কারক ও বিভক্তি বাংলা ব্যাকরণ

BCS, Bank, Ntrca, প্রাইমারি, মন্ত্রণালয়সহ সকল চাকুরির প্রস্তুতির জন্য। কারক  বিভক্তি বাংলা ব্যাকরণ আলোচনা শুরু।


কারক শব্দে অর্থ (কৃ+ণক), যা ক্রিয়া সম্পাদন করে। বাক্যে ক্রিয়া পদের সাথে অন্য পদের যে সম্বন্ধ তাকে কারক বলে।যেমন- রানা পড়ে।

এখানে ‘পড়ে’ পদটি একটি ক্রিয়াপদ। ‘রানা পড়ে’ বাক্যেটিতে ক্রিয়াপদ ‘পড়ে’ র এর সাথে অপর পদ ‘রানা’ এই বিশেষ্য পদের একটি সর্ম্পক্য রয়েছে বলে এটি একটি বাক্য। আর এই সর্ম্পক্যটিই কারক। ড. মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ বলেন, ক্রিয়ার সাথে যে পদের কোন অন্বয় থাকে তাকে কারক বলে। তিনি লিখেছেন, চারু তুমি তোমার বাগান থেকে একশ ভাল আম একটি লোক দিয়ে রকী’কে বর্ধমান পাঠিয়ে দিবে। এই বাক্যে

  • (১) ‘দিবে’ ক্রিয়াটি কে করবে? ‘চারু’
  • (২)  কি দিবে? ‘আম’
  • (৩)  কাকে দিয়ে দিবে? ‘লোক দিয়ে’
  • (৪) কাকে পাঠিয়ে দিবে? রকী’কে
  • (৫) কোথা থেকে দিবে? ‘বাগান থেকে’
  • (৬) কোথায় দিবে? ‘বর্ধমানে’। দিবে ক্রিয়ার সাথে ‘তুমি’, ‘আম’,‘লোক’, ‘রকী’, ‘বাগান’, ‘বর্ধমান’ এই ৬টি পদের এক এক রূপ অন্বয় বা সম্পর্ক রয়েছে। এজন্য এগুলোকে এক একটি কারক বলা হয়।

কারক মোট ৬ প্রকার:

  • ক. কর্তৃকারক
  • খ. কর্মকারক
  • গ. করণ কারক
  • ঘ. সম্প্রদান কারক
  • ঙ. অপাদান কারক
  • চ. অধিকরণ কারক

উপরিউক্ত উদাহরণে:

  1. তুমি-ক্রিয়ার সঙ্গে কর্তৃসম্বন্ধ=কর্তৃকারক
  2. আম-ক্রিয়ার সঙ্গে কর্মসম্বন্ধ=কর্মকারক
  3. লোক দিয়ে- ক্রিয়ার সঙ্গে করণ সম্বন্ধ=করণ কারক
  4. রকীকে ক্রিয়ার সঙ্গে সম্প্রদানসম্বন্ধ=সম্প্রদান কারক
  5. বাগান থেকে-ক্রিয়ার সঙ্গে অপাদানসম্বন্ধ=অপাদান কারক
  6. বর্তমানে- ক্রিয়ার সঙ্গে অধিকরণসম্বন্ধ=অধিকরণ কারক

কারক নির্ণয়ের সহজ নিয়মাবলী


1.কর্তৃকারক:

  • কে বা কারা দ্বারা প্রশ্ন করলে যে উত্তর পাওয়া যায় তাই কর্তৃকারক।
  • যেমন- লিলি ঘুমায়। এখানে প্রশ্ন করলে উত্তর পাওয়া যাবে যে কে ঘুমায় তাহলে উত্তর আসবে লিলি ঘুমায়।

2. কর্মকারক:

  • কী বা কাকে দ্বারা প্রশ্ন করলে যে উত্তর পাওয়া যায় তাকে কর্মকারক বলে।
  • যেমন- সে ভাত খায়। পুলিশে সংবাদ দাও।

3. করণ কারক:

কীসের দ্বারা প্রশ্ন করলে যে উত্তর পাওয়া যায় তাকে করণ কারক বলে। যেমন- শাক দিয়ে মাছ ঢেকো না।

বি:দ্র: অনেক সময় কর্মকারক এ করণ কারকের মধ্যে বিভ্রন্তি সৃষ্টি হয়। এক্ষেত্রে নিম্নে লিখিত নিয়মটি মেনে চলতে হবে।

  1. কাজটি কোন বস্তুর দ্বারা হয় কি না? উত্তর হ্যাঁ বোধক হলে তা করণ কারক। আর উত্তর না বোধক হলে তা কর্মকারক।
  2. এরমধ্যে মানুষের তৈরি নিয়ম আছে কি না? উত্তর হ্যাঁ বোধক হলে তা করণ কারক। আর উত্তর না বোধক হলে তা কর্মকারক।এবার কারক নির্ণয়ের জন্য দুটি উদাহরণ বেচে নেই।

১. ছেলেরা বল খেলে।  ২. ছেলেরা তাস খেলে।

  1. কাজটি কোন বস্তুর দ্বারা হয় কি না? হ্যাঁ। ফুটবল ও তাস দু’টিই বস্তু।
  2. এর মধ্যে মানুষের তৈরি নিয়ম আছে কি  না? হ্যাঁ আছে। সুতরাং এটি করণ কারক।

৪. সম্প্রদান কারক:

কী বা কাকে দ্বারা প্রশ্ন করলে যে উত্তর পাওয়া যায় এবং সেটি যদি নিঃস্বার্থত্যাগ হয় (অন্যথায় তা কর্মকারক) তাই সম্প্রদান কারক।

  • যেমন- ভিক্ষুককে ভিক্ষা দাও।
  • সৎপাত্রে কন্যা দান কর। (সম্প্রদানে সপ্তমী বিভক্তি)।

বি:দ্র:সম্প্রদান কারকে ২য় বিভক্তি হয় না।


৫. অপাদান কারক:

কোথা হতে দ্বারা প্রশ্ন করলে যে উত্তর পাওয়া যায় তাই অপাদান কারক। নিচে লিখিত বিভিন্ন ক্ষেত্রে অপাদান কারন প্রযোজ্য হবে।

  • ক. বস্তুর রূপান্তর ঘটলে অপাদান কারক।
  • যেমন- তিলে তৈল হয়।(অপাদানে ৭মী)
  • খ. যা থেকে উৎপান্ন হয় তাই অপাদান।
  • যেমন- লোকমুখে খবর পেলাম।(অপাদানে ৭মী)
  • গ. ভিতর থেকে বাইরে গেলে অপাদান কারক।
  • যেমন- স্কুল পালানো ভালো নয়।(অপাদানে শূন্য)
  • কিন্তু বাইরে থেকে ভিতরে গেলে অধিকরণ কারক।
  • যেমন- আমি ঢাকা যাব।
  • (অধিকরণ কারকে শূন্য বিভক্তি)
  • ১) দূরত্ববাচক: ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম খুব দূরে নয়। (অপা শূন্য)
  • ২) তারতম্যবাচক: রামের চেয়ে শ্যাম ভাল।(অপাদানে ৫মী)।
  • ৩) কালবাচক: পাঁচ দিন ধরে জ¦রে ভুগছি।(অপাদানে ৫মী)।
  • ৪) আধার:
  • স্বর্গ থেকে পুষ্প বর্ষিত হলো।(অপাদানে ৫মী)।
  • ৫) উৎপন্ন: দুধ থেকে ছানা হয়। মেঘ থেকে বৃষ্টি হয়।
  • ৬) ভীত: বাবাকে বড্ড ভয় পাই।
  • ৭) রক্ষিত: বিপদে মোরে রক্ষা কর, এ নহে মোর প্রার্থনা।
  • ৮) বিরত: পাপে বিরত হও।
  • ৯) পরাজিত: পরাজয়ে ডরে না বীর।
  • ১০) গৃহিত: বই থেকে পেয়েছি । পথে কাঁটাটা কুড়িয়ে পেয়েছি।
  • ১১) বঞ্চিত: কেন বঞ্চিত হবে চরণে।
  • ১২) চ্যুত: গাছ থেকে ফল পড়ে। মায়ের মুখে গল্পটি শুনেছি।
  • ১৩) পতিত: ছাদ থেকে পানি পড়ে।

৬.  অধিকরণ কারক:

কারক বিভক্তি বাংলা ব্যাকরণ: কখন কোথায় দ্বারা প্রশ্ন করলে যে উত্তর পাওয়া যায় তাকে অধিকরণ কারক বলে।

যেমন- শুক্রবার বিদ্যালয় বন্ধ থাকে।

বি:দ্র; স্থান / কাল / বিষয় বোঝালেও অধিকরণ কারক হয়।

যেমন- আকাশ মেঘে ঢাকা। ছেলেটি অংকে কাঁচা। যৌবনই উৎকৃষ্ট সময়।

বিভক্তি: বাক্যস্থিত একটি শব্দের সঙ্গে অন্য শব্দের অন্বয় বা সম্পর্ক সাধনের জন্য শব্দের সঙ্গে যে সকল বর্ণ যুক্ত হয় তাদেরকে বিভক্তি বলে।

যেমন- ছাদে বসে মা শিশুকে চাঁদ দেখাচ্ছেন।

বাক্যটিতে ছাদে (ছাদ+এ বিভক্তি) মা (মা+০ বিভক্তি), শিশুকে (শিশু+কে বিভক্তি) চাঁদ (চাঁদ+০ বিভক্তি) ইত্যাদি পদে বিভিন্ন বিভক্তি যুক্ত হয়েছে। বিভক্তিগুলো ক্রিয়াপদের সঙ্গে সাম্পাদকের সম্পর্ক স্থাপন করেছে।

বাংলায় বিভক্তি ৭ প্রকার:

১. প্রথমা    ২. দ্বিতীয়া    ৩. তৃতীয়া    ৪. চতুর্থী    ৫.পঞ্চমী     ৬. ষষ্ঠী       ৭. সপ্তমী

কিছু কিছু ক্ষেত্রে বিভক্তি কোন সুস্পষ্ট চিহ্ন দেখা যায় না। এখানে শূন্য বিভক্তি প্রযোজ্য হবে।

বাংলা শব্দ বিভক্তি

০ বা অ বিভক্তি, এ, (য়), তে, কে, রে ও (এরা) এ কয়েকটি খাঁটি বাংলা শব্দ বিভক্তি। এয়াড়া বিভক্তি স্তানীয় কয়েকটি অব্যয় শব্দর কারক সম্বন্ধ নির্ণয় জন্য বাংলায় প্রচলিত রয়েছে। যেমন- দ্বারা, দিয়ে, হতে, থেকে ইত্যাদি।

বিভক্তি সমূহ         একবচন                   বহুবচন (কারক বিভক্তি বাংলা ব্যাকরণ)

  1. প্রথমা         অ, শূন্য                      রা, এরা, গুলি, সমূহ,গণ, সকল
  2. দ্বিতীয়া       কে, রে                       দিগে, দিগকে, দিগেরে
  3. তৃতীয়া       দ্বারা, দিয়া, কর্তৃক       দিগ দ্বারা, দিগদিয়া, দিগ কর্তৃক
  4. চতুর্থী         কে, রে                       দিগে. দিগকে, দিগেরে
  5. পঞ্চমী        হইতে, থেকে, চেয়ে       দিগ হইতে, দিগ থেকে, দিগ চেয়ে
  6. ষষ্ঠী           র, এর                         দিগের, দের, গুলির, গণের
  7. সপ্তমী         এ, য়, তে                     দিগে, দিগেতে, গানে, গুলোর মধ্যে

বিভক্তি যোগের নিয়ম

  1. অপ্রাণী ও প্রাণীবাচক শব্দের বহুবচনে রা যুক্ত হয় না। গুলি, গুলা, গুলো যুক্ত হয়। যেমন- পাথরগুলি, গরুগুলো ইত্যাদি।
  2. অপ্রাণীবাচক শব্দের পর কে, রে বিভক্তি হয় না। শূন্য বিভক্তি হয়। যেমন- বই দাও।
  3. স্বরান্ত শব্দের পর ‘এ’ বিভকিক্ত রূপ হয়-য় বা য়ে এ স্থনে তে বিভক্তিও যুক্ত হয়। যেমন- মা+এ=মায়ে, ঘোড়া+এ=ঘোড়ায়, পানি+তে=পানিতে ইত্যাদি।
  4. অ-কারান্ত ও ব্যঞ্জনান্ত শব্দের পর প্রায়ই প্রথমায় ‘রা’ স্থলে এরা এবং ষষ্ঠী বিভক্তি ‘র’ স্থলে এর হয়।
  5. যেমন- লোক+রা=লোকেরা, বিদ্বান+রা=বিদ্বানেরা, লোক+এর=লোকের, কিন্তু অ-কারান্ত, আ-কারান্ত এবং এ-কারান্ত খাঁটি বাংলা শব্দের ষষ্ঠীর একবচনে সাধারণত ‘র’ যুক্ত হয় ‘এর’ যুক্ত হয় না।
  • যেমন- বড়র, মামার, ছেলের ইত্যাদি।

বিভ্রান্তিকর কিছু কারক নির্ণয়

  1. মিজান ফুটবল খেলে। করণে শূন্য।
  2. নাসিম তাস খেলে। করণে শূন্য।
  3. মারুফ সাঁতার কাটে। কর্মে শূন্য।
  4. মুস্তাফিজ ক্রিকেট খেলে। কর্মে শূন্য।
  5. খালেদা স্কুল পালালো। অপাদানে শূন্য।
  6. লোটাস স্কুলে গেলো। অধীকরণে সপ্তমী।
  7. গরীবকে কাপড় দাও। সম্প্রদানে চতুর্থী।
  8. ধোপাকে কাপড় দাও। কর্মে দ্বিতীয়া।
  9. মনি সুইডেন থেকে ভারতে এলেন। অপাদান+অধীকণে শূন্য।
  10. আমাকে যেতে হবে। কর্তৃকারকে ২য়া।
  11. আমি তোমাকে ঘৃণা করি। কর্মে ২য়া।
  12. ছাদে বৃষ্টি পড়ে। অধিকরণে ৭মী।

কর্তৃকারক

বাক্যস্থিত যে বিশেষ্য বা সর্বনাম পদ ক্রিয়া সম্পন্ন করে তা ক্রিয়ার কর্তা বা কর্তৃকারক।

কর্তৃকারকের প্রকারভেদ: (কারক বিভক্তি বাংলা ব্যাকরণ)

কর্তৃকারক বাক্যের ক্রিয়া সম্পাদনের বৈচিত্র বা বৈশিষ্ট্য অনুযায়ী ৪ প্রকার হয়ে থাকে।

১. মুখ্য কর্তা:

যে নিজে নিজেই ক্রিয়া সম্পাদন করে সে মুখ্য কর্তা।

যেমন- ছেলেরা ফুটবল খেলেছে। এখানে ছেলেরা মুখ্য কর্তা।

2. প্রযোজক কর্তা:

মূল কর্তা যখন অন্যকে কোন কাজ নিয়োজিত করে তা সম্পন্ন করায়, তখন তাকে প্রযোজক কর্তা বলে।

যেমন- শিক্ষক ছাত্রদের ব্যাকরণ পড়াচ্ছেন।

এখানে শিক্ষক প্রযোজক কর্তা।

3. প্রযোজ্য কর্তা:

মূল কর্তার করণীয় কার্য যাকে দিয়ে সম্পাদিত হয়, তাকে প্রযোজ্য কর্তা বলে।

যেমন- রাখাল গরুকে ঘাস খাওয়ায়। এখানে রাখাল প্রযোজক কর্তা আর গরুকে প্রযোজ্য কর্তা।

4. ব্যতিহার কর্তা:

কোন বাক্যে যে দুটো কর্তা একত্রে এক জাতীয় ক্রিয়া সম্পাদন করে, তাকে ব্যতিহার কর্তা বলে।

যেমন- বাঘে মহিষে এক ঘাটে জল খায়। রাজায় রাজায় লড়াই।

কর্তৃকারকের কতিপয় উদাহরণ

  1. পাখি সব করে রব। কর্তায় শূন্য/প্রথমা
  2. তার দ্বারা একাজ হবে না সাধন। কর্তায় ৩য়া।
  3. সকলকে একদিন মরতে হবে। কর্তায় ২য়া।
  4. পাছে লোকে কিছু বলে।কর্তায় ৭মী।
  5. মানুষ ভাবে এক হয় আরেক। কর্তায় শূন্য/১মা
  6. ঘোড়ায় ঘাস খায়। কর্তায় ৭মী।
  7. পাতা নড়ে। কর্তায় শূন্য/১মা।
  8. পণ্ডিতে মূর্খ হয় দুই বিবাহে। কর্তায় ৭মী।
  9. চণ্ডীদাসে কয় শোন পরিচয়। কর্তায় ৭মী।
  10. ১০.সর্বশিষ্যে জ্ঞান দেন গুরু মহাশয়। কর্তায় ১মা।

কর্মকারক

বাক্যে যাকে আশ্রয় করে কর্তা ক্রিয়া সম্পন্ন করে, তাকে কর্মকারক বলে। কর্ম দুই প্রকার। মুর্খ কর্ম বা বস্তুবাচক কর্ম। গৌণ কর্ম বা ব্যক্তিবাচক কর্ম।কর্মকারকে গৌণ কর্মে বিভক্তি যুক্ত হয়, মুর্খ কর্মে হয় না।কারক বিভক্তি বাংলা ব্যাকরণ।

কর্ম কারকের প্রকারভেদ

  • ক) সকর্মক ক্রিয়ার কর্ম: নাসিমা ফুল তুলছে।
  • খ) প্রযোজক ক্রিয়ার কর্ম: ছেলেটিকে বিছানায় শোয়াও।
  • গ) সমধাতুজ কর্ম: খুব এক ঘুম ঘুমিয়েছি।
  • ঘ) উদ্দেশ্য ও বিধেয় কর্ম: দ্বিকর্মক ক্রিয়ার দুটো পরস্পর অপেক্ষিত কর্মপদ থাকলে প্রধান কর্মটিকে বলা হয় উদ্দেশ্য কর্ম এবং অপেক্ষিত কর্মটিকে বলা হয় বিধেয় কর্ম।

যেমন- দুধকে (উদ্দেশ্য কর্ম) মোরা দুগ্ধ (বিধেয়) বলি, হলুদকে (উদ্দেশ্য কর্ম) হরিদ্রা (বিধেয় কর্ম)।

কর্মকারকের কতিপয় উদাহরণ

  1. ঝি কে মেরে বৌকে শেখাও। কর্মে ২য়া।
  2. জিজ্ঞাসিব জনে জনে। কর্মে ৭মী।
  3. অভিমানে আজ কেন ত্যাজিলো পরাণ। কর্মেশূন্য।
  4. ঈদের চাঁদ উঠেছে। কর্মে শূন্য।
  5. গুণহীন চিরদিন পরাধীন রয়। কর্মে শূন্য।
  6. আমি চিনি গো চিনি তোমারে। কর্মে ২য়া।
  7. বাজিল কাহার বীণা। কর্মে শূন্য।
  8. রবীন্দ্রনাথ পড়। কর্মে শূন্য।
  9. সোনা গলিয়া গয়না হয়। কর্মে শূন্য।
  10. সর্বাঙ্গে ব্যথা ঔষধ দিব কোথা। কর্মে শূন্য।
  11. শিশুগণ দেয় মন নিজ নিজ পাঠে। কর্মে শূন্য।
  12. মশা মারতে কামান দাগা। কর্মে শূন্য।

করণ কারক

করণ শব্দটির অর্থ যন্ত্র, সহায়ক বা উপায়। ক্রিয়া সম্পাদানের যস্ত্র, সহায়ক বা উপকরণকে করণ কারক বলে।

যেমন-  মিলি কলম দিয়ে লেখে জগতে কীর্তিমান হয় সাধনায়।

করণ কারকের কতিপয় উদাহরণ

  1. নতুন ধানে হবে নবান্ন। করণে ৭মী।
  2. শিকারী বিড়াল গোঁফে চেনা যায়। করণে ৭মী।
  3. তোসার পূণ্যেতে মাতা তরিব বিপদ। করণে ৭মী।
  4. করতে ধরাতল শিশিরে টলমল। করণে ৭মী।
  5. আমার সোনার ধানে গিয়াছে ভরি। করণে ৭মী।
  6. কালির দাগ সহজে ওঠেনা। করণে ৬ষ্ঠী।
  7. ব্যবহারে বংশের পরিচয়। করণে ৭মী।

সম্প্রদান কারক

যাকে স্বত্ব ত্যাগ করে দান, অর্চনা, সাহায্য ইত্যাদি করা হয়, তাকে সম্প্রদান কারক বলে যেমন- অন্ধকে ভিক্ষা দাও, মৃতজনে দেহ প্রাণ।

সম্প্রদান কারকের উদাহরণ

  1. সুখের লাগিয়া এ ঘর বাধিনু। সম্প্রদানে ৬ষ্ঠী।
  2. জলকে চল। সম্প্রদানে ৪র্থী।
  3. মৃতজনকে প্রাণ দাও। সম্প্রদানে ৪র্থী।
  4. গর্বশিষ্যে জ্ঞান দেন গুরু মহাশয়। সম্প্রদানে ৭মী।
  5. তোমায় কেন দেইনি আমার সকল শূন্য করে। সম্প্রদানে ৭মী।
  6. সকল কর্মফল ভগবানে অর্পণ করেন। সম্প্রদানে ৭মী।
  7. দেবতার ধন কে যায় ফিরায়ে লয়ে। সম্প্রদানে ৬ষ্ঠী।

অপাদান কারক

যা থেকে কিছু বিচ্যুত, গৃহীত, জাত, বিরত, আরম্ভ, দূরীভূত ও রক্ষিত হয় এবং যা দেখে কেউ ভীত হয় তাকে অপাদান কারক বলে।যেমন- গাছ থেকে পাতা পড়ে। বাঘকে ভয় পায় কে।কারক বিভক্তি বাংলা ব্যাকরণ।

অপাদান কারকের কতিপয় উদাহরণ

  1. লোভে পাপ, পাপে মৃত্যু। অপাদানে ৭মী।
  2. ট্রেন ঢাকা ছাড়ল। অপাদানে শূন্য।
  3. ধর্ম হতে বিচলিত হতে নেই। অপাদানে ৫মী।
  4. কারলাম পণ, শ্রীবৃন্দাবন আসব ঘুরে। অপাদানে শূন্য।
  5. এ মেঘে বৃষ্টি হয় না। অপাদানে ৭মী।
  6. হিমালয় হতে গঙ্গা প্রভাবিত। অপাদানে ৫মী।
  7. স্বর্গে জন্ম মাতৃভূমি। অপাদানে ৭মী।

অধিকরণ কারক

ক্রিয়া সম্পাদানের কাল এবং আধারকে অধিকরণ কারক বলে। অধিকরণ কারক তিন প্রকার।

  1. কালাধিকরণ
  2. আধারাধিকরণ
  3. ভাবাধিকরণ

ক) কালাধিকরণ:

ক্রিয়া সম্পাদনের কার/ সময়কে কালাধিকরণ বলে।

যেমন- বসন্তে ফুল ফোটে। সকালে সূর্য ওঠে। এখানে বসন্তে এবং সকালে শব্দ দুটি কাল বা সময় নির্দেশ করেছে।

খ) আধারাধিকরণ:

ক্রিয়া সস্পাদানের স্থান বা আধারকে আধারাধিকরণ বলে।

যেমন- তুমি এই পথে যেয়ো। আমি বিশ্ববিদ্যালয় যাই।

গ) ভাবাধিকরণ:

যদি কোন ক্রিয়াবাচক বিশেষ্য অন্য ক্রিয়ার কোনরূপ ভাবের অভিব্যক্তি প্রকাশ করে, তবে তাকে ভাবাধিকরণ বলে। ভাবাধিকরণে সর্বদাই সপ্তমী বিভক্তির প্রয়োগ হয় বলে একে ভাবে সপ্তমী বলা হয়।

যেমন- সূর্যোদয়ে অন্ধকার দূরীভূত হয়। কাঁন্নায় শোক মন্দীভূত হয়।

  1.  অধিকরণের কতিপয় উদাহরণ
  2. বাড়ি থেকে আযান শোনা যায়
  3. ঘরেতে ভোমর এলো গুণগুনিয়ে
  4. অতি বড় বৃদ্ধপতি সিদ্ধিতে নিপুণ
  5. ১১ ই সেপ্টেম্বর টুইন টাওয়ারে হামলা হয়।
  6. পাতায় পাতায় পরে নিশির শিশির
  7. সৌন্দর্যে কার না রুচি।
  8. বৃষ্টি এল টাপুর টুপুর নদেয় এল বান।

গুরুত্বপূর্ণ কিছু কারক এবং তাদের সমাধান

  1. অতি বড় বৃদ্ধপটি সিদ্ধিতে নিপুণ। (অধিকরনে ৭মী)
  2. অন্ধজনে দেহ আলো। (সম্প্রদানে ৭মী)।
  3. অর্থ অনার্থ ঘটায়। (কর্মে শূন্য)।
  4. অল্প শোকে কাতর, অধিক শোকে পাথরকরণে ৭মী
  5. আমার সোনার ধানে গিয়াছে ভরি। (করণে ৭মী)।
  6. আমাকে যেতে হবে। (কর্তায় ২য়া)।
  7. আকাশ মেঘে ঢাকা। (অধিকরনে শূন্য)।
  8. আমাকে তুমি অশেষ করেছ। (কর্মে ২য়া)।
  9. আমারে তুমি করিবে ত্রাণ, এ নহে মোর প্রার্থনা। (কর্মে ২য়া)।
  10. আমায় একটু আশ্রয় দিন। (সম্প্রদানে ৭মী)।
  11. আমি প্রতিদিন এক ক্রোশ হাঁটিয়া থাকি। (কর্মে শূন্য)
  12. যখন পড়বে না মোর পায়ের চিহ্ন। (করণে ৬ষ্ঠী)।
  13. আমার খাওয়া হলো না। (কর্তৃকারকে ৬ষ্ঠী)।
  14. আমি আর বাড়ি ফিরে যাব না। (অধিকরনে শূন্য)।
  15. এমন দিনে বাইরে যেও না। (অধিকরনে ৭মী)।
  16. এ বছর ভাল পাঠ ফলেছে। (অধিকরনে শূন্য)।
  17. কথায় কথা বাড়ে। (করণে ৭মী)।
  18. কাঁচের জিনিস সহজে ভাঙ্গে। (করণে ৬ষ্ঠী)।
  19. কি ভয় মরণে রণে? (অপাদানে ৭মী)।
  20. কালির দাগ সহজে  উঠে না। (করণে ৬ষ্ঠী)।
  21. কত ধানে কত চাল, সে আমি জানি। (অপাদানে ৭মী)।
  22. কে তোরে সাজালো দিয়ে পত্র পুষ্প ফল। (কর্মে ২য়া)।
  23. কষ্ট না করলে কেষ্ট মিলে না। (কর্মে শূন্য)।
  24. খুব ঠকা ঠকিয়াছি। ( কর্মে শূন্য)।
  25. গরীব লোকেরা শহরে এসেছে। ( কর্তৃকারকে শূন্য)।
  26. গাঁয়ে মানে না আপনি মোড়ল। (কর্তৃকারকে ৭মী)।
  27. গত রাতে পাশের বাড়িতে চুরি হয়েছে। (অধিকরণে ৭মী)।
  28. নরকে যাও। (অধিকরণে ২য়া)।
  29. চাহি না করিতে বাদ প্রতিবাদ। (কর্মে শূন্য)।
  30. চোরের ভয়ে ঘুম আসে না। (অপাদানে ৬ষ্ঠী)।
  31. চোখ দিয়ে পানি পরিতেছে। (অপাদানে ৩য়া)।
  32. ছেলেদের বল দিয়েছি। (কর্মে ২য়া)।
  33. ছোট মুখে বড় কথা মানায় না।(অপাদানে ৭মী)
  34. ছেলেটি অঙ্কে কাঁচা। (অধিকরণে ৭মী)।
  35. ছাগলে কি না খায়। (কর্তৃকারকে ৭মী)।

কারক ও বিভক্তি বাংলা ব্যাকরণ পেজটি ভালো লাগলে লাইক করুন এবং বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন

Spread the love

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *