা হচ্ছে – গ্রামের
  63. বৈদ্যের ফেটি-বাঁধা বাবরি চুলওয়ালা মাথায় পাতার ফাঁকে পড়েছে- জ্যোৎস্না।
  64. ‘কাপড়টা ছেড়ে আসি কানাই’- উক্তিটি – মাসির।
  65. ‘হাত ধুয়ে আসি, একদÐ লাগবে না’ উক্তিটি- পিসির।
  66. মাসি হাতে করে নিয়ে আসে- বঁটি।
  67. পিসি হাতে করে নিয়ে আসে- রামদার মতো মস্ত একটা কাটারি।
  68. ‘বঁটির এক কোপে গলা ফাঁক করে দেব’ কথাটি বলে- মাসি।
  69. ‘কাটারির কোপে গলা কাটি দু – একটার’ কথাটি বলে- পিসি।
  70. কানাই এবং পেয়াদা দ্বিধাভরে এগোয়- দু-পা।
  71. কানাই এবং পেয়াদারা সত্যিই খানিকটা ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে যায়- মাসি পিসির মধ্যে ভয়ের লেশটুকু না দেখে।
  72.  ‘প্রথমে শুরু করে মাসি, তারপর শুরু করে পিসি’- এখানে বোঝানো হয়েছে-গলা ছেড়ে ডাকাডাকির কথা।
  73.  ‘মাসি-পিসি’ গল্পটি প্রথম প্রকাশিত হয় -‘পূর্বাশা’ পত্রিকায় ১৩৫২ বঙ্গাব্দের চৈত্র সংখ্যায় (১৯৪৬ খ্রিস্টাব্দের মার্চ-এপ্রিল মাসে)।
  74. পরে ‘মাসি-পিসি’ গল্পটি সংকলিত হয় – ১৯৪৬ খ্রিস্টাব্দের অক্টোবর মাসে ‘পরিস্থিতি’ গল্পগ্রন্থে।
  75. ‘মাসি-পিসি’ গল্পটির বর্তমান পাঠ গ্রহণ করা হয়েছে- ‘ঐতিহ্য’ প্রকাশিত মানিক রচনাবলি’র ৫ম খন্ড থেকে।

চরিত্র লিপি:

মাসি, পিসি, আহ্লাদি, কৈলাস, জগু, রহমান, কানাই, চৌকিদার, দারোগাবাবু, পেয়াদা, গুন্ডা (সাধু, বৈদ্য ওসমানেরা) প্রতিশোধ, (বাবুঠাকুর, ঘোষ মশায়, জনদ্দিন, কানুর মা, বিপিন, বংশী)।

 উল্লেখ আছে:

পাখি-শকুন, পশু-ছাগল, বাঘ, গরু, বৃক্ষ-কাঁঠালগাছ, স্থান-কাছারি বাড়ি, যানবাহন-সালতি (ছোট নৌকা), রোগ-কলেরা, শস্য ও শাক সবজি-ধান, ডাল, ডাটা, শাকপাতা, কুমড়া, রং-সাদা, লাল।

প্রথম ও শেষ:

  • প্রথম লাইন : শেষ বেলায় খালে এখন পুরো ভাটা।
  • শেষ লাইন : যুদ্ধের আয়োজন করে তৈরি হয়ে থাকে মাসি-পিসি।

পাঠ বিশ্লেষণ :

⇒ “হাতে দুটো পয়সা এলে তোমারও স্বভাব বিগড়ে যায় কৈলেশ।”

আহ্লাদির বর জগুর সঙ্গে চায়ের দোকানে দেখা হয়েছিল কৈলাশের। চায়ের দোকান যে শুঁড়িখানা তা বুঝতে বাকি থাকে না মাসি পিসির। জগুর মতো কৈলাশেরও যে হাতে পয়সা এলে স্বভাবের পরিবর্তন হয়ে যায় সেই বিষয়টি বোঝাতে পিসি স্বভাব বিগড়ে যাওয়ার কথা বলে।

⇒ “ সে যাতে শুনতে পায় এমনি করেই বলে কৈলাশ।”

কৈলাশ গোপন খবরটা মাসি পিসিকে চুপে চুপে জানাতে চেয়েছিল। আহ্ণাদিকে দেখার পর সে হঠাৎ গলায় জোর পেয়ে গেল। আহ্ণাদি যাতে কথাবার্তা সব শুনতে পায় এমনি করেই বলে বৈশাখ। কারণ গোপন খবরটা আহ্ণাদি সম্পর্কেই।

⇒ “যুদ্ধের আয়োজন করে তৈরি হয়ে থাকে মাসি-পিসি।”

মারাত্মক ভঙ্গিতে বঁটি আর কাটারি উঁচু করে মাসি-পিসি হাঁকডাক আরম্ভ করে। পাড়ার লোকজন ছুটে আসে। চৌকিদার পেয়াদা একফাঁকে পালিয়ে যায়। তবুও ভয় থেকেই যায় মাসি-পিসির। কারণ সেবার মেয়েটাকে কুটুমবাড়ি সরিয়ে দেওয়ায় সোনাদের ঘরে আগুন দিয়েছিল মাঝরাতে। তাই কাথা কম্বল চুবিয়ে রাখে জলে, হাঁড়ি কলসি ভরে রাখে। যুদ্ধের আয়োজন করে মাসি-পিসি জেগে থাকে সারারাত।

⇒ “গলা কেটে রক্ত দিয়ে সে ধার শোধ করা যদি বা সম্ভব, অন্ন দেওয়ার ক্ষমতা কোথায় পাবে।

আহ্ণাদির বাবা বাবা বিধবা মাসি পিসির থাকার জায়গাটুকু দিলেও খাওয়াটা ছাঁটাই করে দিয়েছিল। বিধবা দুজনের অবস্থা তখন বাঁচে কি মরে। এর ওপর জগুর অত্যাচারে মরমর হয়ে আহ্ণাদি এসে হাজির হয়। মাসি পিসির সেবা যতেœই আহ্লাদি বেঁচে উঠেছিল। আহ্ণাদির বাবা মা সেটা স্বীকার করেছে, কিন্তু তার অন্নসংস্থানের ক্ষমতা তো নেই। এ অবস্থা প্রসঙ্গেই বলা হয়েছে- ‘গলা কেটে রক্ত দিয়ে সে ধার শোধ করা যদি বা সম্ভব, অন্ন দেওয়ার ক্ষমতা কোথায় পাবে?’

⇒ “তবু মুফতে যা পাওয়া যায় তাতেই জগুর প্রবল লোভ।”

শ্বশুরবাড়ির সম্পত্তির ওপর জগুর প্রবল লোভ। আহ্ণাদির বাবা-মা-ভাই কেউ বেঁচে নেই। কাজেই ঘরদোর, জমিজমা সবই তো আহ্ণাদি পাবে। এজন্যই জগু আহ্ণাদিকে বাড়ি নিতে চায়। অবশ্য জমি সামান্যই। তবু মুফতে বা মাগনা যাও পাওয়া যায় তা-ই লাভ বলে জগু মনে কর।

⇒ “সব বিরোধ সব পার্থক্য উড়ে গিয়ে দুজনের হয়ে গেল একমন, একপ্রাণ।”

মাসি-পিসির মধ্যে বিরোধ-ঝগড়া হতো মাঝে মাঝে। শাকসবজি বিক্রি করে বাঁচার চেষ্টায় যখন কোমর বেঁধে নেমে পড়ল, তখন থেকে তাদের মধ্যকার সব বিরোধ সব পার্থক্য উড়ে গেল। দুজনের তখন একটাই ভাবনা আহ্ণাদিকে খাইয়ে পরিয়ে যতেœ রাখা। এই সূত্রে দুজনের হয়ে গেল এক মন, এক প্রাণ। “তোমরা নাকি গণ করেছ মেয়া পাঠাবে না, তাতেই চটে আছে।” মাসি পিসির মন নরম করার জন্য কৈলাশ জগুর প্রশংসা করে বলে যে, জগু আর আগের জগু নেই, সে এখন বউকে বাড়ি নিতে চায়। মাসি পিসিকে সে আরও বলে যে, তারা মেয়ে শ্বশুরবাড়ি না পাঠানোর পণ্য করে আছে বলে জগু আরও রেগে আছে। এমনকি সে থানা পুলিশ করবে বলেও জানিয়ে দিয়েছে।

⇒ “তাই মাসি পিসির একটা অবজ্ঞা অবহেলার ভাব ছিল।”

সাধারণত বাপের বাড়ির কেউ হলে বাপের বাড়ির ওপর জোর খাটানোই রেওয়াজ। দুজনের বয়সে এক, অবস্থা এক, একঘরে বাস, সুখ দু:খের কথা বলা সবই ঠিক ছিল। কিন্তু কোন্দল বেধে গেলে পিসির অহংকার আরও বেড়ে যেত। পিসি এ বাড়ির মেয়ে, এটি তার বাপের বাড়ি। তাই মাসির ওপর পিসির একটা অবজ্ঞা অবহেলার ভাব ছিল, কারণ সে উড়ে এসে জুড়ে বসেছে।

অনুধাবনমূলক প্রশ্নোত্তর :

১। আহ্লাদিকে স্বামীর ঘর ছেড়ে চলে আসতে হয় কেন?

উত্তর : স্বামী জগুর পাশবিক অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়েই ঘর ছাড়তে বাধ্য হয় আহ্ণাদি। আহ্ণাদির বিয়ের পর কলেরায় আক্রান্ত হয়ে তার পিতা মাতা ও ভাই মারা যায়। ফলে তার জীবনে ভীষণ কষ্ট নেমে আসে। তাকে জগু কষ্ট দিত, নানাভাবে নির্যাতন করত।

তাকে সে কলকেপোড়া ছ্যাঁকা দিত, দিনভর রাতভর খুঁটির সঙ্গে বেঁধে রাখত। এসব কারণে নিরূপায় হয়ে আহ্ণাদিকে স্বামীর ঘর ছাড়তে হয়েছিল।

২। জগু মামলা করতে চাইল কেন?

উত্তর : জগু মামলা করতে চাইল আহ্ণাদিকে ফিরিয়ে নেওয়ার জন্য। আহ্ণাদি তার স্বামী জগুর ঘর ছেড়ে চলে এসে সে অনেকবার তাকে ফিরিয়ে নিতে আসে। তখন আহ্ণাদি যেতে চায় না। মাসি-পিসিও তাকে যেতে দেয় না। তাই জগু কৈলাশের মাধ্যমে স্পষ্ট জানিয়ে দেয় যে, সে বউকে নেওয়ার জন্য মামলা করবে।

৩। বাকি রাতটুকু মাসি-পিসি কীভাবে সতর্কতা অবলম্বন করে?

উত্তর : বাকি রাতটুকু মাসি-পিসি আহ্ণাদিকে না জাগিয়েই নিজেদের মধ্যে আলোচনা করে বিভিন্ন আহ্ণাদিকে না জাগিয়েই নিজেদের মধ্যে আলোচনা করে বিভিন্ন সতর্কতা অবলম্বন করে। মাসি-পিসি রাতের বেলা চুপিচুপি কথা বলে। মাসি সজাগ থাকার কথা বলে। পিসি কাঁথা কম্বল ভিজিয়ে রাখে যাতে আগুন থেকে রক্ষা পাওয়া যায়। হাঁড়ি- কলসে আরও জল এনে রাখে। বঁটি আর রামদা হাতের কাছেই রাখে। এভাবে যে কোন বিপদকে প্রতিহত করার সাহস আর মনোবল নিয়ে প্রস্তুত থাকে।

৪। “পেটে শুকিয়ে লাথি ঝাঁটা খেতে?” বলতে কী বোঝায়?

উত্তর : উক্তিটির মাধ্যমে আহ্ণাদির ওপর শ্বশুরবাড়ির লোকজনের অত্যাচারের বিষয়টিকে বোঝানো হয়েছে।

আহ্ণাদির স্বামীর বাড়ির মানুষগুলো মানুষরূপী পশু। তারা আহ্ণাদির ওপর পাশবিক অত্যাচার চালাত। সেখানে সে ঠিকমতো খেতে পায় না উপরন্তু লাথি-ঝাঁটার বাড়ি তো আছেই। কখনো কখনো স্বামীর কলকে পোড়ার ছ্যাঁকাও খেতে হয় তাকে। প্রশ্নোক্ত উক্তিতে এ বিষয়টিই বোঝানো হয়েছে।

৫। মাসির ওপর পিসির একটা অবজ্ঞার ভাব ছিল না কেন?

উত্তর : পিসির বাবার বাড়িতে এসে আশ্রয় নেওয়ার কারণে মাসির ওপর পিসির একটা অবজ্ঞার ভাব ছিল। আহ্ণাদির মায়ের বোন মাসি আর বাবার বোন পিসি দুজনেই আহ্ণাদির  বাবার বাড়ির মেয়ে অর্থাৎ এটা তার বাবার বাড়ি। আর মাসি আত্মীয়তার সূত্রে এ বাড়িতে আশ্রয় পেয়েছে। এ কারণে মাসির ওপর পিসির একটা অবজ্ঞার ভাব ছিল।

৬। মাসি ও পিসি কেন রাতে সজাগ থাকতে চায়?

উত্তর : রাতের আঁধারে শত্রæপক্ষ আক্রমণ করতে পারে এমন আশঙ্কায় মাসি-পিসি সজাগ থাকতে চায়। কানাই  ও তার সহযোগীরা তাদের কুমতলব চরিতার্থ করতে এলে মাসি-পিসি বঁটি ও কাটারি নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ে। তাদের হাঁকডাকে প্রতিবেশীরা জড়ো হয়। মাসি-পিসির তীব্র প্রতিবাদের মুখে কানাই ও তার লোকজন চলে গেলেও মাসি-পিসির আশঙ্কা তারা আবার ফিরে আসবে এবং অঘটন ঘটাবে। এ আশঙ্কার কারণেই মাসি-পিসি রাতে সজাগ থাকতে চায়।

৭। বুড়ো রহমানের চোখ ছলছল করে কেন?

উত্তর : মেয়ের কথা মনে হওয়ায় বুড়ো রহমানের চোখ ছলছল করে। আহ্ণাদির চেয়ে বয়সে ছোট মেয়েটাকে রহমান বিয়ে দিয়েছিল। অবুঝে মেয়েটা শ্বশুরবাড়ি না যাওয়ার জন্যে খুব কেঁদেছিল। কিন্তু তার ভালোর জন্যেই তাকে জোর জবরদস্তি করে শ্বশুরবাড়ি পাঠায় রহমান।

৮। মাসির প্রতি পিসির অবজ্ঞা অবহেলার ভাব ছিল কেন?

উত্তর : মাসি অন্য বাড়ির মেয়ে হয়েও এ বাড়িতে জুড়ে বসায় তার প্রতি পিসির অবজ্ঞা-অবহেলার ভাব ছিল। মাসি ও পিসির মধ্যে অনেক ভাব। তারা নিজেদের সুখ-দু:খের কথা ভাগাভাগি করে নেয়। কিন্তু তারপরও মাসির প্রতি পিসির কেমন যেন একটা অবজ্ঞার ভাব ছিল। কারণ মাসি অন্য বাড়ির মেয়ে আর পিসি এ বাড়ির মেয়ে। ফলে পিসির মধ্যে অহংকার কাজ করত, নানারকম খোঁচা দিত। অর্থাৎ অন্য বাড়ির মেয়ে হওয়ার কারণেই মাসির প্রতি পিসির অবজ্ঞা অবহেলার ভাব ছিল।

উদ্দীপকের বিষয় :

  • সন্তানদের অতুলনীয় দৃষ্টান্ত।
  • অন্যায়ের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ।
  • প্রতিবাদী নারী।
  • নারীর সাহসিকতা।
  • নারী নির্যাতন।
  • নারী নির্যাতন এবং এর বিরুদ্ধে প্রতিবাদ।
  • দরিদ্রতা ও দরিদ্র মানুষের হাহাকার।
  • জীবিকার সন্ধান এবং ন্যায্য দাবি আদায়।
  • নারীর সংগ্রামশীল জীবন ও অধিকার প্রতিষ্ঠা।
  • জীবনের উন্নতির জন্য আত্মবিশ্বাস ও অন্যের সহযোগিতা।
  • মানুষের প্রতি সহমর্মিতা দেখাতে জানে না এমন মানুষ।

সারকথা :

মানবতাবোধ ও মাতৃস্নেহ প্রদানসহ প্রতিকূল পরিস্থিতির বিরুদ্ধে লড়াই  করে একটি অসহায় মেয়েকে বাঁচাতে গল্পের মাসি-পিসি ও উদ্দীপকের বৃদ্ধা এক ও অভিন্ন বলে মনে হয়।

 

 নং বিষয় লেখক
আমার পথ কাজী নজরুল ইসলাম
বিড়াল বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
চাষার দুক্ষু বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত
সাম্যবাদী কাজী নজরুল ইসলাম
ঐকতান রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
বিভীষণের প্রতি মেঘনাদ মাইকেল মধূসুদন দত্ত
বায়ান্নর দিনগুলো শেখ মুজিবুর রহমান
অপরিচিতা রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
জীবন ও বৃক্ষ মোতাহের হোসেন চৌধুরী

See More

Like Our Facebook Page.

Spread the love

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *